চাঁদাবাজি নিয়ে তৃণমূলে বিএনপির কঠোরবার্তা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
চাঁদাবাজি নিয়ে তৃণমূলে বিএনপির কঠোরবার্তা
বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অস্থির হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ। এ থেকে মানুষ নিস্তার চায়। সরকারি বা প্রশাসনিক মদদ কিংবা রাজনৈতিক সংঘশক্তির ছত্রছায়া ছাড়া চাঁদাবাজি সম্ভব নয়। আওয়ামী শাসনামলে শাসক দল, সরকার ও প্রশাসনের মিলিত মদদে ক্ষমতাসীনদের অনুগ্রহভাজনেরা চাঁদাবাজি চালিয়েছে। এখন সরকারি ও প্রশাসনিক মদদ ক্ষীণ হয়ে এলেও রাজনৈতিক ছত্রছায়াকে ব্যবহার করে দুর্বার গতিতে প্রায় সবখানে চলছে চাঁদাবাজি।
রাজনৈতিক দলগুলো চাঁদাবাজির অভিযোগের ব্যাপারে এ ওর ওপর দোষ চাপিয়ে চাপান-উতোর করলেও এই অপরাধের জন্য প্রায় সকল দলই কমবেশি দায়ী। প্রথমেই আসে বর্তমানের সবচে বড় দল বিএনপির কথা। বিএনপির প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আওয়ামী লীগ যা করেছে জনগণ বিএনপির নেতাকর্মীদের থেকে তা প্রত্যাশা করে না। কিন্তু গুটিকয়েক সুবিধাবাদী বিপথগামীর দখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ নানা ধরনের অপকর্মের অভিযোগ বিএনপির ঘাড়ে জোরালোভাবে চেপে ধরেছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির একশ্রেণির নেতাকর্মী চাঁদা দাবি ও দখলসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা, দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া সত্ত্বেও কোনোকিছুতেই থামানো যাচ্ছে না দলের একশ্রেণির বেপরোয়া নেতাকর্মীকে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের হুঁশিয়ারি ও সাংগঠনিক বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে দল ও অঙ্গ সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর অপকর্ম অব্যাহত রয়েছে।
এসব কারণে সারা দেশে সমালোচনা, জনমনে ক্ষোভ ও হতাশার কারণে প্রচণ্ড চাপে পড়েছে বিএনপি। এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরে চিহ্নিত চাঁদাবাজদের তালিকা প্রস্তুত, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। তবে শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে এখনো পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো দৃশ্যমান অভিযানের দেখা না মেলায় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী মহল এবং সচেতন নাগরিকদের মধ্যে প্রশ্ন ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
তা ছাড়া গত বৃহস্পতিবার মৌমিতা পরিবহনের শ্রমিকরা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, সদস্য মাহবুবউল্লাহ তপন এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিরা সরদারের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন মৌমিতা পরিবহনের নারায়ণগঞ্জ রুটের পরিচালক রফিজ উদ্দিন কালা। এখনো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি কেন্দ্র কিন্তু দ্রুত নিবে বলে আশাবাদী স্থানীয়রা।
এ ছাড়া ও এ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ফুটপাত দখল, মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টারসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে এমন নানান অভিযোগ কেন্দ্রে রয়েছে যাকে ঘিরে দ্রুতই অভিযানের শঙ্কা শুরু হয়েছে। বর্তমানে বিএনপিতে আরো বাড়ছে চাঁদাবাজির শঙ্কা। তা ছাড়া আরো অনেকেই নানাভাবে চঁদাবাজিতেযুক্ত যা প্রকাশে আসছে দ্রুতই। এদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরেই ১২টি স্পটে দৈনিক প্রায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা। শহরের সবচেয়ে বেশি চাঁদা তোলা হয় চাষাঢ়া গোল চত্বর থেকে।
এমনভাবে শহর জুড়ে একাধিক স্পট রয়েছে যেখানে বিভিন্ন নেতার শেল্টারে নিয়মিত সপ্তাহে চাঁদাবাজি হচ্ছে। যাদের অত্যাচারে অতিষ্ট নগরী। মাদক, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ভূমিদস্যুতা, পরিবহন খাত, হাট-বাজার, মাঠ-ঘাট সবই বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে যাচ্ছে বিভিন্ন্ চাঁদাবাজের। বর্তমানে চিহ্নিত একাধিক চাঁদাবাজ বর্তমানে লেবাস ধরে দলীয় দেখানো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে নিজেদের ত্যাগী দাবি করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এবার আগের তুলনায় বেশি সতর্কতার সঙ্গে তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে ভুলবশত তালিকাভুক্ত না হন, সেজন্য প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজদের পেছনে থাকা নেটওয়ার্ক, অর্থের উৎস এবং সহযোগীদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ কারণেই অভিযান শুরু করতে কিছুটা সময় লাগছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


