কোন্দল ছাড়া প্রার্থী দেয়া বিএনপির চ্যালেঞ্জ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
কোন্দল ছাড়া প্রার্থী দেয়া বিএনপির চ্যালেঞ্জ
চেইন অব কমান্ডের দুর্বলতায় বর্তমানে বিএনপিতে সবাই নেতা। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়, যাকে ঘিরে বাড়ছে অভ্যন্তরীন কোন্দল। ত্রয়োদশ নির্বাচনকে ঘিরে নিজি দলীয় বিদ্রোহ প্রার্থী বিতর্কে পরেছিলেন বিএনপি। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের গুঞ্জনে সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন চাইছেন বিএনপির একাধিক প্রার্থী। যাকে কেন্দ্র করে ফের মনোনয়ন না পেলে বিদ্রোহ করবে অনেকেই এমন আওয়াজ উড়ছে।
জানা গেছে, ইতিমধ্যে জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা পুনর্গঠনে সিটি করপোরেশন নির্বাচন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আসন্ন সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের পর থেকে ধাপে ধাপে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন শুরু হবে যেই তালিকায় নারায়ণগঞ্জও রয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন নিয়ে মাঠে ইতোমধ্যে আলোচনা উঠিয়ে ছিলেন খেলাফত মজলিস। তাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুনকেই নাসিকের নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ঘোষনা করেছেন।
অন্যদিকে বর্তমান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নাসিকের মেয়র প্রার্থী হিসেবে মহানগরীর আমীর আব্দুর জব্বারকে ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় দলের আমীর ড. শফিকুর রহমান। তা ছাড়া এককভাবে নির্বাচনে নামছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তারা ঘোষণা না করলে ও গুঞ্জন রয়েছে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক শওকত আলীকেই প্রার্থী করা হতে পারে। যার ফলে তিন দলের প্রার্থীদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে বিএনপি কাকে মনোনয়ন দিবে এখনই প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এ বিষয়ে বিএনপির হাইকমান্ডের কোন ধরনের তৎপরতা দেখা যায়নি। তবে বিএনপির মনোনয়ন বাগাতে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী ইতোমধ্যে হাইকমান্ডের কাছে যেমন ধর্না দিচ্ছেন তেমনি নানা ধরনের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
যাকে ঘিরে এবার কোন্দল ও বিদ্রোহ ছাড়াই বিএনপি প্রার্থী যাচাইয়ে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। এদিকে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। এরই মাঝে নির্বাচনের ঘোষণা না দিলে ও নির্বাচনের আগেই নতুন মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। তার মুক্তিতে ঘোলাটে আকারে রূপ নিয়ে নগরীর রাজনীতি, সকলেই নিশ্চুপ ভূমিকা পালন শুরু করেছেন। যাকে ঘিরে এবারের সিটি নির্বাচন চ্যালেঞ্জের রূপে দেখছেন স্থানীয়রা। সকলেই বলছেন, এবার যারা নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন সকলেই পরিচিতি মুখ।
তা ছাড়া বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী না থাকায় মনোনয়ন চাইছেন বর্তমান প্রশাসক সাখাওয়াত, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান মাসুদ। এদিকে বিএনপি সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা না দেওয়ায় বিপাকে বিএনপি কর্মীরা। বিগত জাতীয় নির্বাচনে তিনবার বিএনপি প্রার্থী পরিবর্তন নিয়ে যে নাটকীয়তা হয়েছে তা এবার চায় না বিএনপি। এদিকে বর্তমানে ক্ষমতায় থাকায় নির্বাচনের তফসিলের আগেই প্রার্থী চায় বিএনপি। নাসিকের আওতাধীন বর্তমানের ২৭টি ওয়ার্ডে এবার প্যানেল তৈরি করছেন জামায়াত, খেলাফত মজলিস, এনসিপি। পাশাপাশি আগে থেকেই আভাস পেয়ে বিদ্রোহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে ১৯ জুন জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর কর্মী সম্মেলনে হঠাৎ করে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আব্দুর জব্বারের হাত তুলে পরিচয় করিয়ে দেন কেন্দ্রীয় আমীর ও বিরোধী দলের প্রধান ড. শফিকুর রহমান। তার এমন বার্তা ইতোমধ্যে জামায়াতে তৃনমূলে পৌছে দিলেন কেন্দ্রীয় নেতা। ছোট থেকে ছাত্রশিবির থেকে মহানগরীর আমীর হওয়া নিয়ে জব্বারের প্রশংসা করেন দলের প্রধান। ভদ্র একজন নেতাকে তৃনমূলের কাছে তুলে দিয়ে বলেছেন, অনেকে প্রার্থী ঘোষনা করেছে আরো অনেকে করবে। গত বছর ৯ মে নিজ পির্তৃক বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে ১৩ মাস কারাগারে ছিলেন আওয়ামীলীগের নেত্রী ও নাসিকের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
তিনি গত ৩ জুন জামিনে মুক্তি পেয়ে আবার পিতার বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন। ইতোমধ্যে তার গতিবিধি জন্য বাড়ির সামনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। একাধিক সূত্রে আইভী এখনো নির্বাচন না করার বার্তা দিচ্ছে। কিন্তু নাসিক নির্বাচনে তফসিলের পর থেকে আইভীকে মাঠে নামাতে চাইবেন সমর্থকরা। এদিকে একক ভাবে মনোনয়ন দিয়েছে ১১ দলীয় জোটের দল খেলাফত মজলিস। তারা নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের এমপি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা এবিএম সিরাজুল মামুনকে সিটি নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েছে। গত ১৭ জুন সন্ধ্যায় খেলাফত মজলিসের নারায়ণগঞ্জ মহানগর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা ও মহানগর নির্বাহী কমিটির এক যৌথ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সেদিনের বৈঠকে নেতৃবৃন্দ বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটির সামগ্রিক উন্নয়ন, নগরবাসীর অধিকার রক্ষা এবং একটি ইনসাফভিত্তিক নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে খেলাফত মজলিস গতবারের মতো এবারও দলীয়ভাবে আসন্ন নাসিক নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবে। জেলা ও মহানগর শাখার যৌথ বৈঠকে স্থানীয়ভাবে মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুনের নাম কেন্দ্রে পৌঁছানো হয়েছে। শিগগিরই চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে। এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে সৃষ্ট রাজনৈতিক দল এনসিপি সিটি নির্বাচনে একক প্রার্থী দেয়ার চিন্তা করছে।
সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন এনসিপির মহানগর আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় সংগঠক শওকত আলী এবং দলটির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আলী আহসান জোনায়েদ। সম্ভাব্যভাবে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিয়ে সময়সূচি নির্ধারণ করা হতে পারে। এরপর পর্যায়ক্রমে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় শহরের নির্বাচন আগে হলে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরবর্তী ধাপের নির্বাচনগুলো তুলনামূলকভাবে সহজ হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে গণতান্ত্রিক চর্চা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জনপ্রতিনিধি না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এদিকে দিন যতই যাচ্ছে ততই চ্যালেঞ্জের দিকে যাচ্ছে বিএনপির সিটি নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই।


