নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে ২ দিন যাবৎ মাঠে শক্ত অবস্থানে ছিলেন বিএনপি নেতারা। সদর-বন্দরের প্রতিটি স্থানে ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে তাদের। এখনই মাঠ না ছেড়ে আরো দুইদিন মাঠে থাকা প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নেতাকর্মীরা। গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত দেখা গেছে।
জেলার বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর ছয়টি ইউনিট টহল দিয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ ও র্যাবের চেকপোস্ট বসানো হয়েছিলো। কিন্তু বিএনপির আলোচিত ৬ নেতা আওয়ামী লীগের ঠেকাতে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। সারাদিন শহরে পুলিশ, বিজিবিসহ সেনাবাহিনীর কঠোর নজরদারির পাশাপাশি এই বিএনপি নেতারা আলাদা রূপে ব্যাপক নজরদারি রেখেছিলেন তারা হলেন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব,
মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজা রিপন, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খান। এদের শক্ত অবস্থানে নারায়ণগঞ্জে ঢুকতে সাহস পায়নি আওয়ামী লীগ নেতারা। তা ছাড়া মাঠে ও সাহস দেখিয়ে নামতে পারেনি।
এদিকে গত (২২ জুন) দুপুর থেকেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে মাঠে রয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। তা ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাশকতা অরাজকতা করার হুঙ্কার দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপির ওই ৬ নেতার অবস্থানে শহর শূন্য আওয়ামী লীগ। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের ব্যানারে একাধিক ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হলেও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।
এদিকে আওয়ামী লীগের নাশকতা প্রতিরোধে শহর জুড়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের নির্দেশনায় সদর-বন্দরে একাধিক ভূমিকা পালন করেছেন বিএনপি নেতারা। তা ছাড়া গত ২২ জুন সন্ধ্যার পর টানা ২ থেকে ৩ ঘন্টা শহরে অলিগলি ঘুরে ঘুরে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়েছিলেন এই সাখাওয়াত। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীবের নেতৃত্বে শহরে শক্ত অবস্থানে ছিলেন বিএনপি। মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজা রিপনের নেতৃত্বে শহরে সকাল-সন্ধ্যা মহানগর বিএনপির ব্যানারে মিছিল লক্ষ্য করা গেছে।
তা ছাড়া বন্দরে এমপি পুত্র মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশার নেতৃত্বে প্রতিটি ওয়ার্ড-ইউনিয়নে শোডাউন, মটরহোন্ডা শোডাউনসহ বিভিন্নস্থানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। তা ছাড়া মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজলের নেতৃত্বে শহরে একাধিক স্পটে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিলেন যুবদল। জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানের নেতৃত্বে শহরে অবস্থান কর্মসূচি এবং হুন্ডা শোডাউন লক্ষ্য করা গেছে।তা ছাড়া আগামী ২৮ জুন পর্যন্ত শক্ত অবস্থানে মাঠে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির এই নেতাকর্মীরা। একই সাথে প্রতিটি থানা, ইউনিয়নে শক্ত অবস্থানে ছিলেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা। এদের কঠোরতাই শহরতলী থেকে উধাও আওয়ামী লীগ।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ বা তাদের সহযোগী সংগঠনের কেউ যদি নিষিদ্ধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করতে হবে এবং আইন অনুযায়ী দোষীদের সাজা ভোগ করতে হবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ৫ আগস্টের জুলাই বিপ্লবকে অগ্রাহ্য করে পুনরায় রাজনৈতিক কার্যক্রম বিস্তারের চেষ্টা করছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে তারা রাষ্ট্র ও আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। দেশের জনগণ এ ধরনের কর্মকাণ্ড মেনে নেবে না।
তিনি আরো বলেন, “আওয়ামী লীগ যদি রাজনীতি করতে চায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় তারা রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। আইন লঙ্ঘন করে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ নেই।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে। যারা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করবে, জনগণ তাদের রাজপথেই জবাব দেবে। আমরা রাজপথে শক্ত হাতে রয়েছি।
মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ সংগঠন তাদের ঠেকানোর দায়িত্ব প্রশাসনের কিন্তু আমরা মাঠে রয়েছে নারায়ণগঞ্জবাসীকে নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যেন কোন প্রকারের নাশকতা করতে না পারে আমরা প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছি। বর্তমানে বন্দরের প্রতিটি ওয়ার্ড-ইউনিয়নে নেতাকর্মীরা অবস্থান করছেন। আমার ও গাড়ি-বহর নিয়ে বন্দরবাসীর নিরাপত্তায় কাজ করছি। নারায়ণগঞ্জ আমরা মহানগর বিএনপি হেলমেট বাহিনীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ।
মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজা রিপন বলেন, যদি আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা নারায়ণগঞ্জের জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নষ্ট করে, কোনো অরাজকতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়, তাহলে আমরা তাদের ছাড় দেব না। গত পরশু থেকে আমরা তাদের পাহারা দিচ্ছি। আগামী ২৬ তারিখ রাত পর্যন্ত এই পাহারা চলবে। যেখানেই সন্ত্রাসীদের পাওয়া যাবে, সেখানেই তাদের ধরে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।