Logo
Logo
×

রাজনীতি

বিকারগ্রস্তু টিপুর চাঁদাবাজির তদন্ত চায় যুবদল-এনসিপি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

বিকারগ্রস্তু টিপুর চাঁদাবাজির  তদন্ত চায় যুবদল-এনসিপি

বিকারগ্রস্তু টিপুর চাঁদাবাজির তদন্ত চায় যুবদল-এনসিপি

Swapno



একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে হুলস্থুল কাণ্ড বাধাচ্ছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড.আবু আল ইউসুফ খান টিপু। ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর থেকে মামলা বাণিজ্য, নিজ দলের নেতাকর্মীদের মারধর, ফুটপাতে চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ টিপুর বিরুদ্ধে। সর্বশেষ মৌমিতা পরিবহন থেকে মাসে ৯০ হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এনিয়ে ক্ষিপ্ত যুবদল, এনসিপিসহ বিভিন্ন দলের কর্মীরা। তারা টিপুর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের তদন্ত দাবি করেছেন।


টিপুর কঠোর সমালোচনা করেছেন মহানগর যুবদল নেতা সাহেদ আহম্মেদ। তিনি বলেন, টিপু ভাই একটা আপদ মানসিক বিকারগ্রস্ত টিপু ব্যক্তি, কখন কাকে কি বলে সেটা বুঝতে পারা বড় দায়। সে এটা তার প্রধান অস্ত্র মনে করেই মানুষের ইজ্জৎ নিয়া অহেতুক মিথ্যা অনবরত ব্লেম আর বাজে ভাষায় কটুক্তি আর সোস্যাল মিডিয়ায় স্ট্যাটাস দেয় অনবরত। একটা সুস্থ মানুষ যে কি না মহানগর বিএনপির দায়িত্বে তার মতো মানুষের এভাবে সোস্যাল মিডিয়ায় স্ট্যাটাস সেটাও আমাকে নিয়া কি কোন ভাবে কাম্য। পুরো বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা-মহানগরের দায়িত্বশীল কোন নেতার ফেসবুকে কয়দিন পর পর এরকম উদ্ভট আচরণ আজ অব্দি দেখা যায়নি।’


মহানগর যুবদলের সদস্য ও সদর থানা যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী শাহীন শরীফ বলেন, শাহেদ আহম্মেদকে ঘিরে আবু আল ইউসুফ খান টিপু যে বক্তব্যে দিয়েছেন আমরা এটার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।


তিনি বলেন, কিছুদিন পূর্বে আমাদের নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত সাহেব টিপু সাহেবকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন তুমি তো আওয়ামী লীগের লোক নিয়ে ঘুরো! এখন এই টিপু সাহেব নিজেদের পিঠ বাঁচাতে আওয়ামী লীগের ট্যাগ অন্যজনকে দিতে চাইছেন। বর্তমানে এই টিপু সাহেব প্রশ্নবিদ্ধ।


মহানগর যুবদল নেতা ফয়সাল বলেন, আবু আল ইউসুফ খান টিপু একজন মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী। মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব শাহেদ আহম্মেদ তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে কিছু বলার নেই। বিগত সরকারের আমলে ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এই শাহেদ আহম্মেদ।


তিনি বলেন, মহানগর বিএনপির টিপু একজন ভারসাম্যহীন রোগী। তিনি কিছুদিন পরপরই বিভিন্নলোকদের ফ্যাসিবাদের ট্যাগ দেয়, আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে ট্যাগ দেয়। জামায়াত যেমন জান্নাতের টিকেট বিক্রি করে আর এই বিএনপি নেতা টিপু ট্যাগ বিক্রি করে। এই ভারসাম্য রোগী টিপু নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি অস্থিশীল করে তুলেছেন তার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তার পুরনো আমলনামা দেখা হোক তিনি কোন আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।


সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বর্তমান যুবদল নেতা কাদির বলেন, টিপু সাহেব আমাদের রাজনৈতিক অভিবাবক হলে ও উনি মেন্টাল টাইপের লোক। কিছুদিন আগে সাখাওয়াত সাহেব বলেছিলেন টিপু সাহেব আপনি ও আওয়ামী লীগের পরিবারের সাথে সংযুক্ত ছিলেন। কিন্তু উনি এখন অন্যাকে আওয়ামী লীগের লোক হিসেবে আখ্যা দেয় তা মানসিক রোগের লক্ষন। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা দরকার।


এদিকে এনসিপি নেতারাও বিএনপির এই নেতার চাঁদাবাজির তদন্ত দাবি করেছেন।  জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির সদস্য সচিব জুবায়ের হোসেন তানজিদ বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে গণপরিবহনের চাঁদা অনেকেই তুলে থাকে। এদিকে আমরা আজকে বিভিন্ন্ পত্র-পত্রিকায় দেখলাম নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ কান টিপু সাহেবের বিরুদ্ধে ‘মৌমিতা পরিবহন’ থেকে মাসে ৯০ হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে। অভিযোগটি যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে জনগণের সামনে তাকে জবাবদিহিতায় আনা উচিত। তা ছাড়া তার দল থেকে কঠোর পদক্ষেপ এ বিষয়ে নেক এমনটাই দাবি জানাই।’


নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব জুলফিকার হায়দার বিপ্লব বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আসছে। জনগণের স্বার্থ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার পরিবর্তে প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি এবং নানা অভিযোগের রাজনীতি বারবার জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে কেন্দ্র করে আবারও নানা আলোচনা ও সমালোচনা সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি, পরিবহন নৈরাজ্য, সাংবাদিক ও আইনজিবীদের উপর আক্রমন,  মাদক সংশ্লিষ্টতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো অভিযোগ জনপরিসরে আলোচিত হয়ে আসছে।’



তিনি বলেন, ‘যদি এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন হয়ে থাকে, তবে জনগণের সামনে তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা আসা উচিত। আর যদি অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি থাকে, তবে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। রাজনৈতিক পরিচয় কোনো ব্যক্তিকে জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নিয়ে যেতে পারে না। যারা জনগণের প্রতিনিধিত্বের দাবি করেন, তাদের অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, রাজনৈতিক অঙ্গনে এখনও এমন ব্যক্তিদের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাদের ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্ক রয়েছে। এতে শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবমূর্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, জনগণের গণতন্ত্রের প্রতি আস্থাও দুর্বল হয়।’


তিনি আরো বলেন, আমরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই, জনমনে প্রচলিত সকল গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ অনুসন্ধান নিশ্চিত করতে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের প্রতিও আহ্বান জানাইÑ বিতর্কমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। নারায়ণগঞ্জের জনগণ আর ভয়, প্রভাব ও বিতর্কের রাজনীতি চায় না। তারা চায় জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং জনগণের কল্যাণে নিবেদিত নেতৃত্ব। সময় এসেছে প্রশ্নের জবাব দেওয়ার। সময় এসেছে বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে জনগণের আদালতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার।


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সদস্য সচিব আশিকুর রহমান অভি বলেন,‘ বিএনপি নেতা টিপু সাহেবের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ দেখলাম  কিন্তু এটা কতটা সত্য আমরা জানি না। যদি বিষয়টি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে তার দল যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তার ব্যবস্থা নিবে।’


উল্লেখ্য, গত শনিবার (২০ জুন) শহরের খানপুর থেকে গাজীপুরের চন্দ্রা পর্যন্ত চলাচলকারী ‘মৌমিতা পরিবহন’ থেকে বিএনপি নেতা টিপু প্রতিমাসে ৯০ হাজার টাকা করে গত দুই বছর চাঁদা নেওয়ার তুলেছেন পরিবহনটির নারায়ণগঞ্জের পরিচালক রফিজুল ওরফে কালা। পাশাপাশি গত ৩ মাস যাবৎ চাঁদা দেওয়া বন্ধ থাকায় মৌমিতা বাস না.গঞ্জ রুটে চলাচল বন্ধ করারও অভিযোগ  তোলেন তিনি।  যাকে ঘিরে  নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়ার মিশনপাড়া এলাকায় মৌমিতা পরিবহনের কয়েকটি বাস থামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ভাইরাল হয়ে উঠে।


‘মৌমিতা পরিবহন’ কোম্পানির নারায়ণগঞ্জের পরিচালক রফিজল ওরফে কালা অভিযোগ তুলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব টিপু ভাইকে গত ২ বছর যাবৎ ৯০ হাজার টাকা করে আমরা চাঁদা দিয়ে আসছি। কিন্তু গত ৩ মাস যাবৎ চাঁদা বিভিন্ন বিষয়ে বন্ধ থাকায় তিনি ‘মৌমিতা বাস” চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিছেন তার গুন্ডবাহিনী ১২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বরকতউল্লাহ, সহ-সভাপতি, মহানগর বিএনপির সেক্রেটারির পিএস শাহাবুদ্দিন, শহিদ, সনি, মাহাবুব, তপন, হিরা সরদার, মাসুম, দুলাল ও জুলহাসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর মাধ্যমে। আরো অভিযোগ তুলেন টিপু ভাই তার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানের দিন মৌমিতা বাস কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম)-কে ডেকে নিয়ে মাসিক ৯০ হাজার টাকা চাঁদা বন্ধ কেন তা শুক্রবারের মধ্যে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু সময় মতো চাঁদা না দেওয়ায় বাস চলাচল বন্ধ করে  দেওয়া হয়।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন