Logo
Logo
×

রাজনীতি

মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা

মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা

Swapno



মেয়াদউত্তীর্ণ থাকায় দ্রুতই মহানগর বিএনপির কমিটি ভেঙে নয়া কমিটি গঠনের আলোচনায় কেন্দ্র। এদিকে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান নাসিক প্রশাসকের দায়িত্ব পাওয়ায় বর্তমানে এককভাবে মহানগর বিএনপি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ছলছাতুরিসহ কর্মীদের সাথে খারাপ আচরণ করায় বর্তমান সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু তার প্রতি অসন্তুষ্ট কমিটির বাকিরা।


তা ছাড়া গত ৫ আগষ্টের পর একের পর এক বিতর্কসহ নিজের ক্লিন ইমেজ ধরে রাখতে না পারায় যাকে ঘিরে নয়া কমিটি থেকে বাদ পরতে যাচ্ছে টিপু। এদিকে মহানগর বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে নয়া কমিটির আলোচনা শুরু হয়েছে। যেখানে নতুন কমিটিতে মূল দায়িত্ব পেতে পারে বলে গুঞ্জন উঠছে যুবদলের সাবেক ও বিএনপির বঞ্চিত নেতারা। যাকে ঘিরে নয়া কমিটিতে আলোচনায় মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল,


মহানগর বিএনপির বিদ্রোহী যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকসুদুর খন্দকার খোরশেদ, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন। এদের হাতেই মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রে মহানগর বিএনপির দুটি পৃথক কমিটি জমা পরেছে যেখানে যাচাই বাছাই করে যোগ্য ও পরীক্ষিত কান্ডারী খুঁজছে দল। এদিকে সাবেক কমিটির অনেকেই নতুন কমিটি থেকে বাদ দিয়ে বঞ্চিত নবীন-প্রবীনদের সমন্বয়ে আসতে যাচ্ছে নয়া কমিটি।


দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এবার আর পকেট কমিটি নয়, যোগ্যতা যাচাইয়ে আসবে কমিটি যেখানে হবে কোন বিদ্রোহ। এদিকে মহানগর বিএনপির বর্তমান সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল , যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন নেতেৃত্বে কমিটি জমা পরেছে। কমিটির তালিকা ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশার যৌথ নেতৃত্বে আরেকটি কমিটির তালিকা কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়েছে। মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটি.এম কামাল, মাকসুদুর খন্দকার খোরশেদ এরা ও নানাভাবে কমিটি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।


সেই হিসেবে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিলের আগেই এমন কমিটি হওয়ার গুঞ্জন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাঙ্খিত ভোট দলীয় প্রার্থীকে দিতে ব্যর্থতায় নতুন নীতি কমিটিতে আসছে পুরাতন নেতারাই। “নির্যাতিত, কারাবন্দি হওয়ার মূল্যায়ন নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে লম্বা তালিকা রয়েছে। যার ফলে আগামীতে ক্লিন ইমেজে শক্ত বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে অবস্থানকারী নেতাদের মহানগরের দায়িত্ব নেয়ার সিদ্ধান্তে রয়েছে বিএনপি। তা ছাড়া এবার মহানগর বিএনপিতে স্থান পাবেন মহানগর যুবদলের সাবেক ও বর্তমান আহ্বায়করা।


কিন্তু বর্তমানে কমিটিকে ঘিরে বাড়ছে দ্বন্দ্ব। এর বাহিরেও নয়া কমিটিতে আসতে দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকেই। সূত্র আরো জানিয়েছে , দীর্ঘ চার বছর যাবৎ কমিটি পেয়ে ও মহানগর বিএনপিকে শক্তিশালী না করার যে চক্রান্ত চলেছিলো। সেই চক্রান্ত নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমেই দূর হবে, এবার আর ছোট মহানগর বিএনপি নয় মহানগর বিএনপি হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে বড় ও শক্তিশালী।  তা ছাড়া দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর মহানগর বিএনপি নতুন নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে এমন প্রত্যাশা নেতাকর্মীদের মধ্যে স্পষ্ট।


নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি বহুদিন ধরেই পূর্ণাঙ্গ কমিটিবিহীন অবস্থায় ছিল। আহ্বায়ক কমিটি কিংবা আংশিক দায়িত্বে দল পরিচালিত হলেও সাংগঠনিক কার্যক্রমে ছিল ঢিলেঢালা ভাব। তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছিল, বিশেষ করে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে সংগঠনের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। এই প্রেক্ষাপটে হঠাৎ করে দুইটি শক্তিশালী প্যানেলের কমিটি জমা পড়া রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে যেতে পারে।  


আরো জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। কর্পোরেশনের আগামী সিটি নির্বাচনে তিনি দলীয় সমর্থিত প্রার্থী হবেন এমন নিশ্চিত পাওয়া গেছে কেন্দ্রীয় নেতাদের মুখে। এর ফলে তাকে মহানগর বিএনপির প্রথম সদস্য করা হবে এবং আহবায়ক এদিকে পদ ছাড়তে হচ্ছেন। নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে বিএনপি দুই মাসের ক্ষমতা মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন সিটি খান পুরো কর্পোরেশনকে চকচকে ঝকঝকে করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।


অন্যদিকে এবার মহানগর বিএনপির কমিটি প্রবীন-নবীনদের নিয়ে গঠন চান তৃনমূল। দীর্ঘ দিন ধরে একই নেতারা পদে আসীন থাকায় বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়েছে। যার প্রতিফলন দেখা মিলেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। যে নির্বাচনে সদরে ধানের শীষের অবস্থা ছিলো করুন, তা ছাড়া বন্দরে ও ঢিলে ঢালা। যাকে ঘিরে এবার যোগ্যতা যাচাইয়ে দল ত্যাগীদের মূল্যায়ন করবে এবং তা করলেই মহানগর বিএনপি গতিশীল হয়ে উঠবে। এদিকে মহানগর যুবদলকে গতিশীল করার ক্ষেত্রে মনিরুল ইসলাম সজল যেন এক আলেচিত নাম। তার হাতের ছোয়ায় ইতিমধ্যে গতিশীল মহানগর যুবদল গতিশীল ভূমিকা রাখছে।


তার মতো নেতৃত্বধীন নেতা মূল দলে আসলে মহানগর বিএনপি অনেকটাই নতুন আলোচনায় নাম লিখাবে। এদিকে আবুল কাউসার আশা যিনি বিগত দিনে বিদ্রোহ করলে ও আন্দোলন সংগ্রাম থেকে শুরু করে সর্বদা মাঠে সক্রিয় ভূমিকা ছিলো। তা ছাড়া তার বাবা সাংসদ আবুল কালামের নির্বাচনী প্রচারণার ব্যাপক ভূমিকা ছিলো আশার। তা ছাড়া তিনি বর্তমানে এমপি আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেন। তা ছাড়া সাবেক যুবদলের সভাপতি মাকদুসুর খন্দকার খোরশেদ যিনি বিগত কমিটিতে সর্ব প্রথম ও সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও ইউনিট কমিটি গঠন করে আলোচনায় ছিলেন। তার পর থেকে এখনো ইউনিট কমিটির দেখা পায়নি যুবদল।


তা ছাড়া ২০২০ সালের করোনাকালীন সময়ে ব্যাপক আলোচিত ছিলো এই খন্দকার খোরশেদ নগরবাসীর করোনা বন্ধু হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন। যাকে ঘিরে তিনিও আলোচনায় রয়েছেন। তা ছাড়া মহানগর বিএনপিকে আরেকভাবে ধরে রাখতে সহযোগীতায় রয়েছেন বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে মহানগর বিএনপির দায়িত্ব পরে সেটা হাইকমান্ড ভালো যানে।


এর আগে, ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। কমিটিতে এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে আহ্বায়ক ও এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করে এই কমিটি করা হয়েছে। কমিটিতে ১০ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হলে। কমিটিকে অযোগ্য আখ্যা দিয়ে ১৫ জন যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য মূল কমিটির সঙ্গে বিদ্রোহ করেন। যাকে ঘিরে দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পরেন মহানগর বিএনপির কমিটি। তা ছাড়া গত ৪ বছরে এই কমিটি থেকে একজন যুগ্ম আহ্বায়ক ও একজন সদস্য মৃত্যুবরণ করেন।


যাকে ঘিরে দীর্ঘদিন যাবৎ সাখাওয়াত-টিপু-রেজা রিপন অন্য দিকে আলাদা ব্যানারে আশার নেতৃত্বেই পরিচালিত হয়েছে মহানগর বিএনপি। কিন্তু নির্বাচনকে ঘিরে এতত্রিত হয়ে পরেন মহানগর বিএনপি। যাকে ঘিরে নির্বাচন পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধতা দেখিয়ে ফের সিটি নির্বাচনকে ঘিরে জড়িয়েছেন দ্বন্দ্বে। যাকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা সরূপ দুই নেতৃত্বে দুটি কমিটি কেন্দ্রে জমা পরেছে। তা ছাড়া আরো দু‘টি পরতে পারে বলে আভাস রয়েছে। কিন্তু এবারের কমিটি গঠনে বিড়ম্বনা দেখা দিলে রয়েছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা। বর্তমানে বিতর্কিত কমিটি ভেঙে বিতর্কিতদের বাদ নিয়ে সাংগঠনিক কমিটি গঠনের আলোচনা উঠছে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন