যুবদলে হঠাৎ অস্থিরতা
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর যুবদলে ফের শুরু হয়েছে দূরত্বের দ্বৈরথ। আহ্বায়ক, সদস্য সচিবকে রোষানলে ফেলে আলোচনায় উঠতে চাইছেন, আবার অনেকেই পরিচিত মুখের দীর্ঘদিনের ত্যাগী যুবদল নেতাকে পিছনে ফেলতে চলছে নানা ষড়যন্ত্র। যাকে ঘিরে যুবদলকে ঘিরেই পাওয়া যাচ্ছে দ্বন্দ্বের আভাসসহ অস্থিরতার দৃশ্য। যার প্রভাব পরছে থানা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, পৌরসভা যুবদলে।
কমিটি গঠনের গত ৩ বছরে উন্নতি আসেনি জেলা ও মহানগর যুবদলে। সেই পুরনো ৩ সদস্য কমিটি ও সাবেক মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিট কমিটি পারেনি দিতে। তা ছাড়া মহানগর যুবদল নিজেদের কমিটি ৫১ সদস্য কমিটি দিতে পারলে ও ইউনিট কমিটি গঠনে ব্যর্থ হয়ে পরেছেন। যা গঠনে ও কমিটি বড় করতে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনাকে ও পাত্তা দেয়নি জেলা ও মহানগর যুবদল।
প্রকৃতপক্ষে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল এবং সদস্য সচিব সাহেদ আহমেদ-এর নেতৃত্বাধীন ৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কে এম মাজহারুল ইসলাম জোসেফ নামে কেউ নেই। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায়ভার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল বহন করবে না। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপির নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিজ্ঞপ্তি প্রেরণ করা হয়েছে।
যা নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা। মাজহারুল ইসলাম জোসেফ নারায়ণগঞ্জ যুবদলের একজন পরিচিত মুখ, তাকে কোনঠাসায় রাখতেই মরিয়া পদধারীরা। এদিকে মহানগরের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল বর্তমানে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কিংবা সদস্য সচিব হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। এর বাহিরে বাকি সকলেই নানাভাবে বিতর্কে জড়িয়ে পরেছেন। তা ছাড়া কিছুদিন পূর্বে এক শিক্ষার্থীর আঙ্গুলে সাবল দিয়ে কোপ দেওয়ায় মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ারকে বহিস্কার করেছেন দল। এদিকে বর্তমানে জোসেফে ভয় শুরু হয়েছে। যুবদলের একপক্ষের নেতাদের। যাকে ঘিরে এক প্রকার অস্থিরতা বিরাজ করছে।
আমাকে না জানিয়ে কাকে যুবদল নেতা বানিয়ে বহিস্কার করছে তা মানা যায় না। যাকে ঘিরে কমিটি গঠনের পর থেকে এখনো সেই পুরনো দ্বন্দ্বের অবসান ঘটেনি তা প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। তা ছাড়া জেলা যুবদলের তিন গ্রুপের দ্বন্দ্বে পদ থেকে বঞ্চিত ত্যাগী কর্মীরা। তা ছাড়া কিছুদিন পূর্বে গত (৯ এপ্রিল) ফতুল্লায় পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদল স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক সারজিল আহমেদ অভি , এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম জসিম, যুবদল নেতা সুমন।
এ নিয়ে ফতুল্লা থানা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান ও তার অনুসারীদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম জসিম গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেন। তা ছাড়া সোনারগাঁও, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজারে যুবদলের অপকর্মের শেষ নেই। ডজনে ডজনে একাধিক অভিযোগের কোনঠাসা যুবদল একত্রিত না থাকায় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ জেলা যুবদল। এদিকে গতকাল রূপগঞ্জে এনসিপির পোগ্রামে যুবদল-ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়।
বর্তমানে না.গঞ্জ জেলায় যুবদল এক অভিসাপ হিসেবে নারায়ণগঞ্জবাসীর মনে গেঁথে বসেছে। এদিকে গত ২০২২ সালে একই দিনে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা দেয়া হয়। এরপ থেকে যুবদলের রাজনীতিতে কমিটি ঠাঁই নিয়ে পদবঞ্চিতদের ক্ষোভ এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা রূপ নেয়। দীর্ঘদিন ধরে ‘আংশিক কমিটি’ নির্ভর রাজনীতি, শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এবং পদ না পাওয়া কর্মীদের বিক্ষোভের কারণে প্রায়শই এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নেয়।
আংশিক কমিটি ও ধীরগতিতে বছরের পর বছর ধরে আংশিক কমিটি দিয়ে কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। মহানগর যুবদলের পূর্ণাঙ্গ হলেও এখনো জেলা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে চরম ধীরগতির কারণে পদপ্রত্যাশীদের মাঝে ক্ষোভ কাজ করছে। পূর্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর যুবদলের একাধিক নেতাকে দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার মতো শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে কেন্দ্রীয় কমিটি শোকজ করেছে।
কেন্দ্রীয় কমিটিতে তাদের তাদের নাম থাকার একা গুঞ্জন উঠলেও সদস্য তালিকা দেখা যায়নি। এমনকি জেলা যুবদলের আহবায়ক সাদেকুর রহমান সাদেক ও মহানগরের আহবায়ক মনিরুল ইসলাম সজল বিদায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন, এবারো তাদের ঠাঁই হয়নি। যা নিয়ে সমালোচনা উঠছে নারায়ণগঞ্জে যুবদল এতোটাই কোনঠাসা ও বিতর্কিত যাকে ঘিরে কেন্দ্রীয় সদস্য পদে ও তাদের স্থান দিলে সেই পদ বিতর্কে রূপ নিবে যাকে ঘিরে স্থান পেলেনি জেলাতে।
এদিকে বিরোধী দলীয় একাধিক নেতাদের অভিযোগ, ৫ আগষ্টের পর বিএনপি নেতারা ক্লিন ইমেজ ধরে রাখতে অঙ্গসংগঠন যুবদল নেতাদের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে ব্যবসা বানিজ্যেসহ সকল অপকর্মে থাকা সেক্টর দখলে নিয়েছেন। বর্তমানে বিতর্ক পিছু ছাড়েনি যুবদলের। বর্তমানে সকলেই সুবিধা নিতে একে অপরকে কোনঠাসার ভাবনায় মগ্ন। যাকে ঘিরে যুবদলে বাড়ছে দূরত্বের দ্বৈরথ।


