Logo
Logo
×

রাজনীতি

আহ্বায়করা দূরে থাকায় জেলা মহানগর বিএনপি ছন্নছাড়া

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

আহ্বায়করা দূরে থাকায় জেলা মহানগর বিএনপি ছন্নছাড়া

আহ্বায়করা দূরে থাকায় জেলা মহানগর বিএনপি ছন্নছাড়া

Swapno



নির্বাচনের পর ক্ষমতায় বসেই সেই পুরনো জৌলুস হারিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি। যাকে ঘিরে কয়েক মাস ধরে বিএনপিতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যাকে ঘিরে সবাই নেতা। দায়িত্বরতদের মূল্যায়ন না করেই চলছে আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ। একই সাথে সেই সুযোগে ইতিমধ্যে বিশৃঙ্খলায় পরিণত হয়েছে বিএনপির অঙ্গসংগঠন। যেখানেই প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় অঙ্গসংগঠনের নেতারা নিজেরাই বড় নেতা হয়ে নিজেদের জাহির করে চালাচ্ছে নানান অপকর্মে। যা নিয়ে উঠছে নানান অভিযোগ। এদিকে এয়োদশ নির্বাচনী ব্যস্ততা, প্রার্থী বাছাই এবং অভ্যন্তরীণ সমীকরণ সামাল দিয়ে দলটির তৃণমূল পর্যায়ের কর্মকাণ্ড এখন নেই।


এদিকে শহীদ রাষ্ট্রপ্রতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে নেই সেই আগের জৌলুস। তা ছাড়া মাঠে বড় ধরনের কোনো কর্মসূচি না থাকায় নেতাকর্মীদের মাঝেও তৈরি হয় নিরুৎসাহের আবহ। তবে ঈদুল আযহার পর সেই স্থবিরতা কাটিয়ে আবারও সক্রিয় হওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও এখনো তা দেখা যায়নি। এদিকে কমিটি পেয়েই জেলা বিএনপি উন্নতিকরণ কমিটি নিয়েই ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। তা ছাড়া জেলা বিএনপিরে আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পাওয়ায় তিনি এখন সাংগঠনিক কাজে সময় দিতে পারছে না।


তা ছাড়া সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ সদস্যর দায়িত্ব পাওয়ায় তিনি এখন নেই জেলা বিএনপিতে। একইভাবে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পাওয়ায় সাংগঠনিকভাবে দুর্বল মহানগর বিএনপি। যাকে ঘিরে আহ্বায়কদের দুরুত্বে ছন্নছাড়া শীর্ষ দুই কমিটি। তা ছাড়া এখনো কমিটি পূর্নাঙ্গ বা মেয়াদউত্তীর্ণ ইউনিট কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গড়তে ব্যর্থতার প্রমান দিয়েছেন। বর্তমানে নয়া কমিটি চাইছেন তৃণমূল নেতারা।


দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নিয়মিত সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের কথা থাকলেও জেলা ও মহানগর বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে সেই প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে। একের পর এক আহ্বায়ক কমিটি গঠন এবং পরবর্তীতে তা ভেঙে দেওয়ার প্রবণতা সংগঠনের ভিতকে দুর্বল করে দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, নেতৃত্বের টানাপোড়েন এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনীহা যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তা ছাড়া জেলার রাজনীতিতে বিএনপির দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ইতিহাস থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে ইউনিট পর্যায়ে শক্তিশালী কমিটি গঠন ও কার্যক্রম সচল রাখতে ব্যর্থতা এখন বড় উদ্বেগের কারণ। সংগঠনের নিচের স্তরগুলো সক্রিয় না থাকলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নও কঠিন হয়ে পড়ে এমনটাই মনে করছেন অভিজ্ঞ নেতারা। এই প্রেক্ষাপটে ঈদের পর দল গোছানোর উদ্যোগ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।


তাদের মতে, তৃণমূলকে সক্রিয় করা, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন এবং নিয়মিত কর্মসূচির মাধ্যমে সাংগঠনিক কাঠামোকে পুনরুজ্জীবিত করাই এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসন করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। তৃণমূল কর্মীদের প্রত্যাশা, দ্রুত একটি নির্বাচিত ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হলে সংগঠনের শৃঙ্খলা ও গতি ফিরে আসবে। তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনো সুস্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা না থাকায় অনিশ্চয়তা কাটছে না।


তা ছাড়া জেলা ও মহানগর বিএনপিতে বর্তমানে সবাই নেতা হয়ে জাহির করছেন যাকে ঘিরে সংগঠনে দেখা মিলছে অভ্যন্তরীন কোন্দল ও বিশৃঙ্খলা। সেই সকল দিক লক্ষ্য করে তৃনমূলকে মূল্যায়িত করে নতুন কমিটির মাধ্যমে বিএনপিতে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর দাবি তৃণমূলের নেতাদের।


Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন