যুবদল কর্মীদের কিল-ঘুষিতে রক্তাক্ত সত্তোর্ধ বিএনপি নেতা অকিল
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
যুবদল কর্মীদের কিল-ঘুষিতে রক্তাক্ত সত্তোর্ধ বিএনপি নেতা অকিল
জেলা পরিষদ প্রশাসক মামুন মাহমুদের ডাকে ছুটে গিয়েছিলেন সত্তোর্ধ বিএনপি নেতা অকিল উদ্দিন ভূঁইয়া। ঘুনাক্ষরেও ভাবতে পারেননি নিজ দলের কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হতে হবে আজ। অপরাধ শুধু সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছিলেন। তা মেনে নিতে পারেননি যুবদল কর্মী পরিচয়ে নিজ দলের লোকেরা। টেনে-হিঁচড়ে বাইরে এনে কিল-ঘুষিতে অকিলকে রক্তাক্ত করে ক্ষ্যান্ত হয়েছে তারা।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কিংবা নাসিক ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পদও অকিল উদ্দিন ভূঁইয়াকে এই মারের হাত থেকে বাঁচাতে পারেনি। জেলা পরিষদ আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমন কাণ্ডে হতবিহব্বল খোদ জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। মুহুর্ত্বেই এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওঠে নিন্দার ঝড়। সবার একটাই কথা, এদের রুখবে কে?
আয়োজক এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সাতদিনব্যাপী দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, রক্তদান কর্মসূচি, বইমেলা ও বৃক্ষমেলা শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন।
সকাল ১০টায় জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে ছবি তোলার সময় জেলা যুবদলের সদস্য সচিব রনির সাথে বিএনপি নেতা অকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার কথা কাটাকাটি হয়। এর এক পর্যায়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এসময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুন মাহমুদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।। তবে অনুষ্ঠান শেষে ঘটনাস্থল থেকে বের হওয়ার পরপরই দুপুর ২টার দিকে জেলা পরিষদের প্রাঙ্গণে রনির সমর্থকেরা অকিলের ওপর হামলা চালায় ও তাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। হামলার সময় রনি ঘটনাস্থলের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে বিএনপির সিনিয়র নেতারা এগিয়ে অকিলকে ছাড়িয়ে নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে দাঁড়ানো নিয়ে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য অকিল ও নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি ধাক্কাধাক্কির সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠান শেষে জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুন মাহমুদ ধাক্কাধাক্কির বিষয়টি সমাধান করলেও অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির সমর্থক মামুন ও কাওসারসহ বেশ কয়েকজন জেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে জেলা বিএনপি নেতা অকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার উপর হামলা চালায়। ঘটনাস্থলে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি উপস্থিত থাকার পরেও বিএনপি নেতা অকিল উদ্দিন ভূইয়ার উপর তার সমর্থকদের এমন হামলা অনেকটাই ন্যাক্কারজনক মনে করছেন বিএনপি’র নেতাকর্মীরা।
হামলার বিষয়ে অভিযোগ তুলে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য ও সিদ্ধিরগঞ্জ ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি অকিল উদ্দিন ভূঁইয়া যুগের চিন্তাকে বলেন, জেলা পরিষদের উদ্যোগে জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ছবি তোলার জন্য লাইনে দাঁড়ালে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির লোকেরা পিছন থেকে আমাকে টানাটানি করলে আমি এ বিষয়ে রনিকে জানালে সে আমার সাথে তর্ক শুরু করে দেয় এবং রনি তার লোকদের বলে ওরে নিচে ফেলে দিয়ে আয়।
তিনি বলেন, এগুলো নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হলে জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ৩য় তলায় নিয়ে আমাদের মিলিয়ে দেয় এবং মশিউর রহমান রনি আমার কাছে ক্ষমা চেয়ে বলে, আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। কিন্তু রনি আমার আগে জেলা পরিষদ থেকে নিচে নেমে যায় পরে আমি বাসার উদ্দেশ্য রওনা দিয়ে নিচে নামলেই মশিউর রহমান রনির ১০ থেকে ১২ জন সমর্থক রনির সামনেই আমার উপরে হামলা চালিয়ে আমার গেঞ্জি ছিঁড়ে ফেলে। পরে আমি লাঞ্ছিত অবস্থায় সেখান থেকে চলে এসেছি এখন আমি থানায় এ বিষয়ে মামলা করবো।
এই বিষয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘অনুষ্ঠানস্থালে কিছু সময় তর্ক বিতর্ক হলে ও পরবর্তীতে আমার মুরব্বি হিসেবে আমি তার কাছে ক্ষমা চাই। কিন্তু হামলার বিষয়ে আমি আগে থেকে কিছুই জানতাম না। কিছু অতি উৎসাহী কর্মীরা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই আমি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবো।’
এ বিষয় জেলা বিএনপির আহবায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ কোন মন্তব্য না করলেও বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন।
এবিষয়ে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম জানান, ‘হামলার ঘটনা আমরা শুনেছি। তবে এই বিষয়ে কেউ এখনও কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো।’


