ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা নিয়ে ব্যপাক প্রচারণা চালিয়ে আলোচনায় ছিলেন মহানগর জামায়াতের আমীর ও কেন্দ্রীয় ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি আব্দুল জব্বার। তিনি ফতুল্লা প্রচারনায় চালিয়ে ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে নিজেকে পরিচিত করে তুলেছিলেন।
কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত মতে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের কারনে তিনি ত্যাগ সিকার এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিনের পক্ষে কাজ করে তাকে এমপি হিসেবে নির্বাচিত করেন। যদিও মাঠে বলাবলি হয়েছে জামায়াতে প্রার্থী আব্দুল জব্বার নির্বাচন করলে আরও বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হতেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবেও মাওলানা আব্দুল জব্বারের নাম উঠে এসেছে। তবে তার দাবী তৃনমুল থেকে মতামত নেয়া হচ্ছে সে ক্ষেত্রে মহানগর জামায়াতের সাবেক আমীর মঈন উদ্দিন আহমেদের নামও রয়েছে।
এদিকে জোটে থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন এককভাবে করতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সেই পরিকল্পনায় এরইমধ্যে ১২ সিটি করপোরেশনের জন্য ১২ মেয়র পদপ্রার্থীও ঠিক করে ফেলেছে দলটি। তারই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় শাখাগুলো থেকে আসা তালিকা যাচাই-বাছাই করেই সম্ভাব্য প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জামায়াত। ইতোমধ্যে চার সিটির প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করতে বলা হয়েছে। দলের আলাদা আলাদা দায়িত্বশীল সমাবেশ থেকে তাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সেই হিসেবে জাতীয় গণমাধ্যমে চার মেয়র প্রার্থীর নাম উঠে এসেছে।
তার মাঝে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী করা হচ্ছে দলের মহানগর শাখার আমির আবদুল জব্বারকে। তিনি আওয়ামী লীগ ক্ষমতার সময়ে ২০১২ এবং ২০১৩ মেয়াদে শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি এবং ২০১৪ থেকে ২০১৫ মেয়াদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দেশের একটি গণমাধ্যমে উঠে এসেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় আছেন। দক্ষিণে আলোচনায় রয়েছেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমীর আব্দুল জব্বার বলেন, আমাদের দলের তৃনমুল থেকে মতামত নেয়া হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন থেকে আমি আছি। এছাড়া মহানগরের সাবেক আমীর মাওলান মঈন উদ্দিনও আছে। আমরাও দেখেছি জাতীয় গণমাধ্যমে কয়েকজনের নাম প্রকাশ হয়েছে। সেখানে নারায়ণগঞ্জ সিটিতে আমার নাম উঠে আসলেও আমাকে দল থেকে এখনো ঘোষনা করা হয় নাই। আপাতত আমাদের ওয়ার্ড পর্যায়ে কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রস্তুতি নিচ্ছে। দল থেকে মেয়র প্রার্থী ঘোষনা করা হলে তখন মেয়র পদেও প্রচারনা করতে মাঠে নামা হবে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াত অংশ নিয়েছিল ১১–দলীয় ঐক্য গড়ে। এই জোটে ইসলামি দলের পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) ছিল। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে সিটি করপোরেশনে এককভাবেই প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জামায়াত নেতারা।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ একটি গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে বলেন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দলীয় প্রার্থীদের চূড়ান্ত করা হচ্ছে। প্রার্থী বাছাইয়ে অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এসব যোগ্যতায় কিছু এলাকায় ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে। তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১১–দলীয় ঐক্যভুক্ত দলগুলো নিজ নিজ দলের প্রার্থী দেবে এখন পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্তই বহাল আছে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।