কার স্বার্থে ভাঙছে না মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের কমিটি?
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
কার স্বার্থে ভাঙছে না মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের কমিটি?
নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সকল অঙ্গসংগঠনের ইউনিটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত, দুর্বল, অসাংগঠনিক ব্যক্তিত্বের নেতাদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের কমিটি। নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতৃত্বে থাকা নেতাদের দ্বারা একাধিকবার ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটালেও নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতৃত্বে থাকা নেতাদের কাছে এক প্রকার হাড় মেনে নিয়ে কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নেতারা মহানগরের নেতাদের অপকর্ম দমনে কখনোই কোন প্রকার সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
সূত্র বলছে, ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক করা হয়েছে সাখাওয়াত ইসলাম রানাকে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে মমিনুর রহমান বাবুকে। আওয়ামীলীগ শাসন আমলে তাদের কমিটি দেয়া হলে নারায়ণগঞ্জের আন্দোলন সংগ্রামে ব্যাপক ভাবে সক্রিয় ছিল নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদল। কিন্তু ৫ই আগস্টে আওয়ামীলীগের পতনের সাথে সাথে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের কমিটির হত্যা,চাঁদাবাজি,লুটতরাজ,
কারণ ৫ই আগস্টের পর পরই নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক করা হয়েছে সাখাওয়াত ইসলাম রানার নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ বাস টার্মিনাল দখলে যান নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদল। পরবর্তী নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া এলাকায় জোরপূর্বক জামায়াত নেতার ভূমি দখল এবং জামায়াত নেতাকে মারধর করেও দলীয় নেতাকর্মীরা উল্টো তাকে বাহাবা দিয়ে আশকারা দিয়ে শহরের অপকর্মের জনকে পরিণত হন। এছাড়া প্রতিনিয়ত অস্ত্রের হুমকি দিয়ে বাঁধন বাস কোম্পানীর চেয়ারম্যান পদ ভাগিয়ে নেন রানা। সেই সাথে কৌশলে তার সহযোগীদের দ্বারা শহরের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি,লুটতরাজ,জবরদখল,মাদক কারবারেরও শেল্টার দিয়ে সংগঠিত করেছেন।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে ঘৃণিত এবং ন্যক্কারজনক হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী হয়ে পলাতাক রানা। ইসদাইরের শুভ নামে এক যুবকের সাথে মাদক ব্যবসা আধিপত্যের দ্বন্দ্বের জেড়ে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ উঠে রানা বিরুদ্ধে। এছাড়া এই যুবকের মৃত্যুর এক মাস অতিক্রম না করতেই রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে শুভ হত্যা মামলার বাদী মা মাকসুদা বেগমের। মাকসুদা বেগমের আকস্মিক মৃতে্যুর ক্ষেত্রে রানার দিকই সন্দেহের তীর যাচ্ছে। বিএনপি সরকার গঠন করলেও দল এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করলেও এখনো অদৃশ্য শক্তির প্রভাবের হত্যা মামলার আসামী হয়ে আত্মগোপনে থাকলেও এখনো নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের কমিটিতে বলবৎ রয়েছেনঅপরদিকে ৫ই আগষ্টের পর সদস্য সচিব মমিনুর রহমান বাবুর নেতৃত্বে যুবদলের সাথে আদমজী ইপিজেটের ওয়েস্টিজ ব্যবসা দখলে যান।
এখানেই শেষ নয় আহ্বায়ক রানার সাথে বাস টার্মিনাল দখলেও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বাবু। পাশাপাশি সিদ্ধিরগঞ্জ মৌচাক এলাকায় নীলাচল বাসের ডিপো দখল নিয়ে তৎকালীন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের সাথে সংঘর্ষে জড়ান বাবু। এদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলকে বিতর্র্কিত ধ্বংশের নেপথ্যের কারিগর হচ্ছেন আহ্বায়ক শাখাওয়াত ইসলাম রানা ৫ই আগষ্টের পর এমন কোন প্রকার অপকর্ম নারায়ণগঞ্জ শহরে রানা নেতৃত্বে সংগঠিত হয়নি। যেটা নিয়ে বিএনপির নেতাদের মধ্যে সর্বত্তই আলোচনা হচ্ছে কি কারণে কি স্বার্থে হত্যা মামলার আসামীকে স্বেচ্ছাসেবকদলের কমিটিতে এখনো রাখতে হচ্ছে। এছাড়া রানা-বাবুর অযোগ্য নেতৃত্বধান মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের বর্তমান কমিটি এখনো বলবৎ থাকবে? যার কারণে স্বেচ্ছাসেবকদলের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নেতাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।


