Logo
Logo
×

রাজনীতি

স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি

Icon

রাকিবুল ইসলাম

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি

স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি

Swapno



দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে এ প্রশ্নে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের কৌতূহল বাড়ছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে নির্বাচিত পরিষদবিহীন অবস্থায় প্রশাসক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এতে করে জনগণ তাদের সঠিক সেবা পাচ্ছে না। বিশেষ করে পুরো জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান থাকায় জুলাই আন্দোলনে পতনের পরে অনেকেই এখনো পলাতক রয়েছে।


যার জন্য সঠিকভাবে সেবা পাচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় দীর্ঘ দিন যাবৎ প্রশাসক থাকায় নাগরিক সেবা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তাই রাজনৈতিক দলগুলো এবার জাতীয় নির্বাচনের পরে দ্রুত স্থানীয় নির্বাচনের দাবী জানান। আর এজন্য নারায়ণগঞ্জে স্থানীয় নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি হতে বিএনপি জামায়াত-এনসিপি মাঠে নেমে নিজেদের মত প্রস্তুতি নিচ্ছে।   এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি নিয়ে সাম্প্রতিক বক্তব্য ও প্রস্তুতির আভাস নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে আভাস দিয়েছে স্থানীয় সমবায় মন্ত্রণালয় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তারই প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জের ইউনিয়ন সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধি হতে রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা প্রস্তুতি নিচ্ছে।


নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বলছে, জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনই এখন কমিশনের পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে প্রাথমিক প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এই বছরের শেষের দিকে স্থানীয় নির্বাচন শুরু হতে পারে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং নির্বাচনী বিধিমালা পর্যালোচনাসহ প্রয়োজনীয় কাজগুলো ধাপে ধাপে সম্পন্ন করার কথা ভাবছে কমিশন।


সূত্র জানায়, সম্ভাব্যভাবে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিয়ে সময়সূচি নির্ধারণ করা হতে পারে। এরপর পর্যায়ক্রমে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় শহরের নির্বাচন আগে হলে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরবর্তী ধাপের নির্বাচনগুলো তুলনামূলকভাবে সহজ হবে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে গণতান্ত্রিক চর্চা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জনপ্রতিনিধি না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের চাপ ক্রমেই বাড়ছে।


সরকারি পর্যায় থেকেও বারবার বলা হচ্ছে, আইন ও সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে বাস্তবতা হলো চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।


সব দিক বিবেচনায় নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সবকিছু অনুকূলে থাকলে ঈদের পর কয়েক মাসের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে এবং ২০২৬ সালের মধ্যেই ধাপে ধাপে দেশের বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন হতে পারে। এখন অপেক্ষা কেবল নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ঘোষণা ও তফসিলের।


Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন