Logo
Logo
×

রাজনীতি

ফতুল্লায় ভাগাভাগি নিয়ে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

ফতুল্লায় ভাগাভাগি  নিয়ে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে

ফতুল্লায় ভাগাভাগি নিয়ে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে

Swapno

গত ৫ আগষ্ট পটপরিবর্তনের পরপরই আওয়ামী লীগের সকল প্রকারের ব্যবসা-বাণিজ্যে-চাঁদাবাজিসহ সকল বৈধ এবং অবৈধ সেক্টর সমঝোতার ভিত্তিতে বিএনপি নিয়ন্ত্রণ নিলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে ১১ দলীয় জোটের এনসিপির মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল-আমিন জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় বর্তমানে বেকায়দায় বিএনপি। নিয়মিতই ভাগাভাগি নিয়ে ঘটছে নানা বিছিন্ন ঘটনা। যাকে ঘিরে একের পর এক বিশৃঙ্খলা ঘটনাা সম্মূখীন হচ্ছেন ফতুল্লার জনগণ।


ইতিমধ্যে ফতুল্লার শিল্পঅঞ্চল বিসিক এলাকা বিএনপি-যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দল-ছাত্রদল-কৃষকদল নিয়ন্ত্রণ করলে ও এবার এতে সমঝোতার ভিত্তিতে নিজেদের অবস্থান চাইছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি। ইতিমধ্যে পার্সেন্টিজ ব্যবসায় বিসিকে গার্মেন্টস-ফ্যাক্টরীর ঝুটসহ সকল ব্যবসায় বিএনপি থেকে অংশ চায় এনসিপি। সেই আলোচনা ইতিমধ্যে চলমান রয়েছে। কিন্তু এখনো বিএনপির সঙ্গে বিএনপিই এখানোও ভাগবাটোয়ারা সমঝোতায় হয়নি।


ইতিমধ্যে ভাগবাটোয়ারা নিয়ে গত (৯ এপ্রিল) আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর এনায়েতনগর ইউনিয়নের হরিহরপাড়ার চাঁদনী হাউজিং এলাকার বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেডের ঝুট নিয়ে যুবদল-স্বেচছাসেবক দল ও বিএনপির দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এদের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে শিশু ইমরানসহ ২ জন গুলিবিদ্ধ হন। এর পর থেকেই বিসিক অঞ্চলে আলোচনায় চলছে এনসিপির পার্সেন্টিজ বা ভাগবাটোয়ারার আওয়াজ।


এই আলোচনার রেশ না কাটতেই গত (২১ এপ্রিল) সদর উপজেলায় বক্তাবলী খেয়াঘাটের ইজারা নিয়ে দরপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এনসিপি  নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের  ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। ইতিমধ্যে দিন যতই বাড়ছে ততই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে রূপ নিচ্ছে ফতুল্লার রাজনীতি। তা ছাড়া দ্রুত আবারো বিসিকের বিভিন্ন্ সেক্টর নিয়ে উঠছে আলোচনা। তা ছাড়া ইতিমধ্যে ফতুল্লার হাট টেন্ডারে বিএনপি-এনসিপির সঙ্গে সমঝোতায় যেভাবে রয়েছে। তেমনইভাবে সকল সেক্টরে পার্সেন্টিজ নাকি সংঘর্ষ তা নিয়ে উঠছে আলোচনা।


সূত্র বলছে, ঈদুল ফিতরের পূর্বে ফতুল্লা ডিআইটি মাঠ সহ বিভিন্ন সেক্টরে ইজারা সম্পন্ন হয়। ইজারার আগে ফতুল্লা মাঠের নজর ছিল এনসিপি নেতাদের। তরিকুল নামের এনসিপি নেতা দরপত্র ক্রয় করেন। তিনি আবার বক্তাবলী খেয়াঘাটের দরপত্রও কিনেছিলেন। ডিআইটি মাঠের দরপত্র ক্রয়ের পর বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তাদের তিন দফায় বৈঠক হয়। শুরুতে এনসিপি নেতা তরিকুল বিএনপি নেতাদের কাছে ৩০ ভাগ কমিশন চায়। পরে দ্বিতীয় দফায় ২০ ভাগে নেমে আসে। তখন এনসিপির সঙ্গে জামায়াতও যুক্ত হয়।


এ নিয়ে রাতভর জল্পনা শেষে দরপত্র দাখিলের দিন সকাল ১১টায় এক বৈঠকে এনসিপি ১০ ভাগে রাজি হন। একই সাথে ফতুল্লার বিভিন্ন হাট ঘাটের টেন্ডারে অংশ নিয়ে বড় অংকের টাকায় সমঝোতার অভিযোগ উঠলেও তবে গত (২১ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হওয়া বক্তাবলীর রাজাপুর খেয়াঘাটের দরপত্র নিয়ে সমঝোতা না হওয়াতে বিএনপির পাশাপাশি এনসিপি, জামায়াত নেতারা দরপত্র জমা দিতে গেলে এদের মধ্যেই দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।


একই সাথে বিসিক এলাকায় ও ব্যাপকভাবে নিয়মিত যাতায়াত সহ বিভিন্ন্ভাবে আলোচনা শুরু করেছেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। তারা সমঝোতায় আসতে এবার মগ্ন হয়ে উঠেছেন। এদিকে ইতিমধ্যে ফতুল্লার সকল সেক্টরেই এনসিপি থাকতে চাইছেন তা ছাড়া নিজেদের এমপি থাকায় করছেন জোর। যাকে ঘিরে সমঝোতার খেলা চলমান রয়েছে। তা ছাড়া ইতিমধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যে-হাট-ঘাটের পাশাপাশি বড় নজর আগামী ঈদুল আজহার কোরবানীর গরুর হাটের দিকে। সেই ইজারা কিভাবে নিয়ন্ত্রণে যাবে তা নিয়ে উঠছে নানা আলোচনা। যাকে ঘিরে এবার হাটকে ঘিরে ব্যাপক সংঘর্ষের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।


এদিকে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু জানিয়েছেন, ‘আমরা সমঝোতার মাধ্যমে সবকিছু করার চেষ্টা করি যেন কোন ঝামেলা না হয়। আমি জামায়াত এনসিপির নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে বলেছি যে সম্মিলিতভাবে ব্যবসা করার জন্য।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন