Logo
Logo
×

রাজনীতি

বিএনপির বহিষ্কৃতদের দিকে এনসিপির নজর

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

বিএনপির বহিষ্কৃতদের দিকে এনসিপির নজর

বিএনপির বহিষ্কৃতদের দিকে এনসিপির নজর

Swapno

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রবীণ শ্রেণীর রাজনীতিবিদরা বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপির রাজনীতি থেকে ছিঁটকে পড়েন। এদিকে বিএনপির রাজনীতিতে এসকল প্রবীণনেতাদের ফেরার অবস্থা অনেকটাই ক্ষীণ। এদিকে এসকল বিএনপি নেতাদের দিকে এনসিপির নজর ছিল। কিন্তু সেসময় এনসিপির অনুরোধকে পাত্তা না দিলেও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এসকল বহিষ্কৃত নেতাদের ফের এনসিপির প্রস্তাব দিয়েছে জানিয়েছে সূত্র।


ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে বিএনপির বহুল আলোচিত জনপ্রিয় নেতারা জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচনে অংশ নিয়ে বহিষ্কার হলেও এখনো বিএনপি তাদের দলে ফিরিয়ে নেয়ার কোন উদ্যোগ না নেয়ায় এনসিপির প্রস্তাব গিলে এনসিপি যোগ দিতে যাচ্ছেন।


সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে দুলাল হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বহিষ্কার হয়ে পরবর্তীতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়াকে সমর্থন দেয়া নির্বাচন থেকে সড়ে গেলে এখনো বিএনপি তার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করেনি। এদিকে দুলাল হোসেনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পিছনে  অন্তরালে কাজ করেছিলেন ১১দলীয় জোটের দুদল জামায়াত ইসলাম এবং এনসিপি। ভোটের মাঠে বিএনপির প্রার্থীর অবস্থান নড়বড়ে থাকায় তখন জামায়াত ইসলামের প্রার্থী তাঁকে স্বতন্ত্র হিসেবে দাড়িয়ে থাকার মনোবল যুগিয়েছিলেন।


সেই সাথে ছাত্র-জনতার নেতাদের দুলালের সুসম্পর্ক থাকায় বিভিন্ন দলের ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত সমর্থকরা অন্তরালে বিভিন্ন ভাবে দুলাল হোসেনকে সহযোগীতা করছিলেন ভোটের মাঠে টিকে থাকার জন্য। কিন্তু শেষতক দুলাল বিএনপির আদর্শের বাহিরে গিয়ে নির্বাচন না করার মননিবেশ করলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন থেকে সড়ে যান। অপরদিকে বিএনপি এখনো দুলাল হোসেন দলে গ্রহণ করে না নেয়ায় এবং সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা ও যুবনেতা হওয়ায় এনসিপি বা ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য রাজনৈতিকদলগুলো দুলালকে দলে বিড়ানোর টোপ দিতে পারেন। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপির রাজনীতি থেকে ছিঁটকে পড়েন আতাউর রহমান আঙ্গুর। কিন্তু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে পরাজয় বরণ করে নিলেও আঙ্গুর।


তার দিকে নজর রয়েছে এনসিপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিকদলগুলোর কেননা তিনি বিএনপির আদর্শিক নেতা হলেও এর আগে সংস্কারবাদীদের সাথে বিএনপির ভাঙার মিশনে গেলে তার আদর্শিক ঘাটতি রয়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে ভোটের  মাঠ পুরো নির্বাচনী এলাকায় তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকায় এনসিপি নারায়ণগঞ্জ জেলায় সর্বত্র নজর রেখেছেন তার উপরে। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে একাধিক বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হয়ে বিএনপি থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন এবং রেজাউল করিম। তবে তারা দুজনই প্রবীণ নেতা হওয়ায় তাদের দলে ফেরার অবস্থানও অনেকটা ক্ষীণ। এদিকে জাতীয় নির্বাচনের আগেই মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের দিকে নজর ছিল এনসিপির। অপরদিকে রেজাউল করিম বিএনপি থেকে বহিষ্কার হয়ে অনত্র দলের আশ্রয় প্রশ্রয়ে  থেকে নির্বাচন করার ইচ্ছেমত প্রকাশ করলেও তাকে পাত্তা দেয়নি।


তবে এনসিপির দল ভারী করার মিশনে নজরে রয়েছেন মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন এবং রেজাউল করিম। এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এনসিপির জয় নিশ্চিত হওয়ার মধ্য দিয়ে এমপি হন আল-আমিন। মূলত, তার নেতৃত্বেই ফতুল্লাকে সাজাতে চাচ্ছেন এনসিপির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির এমপি থাকায় এবং বিএনপির কোন্দল বা বহিষ্কৃত নেতা না থাকায় তৃণমূল পর্যায় থেকে বিভিন্ন দলের সাবেক এবং বর্তমান নেতারা এনসিপিতে যোগদান করলে তাদের দলে গ্রহণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে বিএনপি থেকে দীর্ঘদিন ধরে বহিষ্কৃত নেতা তৈমুর আলমকে এখনো বিএনপি দলে ফিরিয়ে না নেয়ায় এবং তৃণমূল বিএনপি নামক একটি দলে যোগ দিয়ে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করায় তাকে নিয়ে ভাবছে এনসিপির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন