বিচ্ছিন্ন হচ্ছে বিএনপি নেতারা
মুখে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা বললেও বাস্তবে তার চিত্র ভিন্নরকম ভিতরে। বিএনপির শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা সকলেই ঐক্যের কথা বলে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে দলের মাঝে গ্রুপিং কোন্দল কিংবা বিভক্ত কেন তৈরী হয়। তার উত্তরে অনেকেই বলবে বলয় ভিত্তিক রাজনীতি, পেশি শক্তির রাজনীতি। কে কার থেকে বেশি লোক দেখিয়ে শীর্ষ নেতাকে খুশি করতে পারে। আর এতে করেই তৈরী নিজেদের মাঝে দুরত বা বিভক্ত তৈরী হয়।
তাছাড়া রাজনীতিতে রং বদলায়। কখনো সময়ের ব্যবধানে, আবার কখনো বা ক্ষণে ক্ষণে। রাজনীতি-বিজ্ঞানের দীক্ষা যা-ই হোক, বাস্তবে রাজনীতি একই কক্ষপথে চলে কম। এদিকে বাংলাদেশের ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। সেই চিত্র নারায়ণগঞ্জের বিএনপি নেতাদের মাঝেও তৈরী হয়েছে বলে মনে করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। হেনরি ফোর্ডের একটি উক্তি স্মরণযোগ্য।
তিনি বলেছেন-রাজনীতিকে সৎ রাখতে পারে একটি মাত্র উদ্দেশ্য, তা হলো দেশের এবং তার জনগণের জন্য ভালো কিছু করার উদ্দেশ্য।এ দেশ ও দেশের জনগণের কল্যাণের যে রাজনীতি, সেটি বাংলাদেশে অনুপস্থিত বহুকাল। আখের গোছানো আর জনগণকে জিম্মি করে গদি টেকানোর রাজনীতির চর্চাই দেখেছে এ দেশের দুর্ভাগা জনগণ।
বিএনপি দেশ পরিচালনায় আসলেও সাংগঠনিক ভাবে এখনো তারা মনোযোগি হন নাই। তার মাঝে নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর বিএনপির একাধিক সহযোগি সংগঠনের কমিটি না থাকায় দল শক্তিশালী হওয়ার চেয়ে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। সেদিকে দলের নেতৃবৃন্দ কতটুকু মনোযোগি তা দেখার বিষয়।
একই সাথে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক স্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে সাংসদ হয়েছেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন এড আবুল কালাম। জেলার সংসদ সদস্যরা তাদের অনুসারীদের নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু দলের সাংগঠনিক নিয়ে তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। তাদের বিপক্ষে যারা নির্বাচন করে বহিস্কার হয়েছেন তারা এখন উধাও হয়ে রয়েছেন। তাদেরকে সামাজিক কিংবা অন্য কোন কর্মকান্ডে দেখা যাচ্ছে না। আর এতে করে বিহস্কার হওয়া অনুসারীরা দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে।
তার সাথে তার অফনুসারীদের আর দেখা যাচ্ছে না। তাদের সাথে সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর, রেজাউল করিম তাদের পক্ষে কাজ করে দলের বাইরে রয়েছে। তাদেরকে কেউ এখন আর কদর করে না। অথচ যখন দলের পদে ছিলেন তখন ঠিকই কদর করা হত। কিন্তু বিচ্ছিন হওয়ার কারনে তা আর নেই।
কিভাবে গুছিয়ে নিজে নির্বাচনে অংশ গ্রহন স্থানীয় ভাবে কোন চেয়ারে বসতেদ পারেন সেদিকে এখন। আর এ কারনেই যে যার মত করে বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছেন। আর এই ভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে বিএনপির পতন হতে হয়ত বেশি দিন সময় লাগবে না। কেননা দলের সাংগঠনিক ভাবে নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে তখন দল দুর্বল হয়ে পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনীতিকদের রাজনীতি-জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম নয়। জর্জ বার্নার্ড শ’র ভাষায়-‘কিছুই জানে না; কিন্তু ভাবে যে, সেসব জানেন। রাজনীতিকদের প্রচুর পড়াশোনা করতে হয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে সম্যক জ্ঞান থাকতে হয়। ভূরাজনীতির মারপ্যাঁচে তালগোল পাকালে চলে না। রাজনীতি এক অর্থে দাবা খেলা। চালে ভুল করলেই রাজা চেক অনিবার্য। সেই কোন রাজনীতিবিধ ভুল করলে তাদের ৪০ থেকে ৫০ বছরের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে এক নিমিষেই।


