Logo
Logo
×

রাজনীতি

কাশেমী অধ্যায়ের নীরব প্রস্থান

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

কাশেমী অধ্যায়ের  নীরব প্রস্থান

জমিয়াতের উলামায় দলের মনির হোসেন কাশেমী

Swapno

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে নির্বাচনের আগ মুহুর্ত থেকে নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে সর্বত্র আলোচিত চরিত্রে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪(ফতুল্লা) আসনে বিএনপি সমমনা জমিয়াতের উলামায় দলের মনোনীত খেজুর প্রতীকে সংসদ নির্বাচনে পরাজিত মনির হোসেন কাশেমী। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগ মুহুর্ত থেকেই বিএনপির সমমনাদল থেকে মনোনীত হতে যাচ্ছেন এমন আলোচনায় নির্বাচনের আগ মুহুর্ত থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। পরবর্তীতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পাশ কাটিয়ে বিএনপির জোটগত দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ছিনিয়ে নেন। কিন্তু তার সামনে তখন চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত তিনজন স্বতন্ত্র এবং অন্যদলের হয়ে নির্বাচন করেছেন এমন প্রার্থীর সাথে লড়াই।


তবে নির্বাচন প্রচার প্রচারণার পরিচালনায় তখন মনির হোসেন কাশেমীর ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেন ফতুল্লা থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ। নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত তিনজন প্রার্থীর সাথে লড়াই করতে গিয়ে নির্বাচনে বহু বিতর্কিত কান্ডে আলোচিত সমালোচিত হলেও ভোটের ফলাফলে জয়ের দ্বারপ্রান্তে গিয়েও জামায়াত জোটের এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিনের কাছে  পরাজিত হয়ে যান। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিতদের স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে বহু নেতাকর্মী এবং মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বহিষ্কার হলে ফতুল্লায় বিএনপির অভিভাবক সংকট দেখা দিলে তখন ফতুল্লা থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দের ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেন মনির হোসেন কাশেমী। তবে সাপ্তাহ না ঘুড়তেই জমিয়াতের উলামায়ের অপর এক নেতা মাও ফৌরদাউসুর রহমান ফতুল্লা বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে একধরণের গরম বক্তব্য দিয়ে ভাইরাল হন। তার মধ্যে অন্যতম আলোচিত দিক ছিল কাউকে চাঁদাবাজির ঠিকাদারি দেয়া হয়েছে নাকি। এই বক্তব্যের পর ফতুল্লা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা এক প্রকার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জোটের পরাজিত হওয়া প্রার্থী মনির হোসেন কাশেমীর সঙ্গ ত্যাগ করতে থাকেন। এভাবে ধীরে ধীরে ফতুল্লায় কাশেমী অধ্যায়ের প্রস্থান ঘটে।



সূত্র বলছে, ফতুল্লা থানা  বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটুকে ও সাধারণ সম্পাদক এড. আব্দুল বারী ভূঁইয়া এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম সেন্টু ফতুল্লা বিএনপির এসকল নেতাকর্মীরাই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির জোটের প্রার্থী মনির হোসেন কাশেমীকে নির্বাচনে জয়ী করার লক্ষ্যে মুর্খ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনী লড়াইয়ে মনির হোসেন কাশেমীর বিপরীতে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এরমধ্যে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন,শাহ আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়েছেন। অপরদিকে মোহাম্মদ আলী রিপাবলিকান পার্টি থেকে নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু এসকল প্রার্থীরা বিএনপির ভোট ভাগাতেই ছিলেন মগ্ন। কিন্তু অপরদিকে জামায়াত জোটের এনসিপির প্রার্থী আল আমিন নীরব ভোট প্রার্থনা করে নীরব বিপ্লব ছিনিয়ে নিয়েছেন। যার ফলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ফতুল্লা এলাকায় স্বতন্ত্র থেকে শুরু করে বিএনপির জোটের পরাজয়ে নেতৃত্ব সংকটসহ অভিভাবক সংকট দেখা দেয়।


কারণ ফতুল্লা থানা বিএনপির রাজনীতিতে যারা মূলধারা জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছিলেন তারাই দলীয় পদে রয়েছেন বাকি অন্যান্য দলীয় নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর  পক্ষে কাজ করতে গিয়ে বহিষ্কার হয়েছেন। এছাড়া বিএনপির বিদ্রোহ করতে সকল স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই বহিষ্কার হয়েছেন। যার কারণে ফতুল্লা থানা বিএনপির মূলধারার নেতাদের বাহিরে ফতুল্লাতে বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের বাহিরে লিডারশীপ বা তাদের নেতৃত্ব দেয়ার বিএনপির অন্য কোন শক্তি নেই বললেই চলে। এক কথায় ফতুল্লা থানা বিএনপির একজন অভিভাবক সংকট দেখা দিয়েছিল। সেই অভিভাবকের অভাব দূর করতে ফতুল্লা থানা বিএনপির মূলধারার নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির জোটের প্রার্থী মনির হোসেন কাশেমীকে অভিভাবক করে সাময়িক সময়ের জন্য ফতুল্লা থানা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে দেখা যায়। তবে সাপ্তাহ না ঘুরতেই জমিয়াতের উলামায়ের অপর এক নেতা মাও ফৌরদাউসুর রহমান ফতুল্লা বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে বক্তব্য রাখেন সেখানে তিনি বলেন- নারায়ণগঞ্জে যে যত বড় নেতাই হোক, সবাই সাবধান হয়ে যান। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় আধিপত্যের লড়াই চলছে।

বিশেষ করে ফতুল্লায় আধিপত্যের লড়াই আমরা স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি। রাস্তায় হাঁটলে মানুষ আমাদের প্রশ্ন করে—আমাদের পাশে নাকি চাঁদাবাজ থাকে, আমরা নাকি মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চলাফেরা করি। মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান আরও বলেন, “খেজুর গাছের পক্ষে নির্বাচনে কাজ না করার কারণে কিছু মানুষের বাড়িঘরে হামলা চালানো হচ্ছে। এরা কারা? জমিয়তের কোনো কর্মী তো হামলা চালানোর কথা না। সুতরাং যারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এসব করছে, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলে ফেলেন কাউকে চাঁদাবাজির ঠিকাদারি দেয়া হয়েছে নাকি?


এমন বক্তব্যের পর থেকেই ফতুল্লা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা মনির হোসেন কাশেমীর সঙ্গ ত্যাগ করতে থাকেন। এরপর থেকেই ফতুল্লার রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে এক প্রকার নিজেকে গুটিয়ে নেন মনির হোসেন কাশেমী। তাছাড়া রমযান থেকে শুরু করে ঈদেও মনির হোসেন কাশেমীর সক্রিয়তা ফতুল্লাতে দেখা যায়নি। যার কারণে ফতুল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনের নেতারা এক প্রকার ধরেই নিয়েছেন ফতুল্লার রাজনীতিতে মনির হোসেন কাশেমীর এক প্রকার নীরব প্রস্থান ঘটেছে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন