বিগত সাড়ে ১৫ বছর সারা ন্যায় নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে নেতারা দাপটের সাথে রাজত্ব চালিয়েছে। এমন কোন অপকর্ম নেই যা নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধিরা করে নাই। এমনকি তাদের নেতারা ছিলে বেপরোয়া সর্বমহলে। ২০২৪ সনে জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার আন্দোলনের তোপের মুখে পড়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় ভারতে। সেই থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কোমায় রয়েছে। তারা যে পালিয়েছে এখনো পলাতক অবস্থায় রয়েছে। এখন অবধি কোমা থেকে তারা বের হতে পারে নাই। এত দাপুটে থাকা দল এই ভাবে পালিয়ে বেরাবে সকলেরই চিন্তা ধারণার বাইরে ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো দলটির নেতাকর্মীরা পালিয়ে রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কেন্দ্র থেকে বারবার বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হলেও রাজপথে নামার সাহস দেখাতে পারেনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। যদিও মাঝে দিয়ে ওসমান পরিবারের চ্যালা চামুন্ডারা ব্যানার পোষ্টারে ফিরতে চেয়েও তা পারে নাই। এর ফলে রাজপথ থেকে অবসরে রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
জুলাই আন্দোলনের পর থেকে যত গুলো বঙ্গবন্ধুর জন্ম বার্ষিকী গেছে কোনটাতেই আওয়ামী লীগকে দেখা যায় নাই। এবারের ১০৬ তম জন্ম বার্ষিকীতেও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের কাউকে কোন কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় নাই। গত ১৭ মার্চ ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী। ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি, যা আওয়ামী লীগ আমলে বাংলাদেশে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে উদযাপিত হত। ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ তাঁর ১০৬তম জন্মবার্ষিকী পালিত হওয়ার কথা থাকলেও তা কেউ পালন করেননি।
বিগত সময়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রভাব বিস্তার করে যারা টাকা কামিয়ে বিত্তশালী হয়েছে তারা এখন পালিয়ে গেছে। কেননা বিগত সময়ে নারায়ণগঞ্জে ওসমান সম্রাজ্য প্রতিটি সেক্টরে প্রভাব বিস্তার করে দলীয় পদ থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি বানিয়েছে নিজেদের লোক। এতে করে অনেক যোগ্য ব্যক্তি নিরব কষ্ট সহ্য করেছে। তাছাড়া ৫ আগষ্টের পড়ে প্রভাবশালী অনেক নেতারা বিভিন্ন উপায়ে দেশের বাইরে চলে যেতে পারলেও অধিকাংশ নেতাকর্মী এখনো দেশের মধ্যেই রয়েছেন। পরিবার থেকে তারা বিচ্ছিন্ন থাকলেও রয়েছেন মামলা অভিযুক্ত আসামী হয়ে গ্রেফতার আতঙ্কে। যারা তৃণমূল পর্যায়ে রয়েছেন তারা সবচেয়ে বেশি বিপদে রয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপিরা দেশের বাহিরে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই রয়েছেন। তবে একমাত্র নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাবেক এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী রয়েছেন কারাগারে। তার সাথে সাবেক মেয়র আইভীও গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
জানা যায়, বর্তমানে মামলা, গ্রেফতার আতঙ্কে নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে থাকায় দলটি পরিচালনা করার কোনো নেতা পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান সহ অন্যান্য নেতারা পালিয়ে রয়েছে। এমনকি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সেক্রেটারি আবু হাসনাত মো. বাদল ওরফে ভিপি বাদল দলের দায়িত্ব রেখে কুমায় গিয়ে রয়েছে। তাদেরকে কোন ভাবে কেউ খুজে পাচ্ছে না। এছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা পলাতক রয়েছে। তারা কোথায় আছে কেউ জানে না। তাছাড়া প্রশাসনের যৌথ বাহিনীও তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য খুজে বেরাচ্ছে। তাছাড়া আওয়ামী লীগের কেউ হাল ধরার মত না থাকায় পুরোই টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। প্রত্যেক নেতাকর্মী বিচ্ছিন্ন রয়েছেন।
যখন আওয়ামী লীগ বাদে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলো রাজপথ দখলে রেখেছে ওই অবস্থায় আওয়ামী লীগের পক্ষে একত্রিত হওয়া মোটেও সহজ বিষয় না। অথচ এই নারায়ণগঞ্জ থেকেই আওয়ামী লীগের গোড়াপত্তন হয়েছিল। সে কারণে নারায়ণগঞ্জকে বলা হয়ে থাকে আওয়ামী লীগের জন্মস্থান। অর্থাৎ বেসামাল দলটির নেতাকর্মীরা নিজ জন্মস্থান জেলাতেই বিলুপ্তির পথে রয়েছে। আবার রাজনৈতিক মহলের বিশ্লেষকরা বলছে আওয়ামী লীগ যে কুমায় গেছে সেখান থেকে জীবিত হয়ে ফিরতে পারবে কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
আওয়ামী লীগের ভাষ্য, কোনো শক্তি এসে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে না। এখনো দেশের অনেক জনগণই আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে। তারা জনগণের কাছে যাওয়ার আগে সাংগঠনিকভাবে নিজেদের শক্তিশালী করবে । কিন্তু কুমায় থাকা দলকে শক্তিশালী করতে সাংগঠনিক ভাবে হাল দরার মত কেউ নেই। থাকলেও কেউ সামনে আসছে না।
জুলাই আন্দোলনে ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের সরকারের পতন ঘটবে তা কখনোই আন্দাজ করতে পারেনি দলটির নেতাকর্মীরা। এর ফলে নেতাকর্মীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের কোনো ঘাটতি ছিল না। বরং শেখ হাসিনা এভাবে পালিয়ে যাবেন তা কখনোই চিন্তা করতে পারেননি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাদের পতনের পর অনেক কার্যালয় লুটপাট করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মাঝে বাদ যায় নাই নারায়ণগগঞ্জ আওয়ামী লীগের অফিসও। যেখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বড় বড় কথা বলতেন সেখানে তারা একেবারেই আড়াল হয়ে কোমায় গেছেন। কেউ কেউ প্রকাশ্যে আসার চেষ্টা করেও সেই সাহস পাচ্ছে না। দলীয় পদ-পদবী ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে সুবিধাভোগী হয়েছেন। কিন্তু বর্তমান সংকটকালীন সময়ে আর তাদের দেখা মিলছে না। তাই বলা চলে আওয়ামী লীগ কোমায় যাওয়ায় সেখান থেকে ফিরতে পারেনি।


