সংসদ নির্বাচনে পিষ্ট হয়েছে বলয়ভিত্তিক রাজনীতি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
সংসদ নির্বাচনে পিষ্ট হয়েছে বলয়ভিত্তিক রাজনীতি
নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনেই আওয়ামীলীগ পতনের পর বিএনপির সমর্থিত নেতারা বলয় ভিত্তিক রাজনীতিতে আক্রান্ত হয়ে কোন্দল,বিভাজন,গ্রুপিংয়ে জড়িয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্যে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনেই বিএনপির মনোনয়ন কেন্দ্র করে গ্রুপিং রাজনীতি চরমে ঠেকেছিল।
যার প্রভাব দেখা গিয়েছিল বিএনপির চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী ঘোষণার পর কারণ বিএনপির চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থীর বিপরীতে বিদ্রোহ করতে দ্বিধা করেননি বিএনপির গ্রুপিং রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত মনোনয়ন বঞ্চিতরা। অপরদিকে কিছু কিছু জায়গায় বিএনপির চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী ঘোষণার পরই বলয়ভিত্তিক রাজনীতির অবসান ঘটে। কিন্তু সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর সামনে নির্বাচনী লড়াইয়ে ধোপে টিকেনি বিদ্রোহীরা। যার কারণে নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি আসনেই বিদ্রোহীদের ভরাডুবি ঘটেছে।
নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির বলয়ভিত্তিক রাজনীতিতে চলমান ছিল মোস্তফিজুর রহমান দিপু এবং কাজী মনিরুজ্জামানের মধ্যে কিন্তু মোস্তফিজুর রহমান দিপু মনোনীত হওয়ার পরই কাজী মনিরুজ্জামানের বলয় ভেঙে পড়ে। কিন্তু মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিদ্রোহ করেও পরবর্তীতে সমর্থন দিয়ে দেন দুলাল হোসেন। মোস্তফিজুর রহমান দিপু সাংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর গ্রুপিং রাজনীতির পুরোপুরি অবসান ঘটে। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপিটর বলয়ভিত্তিক রাজনীতি চরমে ছিল।
কারণ নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের বিপরীতিতে মনোনীত হওয়ার আগে থেকেই আতাউর রহমান আঙ্গুর,মাহমুদুর রহমান সুমন,পারভীন আক্তার গ্রুপিংয়ের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। এছাড়া নজরুল ইসলাম আজাদের সাথে মনোনয়ন প্রতিযোগীতায় বঞ্চিত হয়ে বিরোধীতা করে এক মঞ্চে আতাউর রহমান আঙ্গুর,মাহমুদুর রহমান সুমন,পারভীন আক্তার। পরবর্তীতে তাদের মধ্য থেকে আতাউর রহমান আঙ্গুর স্বতন্ত্র নির্বাচন করে পরাজিত হন নজরুল ইসলাম আজাদের কাছে। নজরুল ইসলাম আজাদ সাংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর গ্রুপিং রাজনীতির পুরোপুরি অবসান ঘটে।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির গ্রুপিংয়ের রাজনীতি অন্যতম ছিল। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আজহারুল ইসলাম মান্নানকে মনোনীত করা হলে গ্রুপিং আরও তুঙ্গে উঠে। কেননা নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে রেজাউল করিম মামুন মাহমুদ, ইমতিয়াজ বকুল,ওয়ালিউর রহমান আপেল,মুজাহিদ মল্লিক,খন্দকার আবু জাফর মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার কারণে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে বিরোধীতা করেছিলেন। এরমধ্যে রেজাউল করিম বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিরোধীতা করে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে পরাজিত হন।
এতে করে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান জয়ী হওয়ার গ্রুপিং রাজনীতির অবসান ঘটে। এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির গ্রুপিং রাজনীতির প্রভাব পুরোপুরি পড়েছিল। কেননা নারায়ণগঞ্জ-৪ বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ছড়াছড়ি ছিল। সাবেক সাংসদ বা সাংসদ হেভীওয়েট প্রার্থীদের বাহিরে ছাত্রদল,যুবদলের পদধারী নেতারা সাংসদ প্রার্থী হয়েছিলেন। যার কারণে বিএনপির জোটের প্রার্থী হিসেবে মনির হোসেন কাশেমীকে চূড়ান্ত করেন মনোনীত হিসেবে।
এই গ্রুপিং রাজনীতির প্রভাবে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত তিনজন স্বতন্ত্র বা অন্য দলে গিয়ে বিএনপির জোটের প্রার্থীর বিরোধীতা করে বহিষ্কার হন পরবর্তীতে নির্বাচনেও পরাজিত হন। কিন্তু নির্বাচনে বিএনপির জোটের প্রার্থী মনির হোসেন কাশেমীও পরাজিত হয় জয়ী হয় জামায়াত জোটের প্রার্থী এনসিপির আল আমিন। যার কারণে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির রাজনীতি নেই বললেই চলে। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে কোন্দেলের কারণে বাকযুদ্ধও চলমান ছিল। এছাড়া নানা তর্ক বিতর্কও ছিল।
এর মূলে ছিল নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ব্যবসায়ী থেকে বিএনপিতে প্রবেশ করেই বিএনপির মনোনয়ন পার মাসুদুজ্জামান। পরবর্তীতে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত আবুল কালাম,সাখাওয়াত হোসেন খান,আবু আল ইউসুফ খান টিপু,আবু জাফর বাবুল এক মঞ্চে মাসুদুজ্জামানের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন সভা সমাবেশ করছিলেন। এরমধ্যে নানা বির্তকের মুখে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান নির্বাচন করবেন না বলে ঘোষণা দিলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আসনে আবুল কালামকে মনোনীত করা হলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনিপর কোন্দলের অবসান ঘটে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আবুল কালাম এমপি নির্বাচিত হলে বিএনপির বলয় ভিত্তিক কোন্দল গ্রুপিং রাজনীতির একেবারেই অবসান ঘটে। এরমধ্যে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত সাখাওয়াত হোসেনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি ব্যাপকভাবে শক্তিশালী হয়।


