Logo
Logo
×

রাজনীতি

বিএনপি-জমিয়ত সম্পর্কে ফাটল

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

বিএনপি-জমিয়ত সম্পর্কে ফাটল

বিএনপি-জমিয়ত সম্পর্কে ফাটল

Swapno

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জোটের প্রার্থী মনির হোসেন কাশেমীর পরাজয় জামায়াত জোটের এনসিপির প্রার্থী আল আমিনের জয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির রাজনীতিতে বিএনপির একজন পাকাপোক্ত রাজনৈতিক অভিভাবকের সংকট সৃষ্টি হয়। আর সেই রাজনৈতিক অভিভাবকের অভাব গুচতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জোট থেকে অংশ নেয়া পরাজিত জমিয়াতের উলামায়ের মনির হোসেন কাশেমীকে এক প্রকার বেছে নিয়েছিলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির নেতারা। কিন্তু সাপ্তাহ না ঘুড়তেই জমিয়াতের উলামায়ের অপর এক নেতা মাও ফৌরদাউসুর রহমান ফতুল্লা বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে একধরণের গরম বক্তব্য দিয়ে ভাইরাল হন। তার মধ্যে অন্যতম আলোচিত দিক ছিল কাউকে চাঁদাবাজির ঠিকাদারি দেয়া হয়েছে নাকি। এই বক্তব্যের পর ফতুল্লা বিএনপি নেতারা এক প্রকার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জোটের পরাজিত হওয়া প্রার্থী মনির হোসেন কাশেমীর সঙ্গ ত্যাগ করতে থাকেন। এছাড়া বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন ইফতার মাহফিলে কাশেমী অতিথি করা হলেও তার উপস্থিতি অথবা তার দলের কোন নেতাকর্মীরা ফতুল্লা বিএনপি নেতাদের সাথে মিলিত হচ্ছে না।


সূত্র বলছে, ফতুল্লা থানা  বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটুকে ও সাধারণ সম্পাদক এড. আব্দুল বারী ভূঁইয়া এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম সেন্টু ফতুল্লা বিএনপির এসকল নেতাকর্মীরাই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির জোটের প্রার্থী মনির হোসেন কাশেমীকে নির্বাচনে জয়ী করার লক্ষ্যে মুর্খ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনী লড়াইয়ে মনির হোসেন কাশেমীর বিপরীতে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এরমধ্যে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন,শাহ আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়েছেন। অপরদিকে মোহাম্মদ আলী রিপাবলিকান পার্টি থেকে নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু এসকল প্রার্থীরা বিএনপির ভোট ভাগাতেই ছিলেন মগ্ন। কিন্তু অপরদিকে জামায়াত জোটের এনসিপির প্রার্থী আল আমিন নীরব ভোট প্রার্থনা করে নীরব বিপ্লব ছিনিয়ে নিয়েছেন। যার ফলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ফতুল্লা এলাকায় স্বতন্ত্র থেকে শুরু করে বিএনপির জোটের পরাজয়ে নেতৃত্ব সংকটসহ অভিভাবক সংকট দেখা দেয়। কারণ ফতুল্লা থানা বিএনপির রাজনীতিতে যারা মূলধারা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছিলেন তারাই দলীয় পথে রয়েছেন বাকি অন্যান্য দলীয় নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর  পক্ষে কাজ করতে গিয়ে বহিষ্কার হয়েছেন। এছাড়া বিএনপির বিদ্রোহ করতে সকল স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই বহিষ্কার হয়েছেন। যার কারণে ফতুল্লা থানা বিএনপির মূলধারার নেতাদের বাহিরে ফতুল্লাতে বিএনপির অন্য কোন শক্তি নেই বললেই চলে। কিন্তু ফতুল্লা থানা বিএনপির একজন অভিভাবক সংকট দেখা দিয়েছিল।


সেই অভিভাবকের অভাব দূর করতে ফতুল্লা থানা বিএনপির মূলধারার নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির জোটের প্রার্থী মনির হোসেন কাশেমীকে অভিভাবক করে সাময়িক সময়ের জন্য ফতুল্লা থানা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে দেখা যায়। তবে সাপ্তাহ না ঘুরতেই জমিয়াতের উলামায়ের অপর এক নেতা মাও ফৌরদাউসুর রহমান ফতুল্লা বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে বক্তব্য রাখেন সেখানে তিনি বলেন- নারায়ণগঞ্জে যে যত বড় নেতাই হোক, সবাই সাবধান হয়ে যান। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় আধিপত্যের লড়াই চলছে। বিশেষ করে ফতুল্লায় আধিপত্যের লড়াই আমরা স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি। রাস্তায় হাঁটলে মানুষ আমাদের প্রশ্ন করে—আমাদের পাশে নাকি চাঁদাবাজ থাকে, আমরা নাকি মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চলাফেরা করি। মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান আরও বলেন, “খেজুর গাছের পক্ষে নির্বাচনে কাজ না করার কারণে কিছু মানুষের বাড়িঘরে হামলা চালানো হচ্ছে। এরা কারা? জমিয়তের কোনো কর্মী তো হামলা চালানোর কথা না। সুতরাং যারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এসব করছে, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলে ফেলেন কাউকে চাঁদাবাজির ঠিকাদারি দেয়া হয়েছে নাকি? এমন বক্তব্যের পর থেকেই ফতুল্লা বিএনপি নেতারা মনির হোসেন কাশেমীর সঙ্গ ত্যাগ করতে দেখা যাচ্ছে। অপরদিকে মনির হোসেন কাশেমী শিবিরে নেতারাও ফতুল্লা বিএনপি নেতাদের সঙ্গ দিচ্ছেন না।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন