নারায়ণগঞ্জ সিটিতে তরুন মুখ আহমেদুর রহমান তনু
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
নারায়ণগঞ্জ সিটিতে তরুন মুখ আহমেদুর রহমান তনু
দীর্ঘ দিন পড়ে মানুষ ভোট প্রয়োগ করে ১২ ফেব্রুয়ারি এমপিদের নির্বাচিত
করে নতুন সরকার গঠন করেছে। ২১২ জন সংসদ সদস্য নিয়ে বিএনপির সরকার গঠন করেছে।
বিরোধী দল হিসেবে রয়েছে ১১ দলীয় জামায়াত জোট। বিএনপি সরকার গঠনের পর ৬টি সিটি করপোরেশন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে
সদ্য নির্বাচিত সরকার। তার মাঝে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ
পেয়েছে মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাড সাখাওয়াত হোসেন খান। তবে তিনি সিটি নির্বাচনে
দায়িত্ব গ্রহন করার পর থেকে সিটি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। যদিও সিটি
করপোরেশনের প্রায় ১ বছর মেয়াদ রয়েছে। কিন্তু সিটি নির্বাচনে এবার কয়েকজন তরুন মুখ
নিজেদের নানা কর্মকান্ডের মাধ্যমে তুলে
ধরেছেন। আবার কয়েকজনে সম্প্রতি বিএনপির সরকার গঠন করার পরে সিটি করপোরেশনে নিজেদের
অবস্থান তৈরী করতে নানা তৎপরতা চালাচ্ছেন।
এদিকে কয়েকজন সম্ভাব্য ব্যক্তি সিটি করপোরেশননে প্রার্থী হতে আগে থেকেই
মাঠ গুছাতে কাজ করছেন। তারা নিজেরা নিজেদের মত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সক্রিয় থেকে ইতিমধ্যেই
সরব হয়েছেন সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা। বিভিন্ন ফেসবুক পোস্ট, ব্যানার ও
প্রচারমূলক কাজে থেকে আগামী সিটি নির্বাচনে একজন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী
হিসেবে তুলে ধরা ওই আর ভলান্টিয়ার সংগঠনের
উদ্যোক্তা আহমেদুর রহমান তনু। এছাড়া
এনসিপি নেতা শওকতের নাম শুনা যাচ্ছে তার কর্মী সমর্থকদের থেকে। তাছাড়া আড়াই
হাজারের নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপিে নজরুল ইসলাম আজাদের ভাইকে নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে।
তবে এই তিন তরুনদের মাঝে নগরীতে ব্যপক ভাবে পরিচিত রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব
কমার্সের পরিচালক আহমেদুর রহমান তনু। যার
পিতা ছিলেন নাগরিক কমিটির প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান। তিনি সামাজিক উন্নয়ন
মুলক কাজে ব্যপক পরিচিত ছিলেন শহরে।
তারই যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান হিসেবে জুলাই আন্দোলন থেকে শুরু করে
নারায়ণগঞ্জের নানা সমস্যা সমাধানে কাজের মাধ্যমে নিজেকের তুলে
ধরেছেন আহমেদুর রহমান তনু। বিশেষ করে নগরবাসীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, সামাজিক
কর্মকাণ্ডে সক্রিয় উপস্থিতি এবং জনসম্পৃতা বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের
একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক
পর্যবেক্ষকরা। সাম্প্রতিক সময়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তার অংশগ্রহণে সামাজিক সহায়তা
কর্মসূচি, নাগরিক সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় এবং তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ
লক্ষ্য করা গেছে।
তার সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ নগরীর যানজট, জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত
নগরায়ন ও নাগরিক সেবার সীমাবদ্ধতা নিয়ে যে অসন্তোষ রয়েছে, তা থেকে
উত্তরণের জন্য নতুন ও কার্যকর নেতৃত্ব প্রয়োজন। তারা মনে করছেন, তনু সেই
পরিবর্তনের প্রতীক হতে পারেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনকে
সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়া স্বাভাবিক। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয়
মনোনয়ন, জোটগত সমীকরণ ও মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতাই নির্ধারণ করবে কারা
চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন।
সব মিলিয়ে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আবহ ধীরে
ধীরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সেই প্রেক্ষাপটে আহমেদুর রহমান তনুকে ঘিরে সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা আগামী দিনের নির্বাচনী সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে সেটিই
এখন দেখার বিষয়।


