জামাতের ব্যানারে আওয়ামী ব্যবসায়ীদের ইফতার পার্টি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
জামাতের ব্যানারে আওয়ামী ব্যবসায়ীদের ইফতার পার্টি
ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীতে মোহাম্মদ হাতেমকে ফ্যাসিস্টের দোসর বলায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আলআমিনকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় সারা দেশে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পঞ্চবটি বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী পেশাজীবী ফোরাম নারায়ণগঞ্জ পূর্ব থানা। তবে এই ব্যানারে আওয়ামীপন্থী ব্যবসায়ীদের আধিক্য ছিল বলে জানায় উপস্থিত অনেকে। সূত্র জানিয়েছে, এমপি আল আমিন যখন প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন, তখন একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ দুই নেতা মহানগর আমির আব্দুল জব্বার ও নেতা মাইনুদ্দিনকে হাতেমের সঙ্গে অন্য ভবনে বৈঠকে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জামায়াত ও এনসিপি জোটের প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হয়েছে অ্যাডভোটেক আলআমিন। এমপি যখন অবরুদ্ধ দুই ঘন্টা যাবৎ তখন নারায়ণগঞ্জ জামায়াতের এই দুই নেতার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটি এখন এলাকাজুড়ে ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে। অনেকে বলছেন, ৫ আগস্টের পর নারায়ণগঞ্জের কিছু জামায়াত নেতাকে ম্যানেজ করেই হাতেম বিসিক এলাকায় ওসমানদের আমলের মতোই দাপট ধরে রেখেছেন। তাই জামায়াত নেতাদের এমন ভূমিকা নানা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যে ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে এ উত্তেজনার সূত্রপাত, সেটির আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গসংগঠন পেশাজীবী ফোরাম। ওই অনুষ্ঠানে বিকেএমইএ’র সভাপতি হাতেম, মহানগর জামায়াতের আমির আব্দুল জাব্বার, মাইনুদ্দিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন এমপি আল আমিন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আল আমিন হাতেমকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাকে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলে অভিযোগ। এ সময় এনসিপির কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন বলেও দলীয় সূত্র দাবি করেছে। তবে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ভিন্ন একটি দিক। আল আমিন যে রাজনৈতিক জোটের সমর্থনে নির্বাচন করেছেন, সেই জোটের শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর দুই শীর্ষ নেতা একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও অবরুদ্ধ পরিস্থিতিতে তাদের এমপির পাশে দেখা যায়নি এমন অভিযোগ উঠেছে। বরং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এমপি অবরুদ্ধ থাকাকালীন সময়েই আব্দুল জাব্বার ও মাইনুদ্দিনকে হাতেমের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গেছে।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে জোটের শরিক দলের একজন সংসদ সদস্য অবরুদ্ধ ও দলীয় কর্মীরা আহত হওয়ার পরও কেন জামায়াত নেতারা এটিকে কেবল ‘অনাকাঙ্খিত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করলেন? প্রশাসন যখন এমপি আল আমিনকে উদ্ধার করে, তখন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মহানগর জামায়াতের আমির আব্দুল জাব্বার বলেন, “এটি একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা। আমরা সবাই মিলে আলোচনা করে সমাধান করে ফেলবো।” তার এ বক্তব্য ঘিরেই সমালোচনা শুরু হয়। অনেকে মনে করছেন, ঘটনার গুরুত্বের তুলনায় বক্তব্যটি ছিল অত্যন্ত সংযত এবং দায় এড়ানোর প্রচেষ্টা।
এদিকে জামায়াতের আরেক নেতা মাইনুদ্দিনকেও অবরুদ্ধ অবস্থায় এমপি আল আমিনের সঙ্গে দেখা যায়নি। বরং তাকে হাতেমের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে জামায়াতের এ দুই নেতার অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে জামায়াত নেতা আব্দুল জাব্বার ও মাইনুদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে বলে জানা যায়।
বিসিক শিল্পাঞ্চলের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ বাড়ছে। জোট রাজনীতি, অবস্থানগত স্পষ্টতা এবং নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে এখন নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত এ বিতর্ক আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


