Logo
Logo
×

রাজনীতি

ইফতার রাজনীতি পরিহার

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

ইফতার রাজনীতি পরিহার

ইফতার রাজনীতি পরিহার

Swapno

স্বৈরাচার সরকার আমলে ও পতনের পরেও সংযমের মাস পবিত্র মাহে রমজানকে ঘিরে সর্ব প্রথম ইফতার রাজনীতিতে ব্যস্ত ছিল বিএনপি। রমজানে দলীয় সকল কার্যক্রম বন্ধ রেখে সাংগঠনিক কাজে গতি নিয়মিত কোন না কোন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন বিএনপি। তা ছাড়া বিগত দিনে বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে আন্দোলনসহ দলীয় সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধির লক্ষ্যে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা করতেন বিএনপি। যেখানে বিএনপি নেতাদের আলাদা একটি মিলনমেলা লক্ষ্য করা যেত। এর বাহিরে ও জনগণের সম্প্রতি পেতে ইফতার সামগ্রী নিয়ে সাধারণ জনগণের পাশে থাকতে দেখা যেত বিএনপি নেতাকর্মীদের। বিগত ১৮ বছর সেইভাবেই পরিচালিত হয়েছিলো রাজনৈতিক সৃষ্টাচার। কিন্তু চলতি বছরের (১২ ফেব্রুয়ারী) ত্রয়োদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন বিএনপি। বিজয়ের পর ক্ষমতায় এসেই বিগত টানা ১৮ বছরের সৃষ্টাচার ভূলে পবিত্র মাহে রমজান মাসের ১৩ তম রোজা চললে ও রমজানে বিগত দিনের মতো আমেজ রাখেনি বিএনপি। তা ছাড়া এ মাসে বিএনপি সাংগঠনিক কাজ জোরদার করার কোন পরিকল্পনা নেই। সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করে ঈদের পর এক দফা দাবি নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা করেছে বিএনপি। বিশেষ করে কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যায়ের কোন্দল নিরসন করে দলকে আরো ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এবার। মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন জেলা এবং অঙ্গসংগঠনের কমিটি নতুন ও পূর্ণাঙ্গ করা হবে তা নিয়ে ও নেই আলোচনা। এমনকি আগামী দিনগুলোতে পথচলার কৌশল সরূপ কোন কর্মসূচিতেই নেই এবার বিএনপি। শুধু বিজয়ের উল্লাস ভিতরে ভিতরে নিয়েই আছে বিএনপি নেতাকর্মীসহ এমপি-মন্ত্রীরা। যাকে ঘিরে এবার মন নেই ইফতার রাজনীতিতে।



জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপিকে একাধিক গ্রুপিং এবং কোন্দল সৃষ্টি হয়েছিলো। যাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অনেকটাই মনবল ভেঙে যাওয়ার অবস্থা থাকলেও রমজানকে ঘিরে কোন পদক্ষেপই রাখেনি দলীয় নেতাকর্মীরা। এদিকে ঈদের পরবর্তীতে সময়ে জেলা ও মহানগর বিএনপির পথচলা, অঙ্গসংগঠনে কি কি গতি প্রয়োজন, আগামী সিটি কর্পোরেশন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে কি পরিকল্পনা। এই সকল বিষয় নিয়ে মাঠে বিরোধী দল জামায়াত থেকে বিএনপিকে চাঙা রাখতে নানা উদ্বেগ কিছুই নেই এবারের রমজানে। তৃণমূলের নেতারা জানান, নির্বাচনের পরপরই প্রথম রমজান সেই ক্ষেত্রে রমজানে সংগঠন গোছানোর পাশাপাশি এবার ইফতার রাজনীতিকেও গুরুত্ব দেওয়ার দরকার ছিলো দলটির। এদিকে ইতিমধ্যে ছাত্রদলসহ কয়েকটি ওয়ার্ডের ইফতার মাহফিল লক্ষ্য করা গেলে ও বড় কোন ইফতার কর্মসূচির আওয়াজ এখনো আসেনি। যাকে ঘিরে ক্ষুব্দ বিএনপি নেতাকর্মীরা। অনেকেই বলছে, ক্ষমতা পেয়ে বিগত দিনগুলোতে আওয়ামী লীগের মতোই ইফতার রাজনীতি থেকে পা পিঁছিয়ে নিয়েছে দলটি।
এদিকে বর্তমানে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতি না ফিরিয়ে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর যারা সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন সেক্টর দখল করে অর্থ উপার্জন করে খেয়েছেন সংসদ নির্বাচনের পর সেই সকল সেক্টরে নতুন নেতাকর্মী দখলের পরিকল্পনার ছক আকা হচ্ছে।


সেই ছকের তালিকায় রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস ও তার সমর্থকদের দখলে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্টান। সিদ্ধিরগঞ্জ শিমরাইল এলাকার ইট বালুর ব্যবসা, কাউন্টার ব্যবসা, গার্মেন্টস ব্যবসা, ঝুট ব্যবসা, ষ্ট্যান্ড ব্যবসা এদের মধ্যে অন্যতম। তবে সবচেয়ে বেশী আদমজী ইপিজেডের দিকে নজর বিএনপি'র একাধিক গ্রুপের। বিশেষ করে যে সকল প্রতিষ্টান থেকে গিয়াসউদ্দিনের সমর্থকরা ব্যবসা করেছে সেইগুলো দখলের দিকে নজর পড়েছে নতুন সাংসদ সদস্যের বিএনপি নেতাদের। আর এই দখলে নব-নির্বাচত সংসদ সদস্য সমর্থন চান বিএনপি'র একাধিক গ্রুপ। এ লক্ষ্যে সোনারগা এলাকা দৌড়-ঝাপ করছন বিএনপি'র একাধিক গ্রুপ। তা ছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপির প্রার্থী আবদুল্লাহ আল আমিন জয়লাভ করেন। তুলনামূলকভাবে এই আসনটিতে এনসিপির কর্মী কম। তবে এনসিপি জয় লাভ করার পর বিশেষ করে ফতুল্লায় বেশ কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি এনসিপির ছায়াতলে গিয়ে নানা ধরণের অপরাধ করার পায়তারা করছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। ক্ষমতাসীন দলের বেশ কিছু এলাকাভিত্তিক নেতা এনসিপিতে তাদের অধীনস্তদের কৌশলে ভিঁড়ানোর চেষ্টাও করছেন বলে অভিযোগ। তাদের টার্গেট ফতুল্লা অঞ্চলের ঝুট,তেল,ঘাটসহ বিভিন্ন সেক্টরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে রাখা। ঈদের আগেই বিভিন্ন সেক্টরে যে কোনো সময় বড় ধরনের অরাজকতার আশংকা করছে অনেকে। তবে সাংসদ আল আমিন সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে থাকার যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, তিনি যদি এতে দৃঢ় না থাকেন তাহলে প্রতিটি সেক্টরেই বিশৃঙ্খলা লেগে যাবে ঈদের আগেই।  এতে করে এনসিপি যেমন বিতর্কের মধ্যে পড়ে যাবে সেই সাথে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে সন্ত্রাসীর জনপদের তকমা আরো গাঢ়ো হবে বলে মনে করছে স্থানীয়রা। যাকে ঘিরে বর্তমানে নির্বাচনের পরপরই ক্ষমতা পেয়ে আধিপত্য বিস্তারে ব্যস্ত দলটির নেতাকর্মীরা। যাকে ঘিরে এবার বিএনপিতে নেই কোন প্রকারের ইফতারী আমেজ বা ইফতার রাজনীতির সুবাস।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন