Logo
Logo
×

রাজনীতি

তাদের জন্য চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণই বড় চ্যালেঞ্জ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

তাদের জন্য চাঁদাবাজি  নিয়ন্ত্রণই বড় চ্যালেঞ্জ

তাদের জন্য চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণই বড় চ্যালেঞ্জ

Swapno


বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় নারায়ণগঞ্জ শহরের চাঁদাবাজি দুটি অংশে বিভক্ত ছিল। একটি তৎকালীন প্রভাবশালী পরিবারের সংসদ সদস্যের নিয়ন্ত্রণে যা উত্তর বলয় বা ওসমান বলয় নামে পরিচিত এবং অন্যটি নাসিক মেয়রের অনুগামীদের নিয়ন্ত্রণে যা মেয়র বলয় বা দক্ষিণ বলয় নামে পরিচিত ছিল। অনেকেই তাদের উত্তর বলয় বা এমপি বলয় এবং দক্ষিণ বলয় বা মেয়র বলয় বলে অভিহিত করতেন এবং বিভিন্ন সময়ই এক পক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে বক্তব্য দিতেন। তবে উত্তর বলয় বা এমপি বলয়ের চাঁদাবাজির পরিধি ছিল ব্যাপক এবং এই বিষয়ে প্রচারও ছিল বেশি। বর্তমানে এই দুটি পদেই নতুন প্রতিনিধি নিয়োগ পেয়েছেন। উত্তরের এমপি বলয়ের জায়গা নতুন এমপি হিসেবে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম নির্বাচিত হয়েছেন এবং দক্ষিণ বলয়ের মেয়রের জায়গায় প্রশাসক হিসেবে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নিযুক্ত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে এই দুইজনই ক্লিনম্যান হিসেবে পরিচিত। তাই এই দুইজনের দায়িত্বে শহরবাসীরা প্রত্যাশাও অনেক বেশি। তবে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এই দুই অভিভাবকের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
 
স্থানীয় লোকদের সাথে কথা বলে এবং বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের (শহর ও বন্দর) সংসদ সদস্য পদের দুইজন প্রতিনিধিই ছিলেন আওয়ামী লীগ কিংবা তাদের সমর্থনপুষ্ট। সে সময় শহরের নিতাইগঞ্জ থেকে শুরু করে ২নং রেলগেইট, দ্বিগুবাবুর বাজার, কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড, মাছঘাট এলাকা, বিভিন্ন পয়েন্টের অবৈধ ও ভাসমান ফুটপাত ব্যবাসায়ী, বিভিন্ন অবৈধ স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন অফিস-আদালত, কল-কারখানা থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হতো বলে এই দুই পক্ষ থেকেই একের বিরুদ্ধে অপরের অভিযোগ ছিল। গত ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পরও এসব সেক্টর নতুন লোকের হাতে হস্তান্তর হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনসহ সচেতন মহল নারায়ণগঞ্জ শহরের চাঁদাবাজদের দমনে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেছেন। কিন্তু কার্যত কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে সচেতন মহল দাবি করেন সর্ষের মধ্যেই ভুত থাকলে সেই ভুত তাড়ানো সম্ভব হয় না। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এই দুইজন যেহেতু একই দলের মনোনীত এবং সেই দলটি সরকারে আছে, তাই তাদের দুইজনের চেষ্টায় আন্তরিকতা থাকলে এই চাঁদাবাজি নিশ্চিহ্ন না হলেও তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাছাড়া তাদের দুইজনকেই যেহেতু নারায়ণগঞ্জবাসী ক্লিনম্যান ও সজ্জন হিসেবে জানে তাই তাদের ধারা এই কাজ সম্ভব বলেও মনে করেন তারা।
 
শহরবাসীর অভিযোগ নারায়ণঞ্জ একটি ব্যবসা-বাণিজ্য সমৃদ্ধ এলাকা হওয়ায় এই ছোট্ট শহরটিতেই অনেক লোকের বাস। বিশেষ করে এই নারায়ণগঞ্জ শহরকে কেন্দ্র করে প্রায় অর্ধ কোটি লোকের চলাচল। তাই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান। আর প্রতিদিন প্রতিটি সেক্টরে চাঁদাবাজির কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের প্রভাব পড়ছে এখানকার অধিবাসীর উপর। শহরে ফুটপাতে বসা একটি ঝালমুড়ি বিক্রেতার কাছ থেকে শুরু করে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানেও চলছে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি। রাস্তার পাশে দাঁড়ানো রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে বাস-ট্রাক ও বিভিন্ন যানবাহন থেকে চলছে চাঁদাবাজি। বাজারের খুচরা বিক্রেতা থেকে শুরু করে আড়ৎদারের থেকেও ছিল চাঁদাবাজি। এখন দেখার বিষয় এই দুই প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে চাঁদাবাজি কমাতে পারেন কি না।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন