আগামী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীতায়
জামায়াতের ডায়নামিক পরিকল্পনা
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
জামায়াতের ডায়নামিক পরিকল্পনা
বিএনপি নেতৃবৃন্দ যখন সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের মনোনয়ন বা সমর্থণের জন্য ঘুম হারাম করেছিলেন তখনই সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে শাখাওয়াত হোসেন খানকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেন সরকার। এবার বিএনপি নেতৃবৃন্দ যখন জেলা পরিষদের প্রশাসক হওয়ার দিকে নিজেদের ঘুরিয়ে নিয়েছেন,তখনো জামায়াত নীরবভাবে তাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে কিভোবে পৌছানো যায় সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন। সিটি কর্পোরেশণ নির্বাচনে বিশাল চমক দেখাতেই জামায়াত তার কর্মপরিকল্পনা এতিমধ্যে করে যাচ্ছেন ধীরগতিতে। বৃহৎদল বিএনপিতে যদি দলীয় কমান্ড মানা না হয় তাহলে সিটি কর্পোরেশণ নির্বাচনে জামায়াত এবার কারিশমা দেখাতে পারেন বলেও মনে করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ-৪ ও ৫ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত নেতারা যে কারিশা দেখিয়েছেন তা বিএনপির জন্য বলা চলে হুমকি স্বরুপ। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির ৩ প্রার্থীর ভোট টানাটানিতে জামায়াত সমর্থিত এনসিপির দলীয় প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন জয় পেয়ে যান। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে যখন বিএনপি জয়ের ব্যাপারে খুব আশা করছিলেন,তখন জামায়াত সমর্থিত এগারো দলীয় জোটের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন তার কারিশমা দেখিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। যদিও জয় পেয়েছেন বিএনপি তবুও বিএনপির প্রবীন নেতা অ্যাড.আবুল কালামকে অনেকটা ঘাম ঝড়াতে হয়েছে। এবার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে জামায়াত জোট তাদের চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক সূত্র। জামায়াতের জেলাও মহানগর নেতৃবৃন্দ দলীয়ভাবেই সিটিসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের কারিশা দেখাতে বদ্ধপরিকর বলেও জানা গেছে।
কেউ দল এবং দেশের জন্য রাজনীতি করেন। আবার কেউ নিজের আখের গুছাতে রাজনীতি করেন। দলকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনীতি করার নেতা খুব কমই আছে। তবে জামায়াত বা ইসলামী দলগুলোর মধ্যে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিড়য়ে কেউ বিদ্রোহী হওয়ার ইতিহাস খুব কম। এবারের জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে,নির্বাচনের মাঠ গুছানোর পরও দলীয় সিদ্ধান্তে মাঠ থেকে সরে দাড়িয়েছিলেন জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুল জব্বার। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুনের জয় ছিনিয়ে আনতে জামায়াত জোট নির্বাচনের মাঠে সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছিলেন। বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে যেখানে অনৈক্য সেখানে ইসলামী দলগুলোর নেতৃবৃন্দ দলের স্বার্থে সর্বস্ব বিলিয়ে দিতে থাকে সদা প্রস্তুত। দেশের অন্য দলগুলোর মধ্যে মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়া নিয়ে যখন বিরোধ থাকে তুঙ্গে,তখন ইসলামী দলগুলোর মধ্যে কোনো বিভাজন থাকলেও তা নিরবেই মিামংসা হয়ে যায়।
সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০২৭ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে অধ্যাপক মামুন মাহমুদ,যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন খান,মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড.আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মাসুদুজ্জামান মাসুদ,মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ,জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির নাম প্রার্থী হওয়ার খবর শুনা যাচ্ছে। তবে এরই মধ্যে শাখাওয়াত হোসেন খানকে নাসিকের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বাকিদের মধ্যে যাকেই দল মনোনয়ন দেবেন তার হয়ে মাঠে কাজ করলেও ভিতরে ভিতরে ক্ষোভ পুষে রাখেন। যা ইসলামী বা সমমনা দলগুলোর মধ্যে নেই। আর এই সুযোগটিই আগামী নাারয়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশণ নির্বাচনে কাজে লাগাবে জামায়াত জোট। যার মাধ্যমে সিটিতে বিএনপির ভোট ব্যাংকে কিভাবে বড় ধরনের আঘাত করা যায়,তাকেই সব দিক বিবেচনা করে প্রার্থীতা দেবেন জামায়াত জোট। তবে এর মধ্যে সর্বোচ্চ আলোচনায় রয়েছেন মাওলানা আব্দুল জব্বার ও এবিএম সিরাজুল মামুন। বিএনপি সিটিতে তৃণমুল থেকে চাওয়া প্রাথীকে মনোনয়ন বা সমর্থণ না দেন,তবেই সমূহ বিপদের আশংক রয়েছে বলে মনে করেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। অপরদিকে জামায়াত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে তাদের করনীয় বিষয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছন। অতএব, আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত ১১ দলীয় জোট কি কারিশমা দেখাবেন তা নিয়েও চলছে নানা বিচার বিশ্লেষণ।


