Logo
Logo
×

রাজনীতি

খুঁড়িয়ে চলছে ফতুল্লার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদ

Icon

যৃুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

খুঁড়িয়ে চলছে ফতুল্লার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদ

খুঁড়িয়ে চলছে ফতুল্লার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদ

Swapno

গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরগুলো বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের অন্যান্য ইউনিয়ন গুলোর মতোই মুখ থুবড়ে পড়ে আছে ফতুল্লার ৫টি ইউনিয়ন পরিষদ। এরমধ্যে শুধুমাত্র কুতুবুপুরের মনিরুল আলম সেন্টু ব্যতীত বাকি ৪িিট ইউনিয়ন পরিষদ চলছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে। ফলে জনগন তাদের কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আছে দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে। আওয়ামীলীগ সরকারে দলীয় চেয়ারম্যানরা বিভিন্ন মামলার কারনে এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়ে আছে। ফলে ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে চলছে এক ধরনের কর্মহীন কর্মঘন্টা। বিভিন্ন এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভঙ্গুর হয়ে আছে। সামাজিক বিচার ব্যবস্থাতাতে চলে এসেছে স্থবিরতা। ফলে জনসাধারণ কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও মনে করছেন অনেকে। এতামাত্র দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমেই ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে প্রাণ ফিরে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন জেলার মতো ফতুল্লার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বৈষশ্য বিরোধী মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান গ্রেফতার হয় মামলায়। জামিনে মুক্ত হয়ে তিনিও পলাতক রয়েছেন। আত্মগোপনে থেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাইফ উল্লাহ বাদল। আত্মগোপনে আছেন বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও  ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী, এছাড়াও ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল। তবে বহাল তবিয়তে নিজের ইউনিয়নে কাজ করে যাচ্ছেন কুতুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে খ্যাত শাহ নিজামের বন্ধু বিএনপি নেতা মনিরুল আলম সেন্টু। কুতুবপুর ব্যতীত ফতুল্লার বাকি ৪টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান না থাকায় গ্রামীন অবকাঠামো বিনির্মাণ তথা উন্নয়ন অনেকটা ধীর গতিতে চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন এলাকায় নাগরিক সমস্যা।

২০২১  সালে সর্বশেষ আওয়ামীলীগ সরকারের অধীনে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনে আওয়ামীলীগের সাংসদদের মনোনীত ব্যাক্তিরাই চেয়ারম্যান হয়েছেন। সেই সাথে যারা ইউপি সদস্য পদে নির্বাচন করেছেন তাদেরকেও সাংসদদের আশির্বাদে ইউপি সদস্য নির্বাচন করতে হয়েছে। এমন চিত্র সারা দেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের। শুধু মাত্র আওয়ামীলীগ দলীয় ব্যাক্তিরাই দলীয় নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেছেন। বাকি কিছু চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তবে তারা ছিলেন ড্যামী প্রার্থী। তবে ফতুল্লার কুতুবপুরে বিএনপি নেতা মনিরুল আলম সেন্টুকে আওয়ামীলীগের দলীয় নৌকা প্রতীক নিয়ে দিয়েছিলেন শামীম ওসমান হয়েছিলেন সমালোচিত। অপরদিকে যারা ইউপি সদস্য নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তাদেরকেও শামীম ওসমান ও তার দোসরদের নির্দেশ মেনে নির্বাচন করতে হয়েছে। ২০২৪ সালে গনঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামীলীগের মনোনীত চেয়ারম্যান ও বেশ কিছু ইউপি সদস্যও গা ঢাকা দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী মামলা দায়ের হওয়ার কারনে তারা এলাকা ছাড়া হয়ে আছে। বর্তমানে যারা দায়িত্ব পালন করছেন তারা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। এতে ইউনিয়ন পরিষদের গুরুত্বপূর্ন অনেক সিদ্ধান্তও তারা নিতে পারছেন না। ফলে জনগন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও অভিমত বিশিষ্ঠজনদের।



তথ্য মতে,ইউনিয়ন পরিষদ গ্রামীণ এলাকার সর্বনিম্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। যার প্রধান কাজ হলো নিজ এলাকায় প্রশাসনিক, উন্নয়নমূলক, বিচারিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা। স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ,১৯৮৩ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ রাস্তাঘাট,শিক্ষা,স্বাস্থ্য,পরিবার পরিকল্পনা, পয়ঃনিষ্কাশন, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, গ্রামীণ অবকাঠামো যেমন গ্রামীণ রাস্তাঘাট, কালভার্ট, সাঁকো,বাঁধ, স্কুল-কলেজ, গ্রন্থাগার এবং খেলার মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন,জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র হালনাগাদ,বিভিন্ন নাগরিক সনদ (চারিত্রিক সনদ, উত্তরাধিকার সনদ) প্রদান এবং ভূমি কর বা অন্যান্য কর আদায় করা, গ্রাম পুলিশ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইউনিয়ন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পুলিশকে সহায়তা করার মতো জনগুত্বপূর্ন কাজগুলো ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমেই হয়ে থাকে।  



ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যা গরিষ্ঠ আসন নিয়ে সরকার গঠন করে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দায়িত্ব গ্রহনের পর গত ১৯ ফেব্রয়ারী তিনি বলেছেন,যত দ্রুত সম্ভব পৌর-সিটি ও উপজেলা নির্বাচনের ব্যবস্থা তিনি করবেন। তথ্যমতে আগামী, চলতি বছরের মে মাসে  ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মেয়াদ শেশষ হবে। সেই মতে যতো দ্রুত সম্ভব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এমনটিই বিশিষ্ঠজনদের মন্তব্য।  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন