আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে
ভোটের দুর্গে কে হানবে আঘাত
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
ভোটের দুর্গে কে হানবে আঘাত
সদ্য অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এইনির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে অ্যাড.আবুল কালামের দূর্গে আঘাত হেনেছিলো এবিএম সিরাজুল মামুন ওরফে মোল্লা মামুন। ১২ হাজারের কিছু ভোট বেশি পেয়ে জয় হয়েছেন আবুল কালাম। অনেকটা নীরব ভোট বিপ্লব ঘটিয়ে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন জামাত সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মামুন ওরফে মোল্লা মামুন। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মহানগর জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুল জব্বার দলীয় সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সরে দাড়িয়েছিলেন,তবে থেমে থাকেনি তাঁর কারিশমা। জামায়ত সমর্থিত এনসিপির আব্দুল্লা আল আমিনকে কি করে নির্বাচনের বৈতরনী পাড় করে নিয়ে আসা যায় সে বিষয়ে একেছিলেন ছক। তাঁর ছকের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন বিএনপি জোটের জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মাও.মনির হোসেন কাশেমী। এনসিপির আল আমিন ২৫ হাজারের কিছু ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এরমূল কারিশমা ছিলো মাওলানা আব্দুল জব্বার। এমনটিই জানিয়েছেন একাধিক সূত্র। এবার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মোল্লা মামুন অথবা মাও.জব্বার, এবং মাওলানা মাইনুদ্দিন আহমেদ, যদি ১১ দলীয় জোটের সমর্থন পান,তাহলে ভোটের সমিকরণ তথা ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। জামায়াত জাতীয় নির্বাচনে যে ছক করেছিলেন,এবার সেই ছক আরো সুশৃঙ্খল করে এনসিসি নির্বাচনে নিজেরা জয় ছিনিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর বলেও জানিয়েছেন একাধিক সূত্র।
২০২৪ সালের ৫ আগেষ্টর পর সারা দেশে আওয়ামলীগ সরকার পতনের ম্যাটিকুলাস ডিজাইনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বড় ভুমিকা পালন করেছে বলে দাবী করে আসছিলো। যদিও এই আন্দোলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিসহ অন্ন্যান্য দলগুলো ছাত্র আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করে সরকার হটানোর পথকে ত্বরান্বিত করেছিলো। তবে এক পর্যায়ে সারা দেশে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলেনর বেশির ভাগ নেতাদেরই জাাময়াত নেতৃবৃন্দের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে দেখা গেছে। যদিও মাঝখানে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা এনসিপির নেতাদের সাথে জামাতের কিছু বিষয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিলো,কিন্তু শেষ পর্যন্ত এনসিপি জামায়াতের সাথে জোটবব্ধ হয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে। জাতীয় নির্বাচনে জামাত তথা ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করতে পারেনি। তবে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এখনো জামাত প্রশ্ন তুলে যাচ্ছে। সরকার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের দিকে এগুচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে হারের বিষয়টি ১১ দলীয় জোট মেনে নিতে পারেনি। তবে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জে অনেকটা হিসেব নিকেষ করেই এগিয়ে যাবেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
গনঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে অপসারণ করে। জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দিয়ে জনগনের সেবাগুলোকে ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো.সাখাওয়াত হোসেন খান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড আবু আল ইউসুফ খান টিপু, শিল্পপতি আবু জাফর চৌধুরী বাবুল, মাসুদুজ্জামান মাসুদ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চাইতে পারেন বলেও বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছেন। বিএনপির হাই কমান্ড সেক্ষেত্রে ভেবে চিন্তে হেভিওয়েট প্রার্থীকেই বেছে নেবেন । তবে সেক্ষেত্রে,জামায়াত তথা ১১ দলীয় জোট তাদের জোটের পক্ষ থেকে মাওলানা আব্দুল জব্বার অথবা খেলাফত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মামুনকেই সমর্থণ দেবেন বলে অনেকটা নিশ্চিত করেছেন সূত্র।
বিএনপির মধ্যে দলের চেইন অব কমান্ড মানার বিষয়টি বাহ্যিকভাবে থাকলেও মূলত পর্দার পিছন দিক থেকে অনেকেই মনোনীত ব্যাক্তির বিপরীতে কাজ করেন বলেও ইতিহাস রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে এমনটি নেই বল্লেই চলে। আগামী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি যাকেই সমর্থণ করুকনা কোনো জয় ছিনিয়ে আনতে বেগ পেতে হতে পারে । যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ ও ৫ আসনে ভোটের ফলাফল হিসেব করলে অনেকটা পরিস্কার। কে হানবেন নারয়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ভোট ব্যাংকে আঘাত তা আগামী রমজানের পরেই দেখা যাবে বলে মনে করছে বিশ্লেষক মহল।


