কেন জামানত হারালেন হাতপাখার পাঁচ প্রার্থী
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
কেন জামানত হারালেন হাতপাখার পাঁচ প্রার্থী
সদ্য অনুষ্ঠিত হওয়া ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনা বিশ্লেষন চলছে। কেননা নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থীরা শক্তিশালী ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। নারায়ণগঞ্জের ৪টি আসনে বিএনপির নির্বাচিত এমপির কাছে অল্প ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের প্রার্থীরা পরাজীত হন। কিন্তু প্রথাম বারের মত নারায়ণগঞ্জে জামায়াত এত বিশাল ভোট পেয়েছে। তবে তারা বিগত নির্যাতনের সিকার হয়েও ভালো করেছে।
কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বিগত সময় নির্বাচনের অংশ গ্রহন করেছে, এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে থেকে এবারের নির্বাচনে তাদের ফলাফলে হতাশ কর্মী সমর্থকরা। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই ইসলামী আন্দোলন চরমোনাইয়ের দলের ৫ এমপি প্রার্থীর জামানত হারান। অথচ দলটির হাই কমান্ড বলেছে তাদের ১৪৩ টি আসন এ গ্রেডের রয়েছে। যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। যা নিয়ে সর্বত্রে আলোচনা তৈরী হয়েছে।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে পাঁচটি আসনেই দলটির প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচন শেষে ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা গেছে। তবে জেলার প্রতিটি আসনেই ভোটের হার ছিল তুলনামূলকভাবে কম, যা জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ভোটের সীমা অতিক্রম করতে পারেনি।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার তথ্যমতে, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোঃ ইমদাদুল্লাহ পেয়েছেন ৭ হাজার ১৮৬ ভোট। একইভাবে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে মোঃ হাবিবুল্লাহ পেয়েছেন ৫ হাজার ২৬৫ ভোট। এই দুই আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে ভোটের ব্যবধান ছিল অনেক বেশি।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে দলটির প্রার্থী গোলাম মসীহ্ তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি ভোট পেলেও তা ছিল ১৪ হাজার ২২৩, যা জামানত রক্ষার জন্য যথেষ্ট হয়নি। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মোঃ ইছমাঈল হোসেন সিরাজি পেয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪৬ ভোট, আর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মুফতি মাসুম বিল্লাহ পেয়েছেন ৭ হাজার ৭০৮ ভোট। নির্বাচনের মাঠে জামানত রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ভোট পান নাই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে স্থানীয়ভাবে সাংগঠনিক দুর্বলতা, নির্বাচনী মাঠে সীমিত প্রচার এবং শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের উপস্থিতির কারণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কাঙ্খিত ভোট সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছে। তাছাড়া ভোটের মাঠে প্রচার প্রচারনায় তেমন ভাবে মানুষের কাছে পৌছাতে পারেন নাই তারা। এছাড়া সারা বছরে জোটে থেকে হঠাৎ করে জোট থেকে বের হয়ে যাওয়া নির্বাচনের মাঠ গুছাতে পারেন নাই। যার প্রভাব ভোটের মাঠে পড়ে। নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা হতাশা প্রকাশ করলেও ভবিষ্যতে সংগঠন শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলার নেতৃবৃন্দ।
মহানগর ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমরা আদর্শিক ভাবে ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। আমরা মানুষের কল্যানের জন্য রাজনীতি করি। তবে ২০২৪ সনের ৫ আগষ্টের পরে নির্বাচনের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত আমরা ১১ দলীয় জোটে থেকে নানা কর্মসূচি পালন করেছি। কিন্তু হঠাৎ করে জোট থেকে বের হয়ে যাওয়া মাঠ গুছানোর জন্য আমরা তেমন সময় পাই নাই। এছাড়া আমাদের কর্মীরা মানুষের ঘরে ঘরে যেতে পারে নাই। যা আমাদের পরাজয়ে অন্যতম কারণ। সামনের দিন গুলোতে আমরা আরও ভালো করবো।


