Logo
Logo
×

রাজনীতি

শিল্প-কারখানায় নয়া টার্গেট

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

শিল্প-কারখানায় নয়া টার্গেট

শিল্প-কারখানায় নয়া টার্গেট

Swapno

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই নগরজুড়ে আবারো মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে চাঁদাবাজ ও সেক্টর নিয়ন্ত্রণ গ্রুপ। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেড ও বিসিক শিল্প-কারখানাসহ বিভিন্ন সেক্টরে ঝুট সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির হাত বদলে নিতে নয়া গ্রুপের আর্বিভাব। এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন আজহারুল ইসলাম মান্নান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় পাল্টে যাচ্ছে সিদ্ধিরগঞ্জের সকল সেক্টর নিয়ন্ত্রনের হিসাব নিকাশ।


বিশেষ করে আদমজী ইপিজেডের দিকে বিএনপি'র একাধিক গ্রুপের নজর পড়েছে। নব-নির্বাচিত এমপি'র সমর্থন নিতে এবং তার ছেলে জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজিবের শেল্টার নিতে ইতিমধ্যে বিএনপি'র একাধিক গ্রুপ দৌড়-ঝাপ শুরু করেছে। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিপুল ভোটে পরাজিত হয় বিএনপির জোটের প্রার্থী।


এই আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপি নেতা আব্দুল্লাহ আল-আমিন সাংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় বর্তমানে গত ৫ই আগষ্টের পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থকতে তাদের দলীয় সন্ত্রাসীরা শিল্প-কারখানাগুলোতে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে চাঁদাবাজি করত। তাদের পতনের পর এবার বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে নব্য সন্ত্রাসীরা এসব শিল্প-কারখানাগুলো দখল ও চাঁদাবাজিতে মেতে উঠে দখলে নিয়ন্ত্রণ নেওয়া চাঁদাবাজরা এখন আল-আমিনের সঙ্গে ন্যাগোসিয়েশন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বিভিন্নভাবে পার্সেন্টিজ ব্যবসায় থাকতে চাইছে নেতারা।


সূত্র জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা বিসিকে প্রায় ৫০০ তৈরি পোশাক ও নিটিং কারখানা রয়েছে। এসব কারখানার ঝুট কাপড়, সুতার কোন, কার্টুনসহ বিভিন্ন ওয়েস্টেজ পণ্যের ব্যবসা এত দিন নিয়ন্ত্রণ করতেন শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমান ও ভাতিজা আজমীর ওসমান। ব্যবসায়ীদের দাবি, তাদের নামে কিছু লোক ঝুটসহ অন্যান্য পণ্য কারখানা থেকে বিনা মূল্যে বা নামমাত্র দামে নিয়ে যেতেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির নেতা, স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, ছাত্রদল এই সকল সেক্টর নিয়ন্ত্রনে নেন।


দীর্ঘ দেড় বছর এক চেটিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখার পর সদ্য সাংসদ নির্বাচনে নব-নির্বাচিত সাংসদ সদস্যের পিছনে শেল্টার নিতে চালাচ্ছেন দৌড়ঝাঁপ। একই সাথে সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন সেক্টর নতুন করে হাত বদলের পরিকল্পনা চলছে। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর যারা সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন সেক্টর দখল করে অর্থ উপার্জন করে খেয়েছেন সংসদ নির্বাচনের পর সেই সকল সেক্টরে নতুন নেতাকর্মী দখলের পরিকল্পনার ছক আকা হচ্ছে । সেই ছকের তালিকায় রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস ও তার সমর্থকদের দখলে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্টান।


সিদ্ধিরগঞ্জ শিমরাইল এলাকার ইট বালুর ব্যবসা, কাউন্টার ব্যবসা, গার্মেন্টস ব্যবসা, ঝুট ব্যবসা, ষ্ট্যান্ড ব্যবসা এদের মধ্যে অন্যতম। তবে সবচেয়ে বেশী আদমজী ইপিজেডের দিকে নজর বিএনপি'র একাধিক গ্রুপের। বিশেষ করে যে সকল প্রতিষ্টান থেকে গিয়াসউদ্দিনের সমর্থকরা ব্যবসা করেছে সেইগুলো দখলের দিকে নজর পড়েছে বিএনপি নেতাদের। আর এই দখলে নব-নির্বাচত সংসদ সদস্য মান্নানের সমর্থন চান বিএনপি'র একাধিক গ্রুপ। সাথে সাথে মান্নানের ছেলে জেলা যুবদলের নেতা সজিবের সেল্টারও চাচ্ছেন তারা।


এ লক্ষ্যে সোনারগা এলাকা দৌড়-ঝাপ করছন বিএনপি'র একাধিক গ্রুপ। তবে বিএনপি' একটি গ্রুপ বলছেন, নতুন যতই গ্রুপ আদমজী ইপিজেড দখল নিয়ে নব-নির্বাচিত এমপি মান্নান ও তার ছেলে সজিবের কাছে দৌড়-ঝাপ করুক আদমজী ইপিজেড তাদের দখলেই থাকবে যারা মান্নান ও সজিবের সবচেয়ে কাছের লোকজনদের নিয়ন্ত্রণেই রাখবেন। এমনভাবে নারায়ণগঞ্জের শিল্প কারখানাগুলোকে টার্গেট করে নয়াভাবে এগুচ্ছে কয়েকটি গ্রুপ। বর্তমানে বিত দেড় বছরের মতো আধিপত্য ধরে রাখতে নানা কৌশলীভাবে কাজ করছেন গ্রুপ চক্রের সক্রিয় সদস্যরা।


এ বিষয়ে উভয় আসনের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ হলে তারা বলেন, তাদের কর্মীরা বিভিন্ন কারখানায় গিয়েছিলেন। তবে তিনি দাবি করেন, আমরা কোনো চাঁদাবাজি চাই না। অতীতে যেভাবে কারখানার ঝুট বিক্রি হয়েছে, আমরা সেভাবেই সমঝোতার মাধ্যমে কাজটি করতে চাই।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন