নবাগত সাংসদ আলআমিনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
নবাগত সাংসদ আলআমিনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের আগে এই শহর ছিলো অভিশপ্ত ওসমান পরিবারের হাতে জিম্মি। আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের গার্মেন্টস,মাঠ,ঘাটসহ বিভিন্ন সেক্টর। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিভিন্ন সেক্টরে চলেছে দখল বানিজ্যসহ চাঁদাবাজী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন জয় লাভ করেছেন। চ্যালেঞ্জিং এই আসনে কতোটা চ্যালেঞ্জ সাংসদ আল আমিন নিতে পারবেন তা সময় বলে দেবে মনে করছে অনেকে। এই আসনটিতে বিএনপির বেশ প্রভাব রয়েছে। আওয়ামীলীগের শাসনামলে বিএনপির অনেকে নেতা গোপনে আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে মিলেমিশে ব্যবসা বানিজ্য করেছেন। অনেকে বিএনপির বিতর্কিত ও প্রভাবশালী নেতাদের মাসিক টাকাও পাঠাতেন বলে চাউর রয়েছে।
প্রভাবশালী পরিবারের যুবরাজখ্যাত সন্ত্রাসীকে এখনো বিএনপির আরেক প্রভাবশালী নেতা বিসিক থেকে প্রতিমাসেই খরচ দিয়ে যাচ্ছেন বলেও একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন। ফতুল্লার বিভিন্ন সেক্টর দখলে আছে অনেকের। এনসিপির সাংসদ আব্দুল্লাহ আল আমিন তাঁর আসনকে মাদক,সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ মুক্ত করতে চ্যালেঞ্জ নিতে হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সন্ত্রাসের জনপদ নামে খ্যাত নারায়ণগঞ্জ। বিশেষ করে গড ফাদার শামীম ওসমানের এই আসনটিতে যেমন রয়েছে মাদক কারবারী তেমনি রয়েছে সন্ত্রাসী। বিএনপি অধ্যুষিত এই অঞ্চলে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর বিভিন্ন সেক্টর অনেকে দখলে রয়েছে। এলাকা ভিত্তিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙ্গিয়ে চলছে মাদক ব্যবসা। অনেকে দখল করে রেখেছেন ঝুট, অবৈধ জ¦ালানী তেলের সেক্টরও।
এসমস্ত সেক্টর উৎখাত করতে হলে নব নির্বাচিত সাংসদ আব্দুল্লাহ আল আমিনকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জে পড়তে হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। শুধু বিভিন্ন সেক্টরই নয়,এই অঞ্চলে রয়েছে জলাবদ্ধতার মতো বিশাল জন দুর্ভোগ। এই জন দূর্ভোগ লাগবে বিতর্কিত সাংসদ শামীম ওসমান বিভিন্ন সভা সমাবেশে বড় বড় বুলি আওড়ালেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিভিন্ন রাস্তাঘাটের ও বেহাল দশা। এই বিশাল জনগোষ্ঠির উন্নয়ন ও দূর্বিত্তায়ন ভাঙ্গতে হলে সাংসদ আল আমিনকে অনেক হিসেব নিকেষ করে চলতে হবে বলেও মনে করছেন বিভিন্ন মহল।
সূত্র মতে,ফতুল্লার বিসিকে রয়েছে একাধিক ঝুট সন্ত্রাসের বলয়। অপরদিকে ফতুল্লার মেঘনা ও যমুনা জ¦ালানী তেল ডিপোকে ঘিরে রয়েছে একাধিক চোরাই তেল সিন্ডিকেট,ফতুল্লার প্রতিটি এলাকায় রয়েছে বড় ছোটো মাদকের ডিলার। এগুলো প্রতিহত করতে গিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে সাংসদ আল আমিনকে । তবে দল মত নির্বিশেষ সবার মুখে হাসি ফোটাতে ও সন্ত্রাসের জনপদের তকমা মুছে ফেলতে এই নতুন সাংসদকে চ্যালেঞ্জ নিতেই হবে।
আব্দুল্লাহ আল আমিনের জন্য যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ তা হলো, সকল শিশু ও যুবককে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা, স্কুল ও কলেজে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা, কাইল্লানি খাল দখলমুক্ত করা এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা,বিসিক শিল্পাঞ্চলের জুট সেক্টরের সিন্ডিকেট ভাঙ্গা,রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যবসা কার্যক্রম নিশ্চিত করে শিল্পের স্বাভাবিক প্রবাহ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি,শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,ছিনতাইকারী, সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের হাত থেকে সাধারণ জনগণ ও শ্রমিকদের সুরক্ষা
মাদক দমন ও জিরো টলারেন্স নীতি প্রয়োগ,যুব সমাজকে সুস্থ, সুরক্ষিত ও সঠিক পথে পরিচালিত করা,বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা,শিক্ষিত ও সচেতন শিশু-যুবক গড়ে তোলা,চলাচলের রাস্তা ও পাসেজ দখলমুক্ত করা,ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চাঁদাবাজি বন্ধ করা,এনায়েতনগর,ফতুল্লা, কুতুবপুর, কাশিপুর, গোগনগর ইউনিয়নের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নসহ শহরের জলাবদ্ধতা দূর করার ব্যাপারেও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে আল আমিনের। এমনই মনে করছে নাারয়ণগঞ্জ-৪ আসনের সর্বস্তরের জনগন।
নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর আব্দুল্লাহ আল আমিন গনমাধ্যমকে বলেছেন, এই অঞ্চল (নারায়ণগঞ্জ-৪) পরিচিত ছিলো নেগেটিভ ব্রান্ডিং ও গডফাদার শামীম ওসমানের আসন হিসেবে। এ আসনকে আমরা একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও পজেটিভ এলাকা হিসেবে গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ। সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ-মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য এলাকাকে কঠিন করে তুলবো। নারায়ণগঞ্জ হবে সুন্দর,ভালো মানুষের জনপদ।


