ফতুল্লা থানা বিএনপিতে বিভক্তি
দীর্ঘ ১৭ বছর জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো ছিলো কোনঠাসা। ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্টের পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ফিরে আসে। ওয়ার্ড থেকে ইউনিয়ন,ইউনিয়ন থেকে থানা,প্রতিটি সেক্টরে দলের নেতাকর্মীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। তবে জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে ফতুল্লা থানা বিএনপি ৩ ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফতুল্লা থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কারনে বহিস্কার হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য শিল্পপতি শাহ আলম।
সেই সাথে একই অভিযোগে দল থেকে সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিনকেও বহিস্কার করা হয়। এই দুই বহিস্কৃত নেতাদের পিছনে থেকে যারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের প্রার্থীর বিপরীতে কাজ করেছেন,তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও ফতুল্লায় ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে,জোটের প্রার্থীর পক্ষে যারা কাজ করেছেন এবং যারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে বিএনপির জোটের প্রার্থীর ভরাডুবির পিছনে কল কাঠি নেড়েছেন তাদের মধ্যে সামনে সংঘর্ষের আশংকা করছেন অনেকে। সূত্র মতে,বিভিন্ন সেক্টর ভাগাভাগি নিয়েও চলবে একই দলের দ্বিমুখী আচরণ। এমনইটিই মনে করছে বিশ্লেষক মহল।
শিল্পাঞ্চলখ্যাত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন। শুধু জনসংখ্যার দিক থেকেই নয়,ভৌগোলিক দিক থেকেও এই আসনটির সমান গুরুত্ব রয়েছে। এই আসনে বিএনপির সমর্থক তুলনামূলকভাবে কম নয়। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সীমানা নির্ধারণ নতুন করে হওয়ার কারনে সিদ্ধিরগঞ্জ এই আসনটি থেকে আলাদা হয়ে যায়। ফলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন ফতুল্লা থানা এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
এই আসনে জামায়াত সমর্থিত এনসিপি জয় লাভ করেছেন। তবে এখনো বিভিন্ন সেক্টর বিএনপি নেতাকর্মীদের দখলেই রয়ে গেছে। বিএনপির একচ্ছত্র আধিপত্যের মধ্যে এখন ৩টি ভাগে হয়েছে। কোনোভাবেই জোট সমর্থিত কর্মীরা স্বতন্ত্র সমর্থিত কর্মীদের ছাড় দেবেনা। এমন তথ্যই নিশ্চিত করেছেন সূত্র। আর এ কারনে অল্প কিছু দিনের মধ্যে বিভিন্ন সেক্টরে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এনসিপির সাংসদ আব্দুল্লাহ আল আমিন কতোটা বিচক্ষণতার সাথে এই আসনটিতে সংঘর্ষ প্রতিরোধ করতে পারবেন তা নিয়েও চলছে নানা বিচার বিশ্লেষণ।
ফতুল্লার বেশ কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘ বছর পর তারেক জিয়া দেশে ফিরে ’আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বলে দেশবাসীকে ম্যাসেজ দিয়েছিলেন। তার এ ম্যাসেজে তিনি বুঝাতে চেয়েছেন,দেশে তিনি ক্লিন ইমেজের রাজনীতি করবেন। নিজ দলের মধ্যে কোনো রকম অরাজক পরিস্থিতি তিনি মেনে নিবেন না। দেশকে এগিয়ে নিতে এবং বিএনপির রাজনীতিতে যাতে কোনো ধরনের কূট কৌশল কেউ করতে না পারেন সে ব্যাপারেও তিনি কঠোর হবেন।
সারা দেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জোট প্রার্থীর বিরুদ্ধে যারা কাজ করে জোটের প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন পরোক্ষভাবে তারা তারেক জিয়াকেই পরাজিত করেছেন। অতএব, ভবিষৎতে দলের ক্ষতি যারা করেছেন তারা কোনোভাবেই ছাড় পাবে না। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, যারা বিদ্রোহীর হয়ে কাজ করেছেন তাদের একটাই পরিচয় হবে তারা দলের কেউ নন। তারা বিএনপি দলের লোক হিসেবে পরিচয় দিলেই তাদের প্রতিহত করা হবে।
ফতুল্লাবাসী মনে করেন,এই আসনে যদিও এনসিপির প্রার্থী জয় লাভ করেছন তবুও এখানে বিএনপি নেতৃবৃন্দ প্রভাব খাটাবেন। এই প্রভাবের কারনে সাংসদ আব্দুল্লাহ আল আমিন কতোটা সুবিধা করতে পারবেন এ নিয়েও রয়েছে নানা সংশয়।
এব্যাপারে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, সার্বিক পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে যদি বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকতো তাহলে বিএনপিকে এই আসনটি হারাতে হতো না। বিদ্রোহীরা মূলত এলাকা ভিত্তিক বিএনপির কর্মীদের কাঁধে ভর করেই নির্বাচনী বৈতরনী পাড় হতে চেয়েছিলেন। আর তাদের কারনেই জোট প্রার্থী পরাজয় বরণ করেন।
তবে ফতুল্লা থানা বিএনপির বেশিরভাগ নেতাই জোটের প্রার্থীর হয়ে দিন রাত পরিশ্রম করেছেন। যার কারনে খেজুর গাছ প্রতীক নিয়েও জোট প্রার্থী ৮০ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়েছেন। যারা দলের সাথে বেঈমানী করেছেন তারা দলের পরিচয় দিতে পারবে কিনা তা দলীয় নীতি নির্ধারনী ফোরামই সিদ্ধান্ত নিবেন। দলের কোনো সুযোগ সুবিধা তারা পাবেন না,এমনকি তাদের সাথে বিএনপির কোনো সম্পর্কও থাকবে না বলেও তিনি মনে করেন।
এব্যাপারে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার বলেন, বিএনপি একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ দল। নির্বাচনে কারা জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন তা কেন্দ্র জানেন। অপরদিকে প্রতিটি ওয়ার্ডে কোন কোন কর্মী জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন তারও একটি তালিকা করা হচ্ছে থানা ভিত্তিক। তারা বিএনপি দলীয় কর্মীর পরিচয় দিতে পারবে কিনা তা ভবিষৎই নির্ধারণ করবে।


