সন্ত্রাসের বরপুত্র আজাদকে মঞ্চ থেকে সরিয়ে দিলেন তারেক রহমান
যৃুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
সন্ত্রাসের বরপুত্র আজাদকে মঞ্চ থেকে সরিয়ে দিলেন তারেক রহমান
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের বিরুদ্ধে যেন বিতর্ক কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। ২০২৪’র গণঅভুত্থানের পর একের পর এক অপকর্মে বিএনপির দুর্নানের বরপুত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কুখ্যাত ছাত্রলীগ নেতা এবং সাবেক সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবুর মতো একই রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন আজাদ। গত দেড়বছরে আড়াইহাজারের সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক, স্থানীয় বাসিন্দা, হাট-ঘাট সব জায়গাতেই আজাদের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ। এতো বিতর্কের সবই জানা ছিল বিএনপির। তবুও জিয়া পরিবারের এক সদস্যর বদন্যতায় এমপি মনোনয়ন পান আজাদ।
তবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজাদের কুকর্মের অনেক কিছুই জানতে পেরেছিলেন লন্ডনে বসেই। তবে দেশে ফেরার পর আজাদের কুকীর্তির ফিরিস্তি জানার পর আজাদের উপর এক প্রকার বিরক্ত তারেক রহমান। চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে কাঁচপুরের জনসভায় সেই চিত্রের দেখা মিলল প্রকাশ্যে। চাঁদাবাজিতে চ্যাম্পিয়ান নজরুল ইসলাম আজাদকে মঞ্চে নিজের পাশ থেকে সরিয়ে দিলেন তারেক রহমান। আজাদকে রীতিমত অপমান করে মঞ্চের এক পাশে সরিয়ে দেয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অবশ্য বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, এটা হওয়ারই কথা ছিল। কারণ ব্যাপক দুর্নীতি আর চাঁদাবাজিতে আজাদ ধরাকে সরাজ্ঞান মনে করে আসছিল। হুমকি-ধমকি, চাঁদাবাজি আর অহংবোধে সে সবাইকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতো। তবে আজাদের এই কাণ্ডে ক্ষতি হয়েছে নারায়ণগঞ্জের বিএনপির অন্যান্য প্রার্থীদের। আজাদ মঞ্চে থাকায় বিএনপির অন্যান্য প্রার্থীদের সাথে দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দেয়ার পর্বটি করেননি তারেক রহমান। অনেকে বলছেন, আজাদের অতিরিক্ত তেলবাজি করতে যাওযার কারণেই তারেক রহমানকে এতো কাছে পেয়েও অন্যান্য প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ এই পর্বটি মিস করেছেন।
সূত্র জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জ-২ আড়াইহাজার আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। যিনি আড়াইহাজার গ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জ শহর পর্যন্ত বিএনপির প্রভাবশালী ও জিয়া পরিবারের একজন কনিষ্ট সদস্য নিজেকে জাহির করে আসলে ও গতকাল রাতে কাঁচপুরে নির্বাচনী জনসভায় আজাদ ও তারেক রহমানের গভীর সম্পর্ক ছিলো একটি প্রপাগান্ডা তা প্রকাশ্যে রূপ নিলো। বার বার জিয়ার পরিবার বিক্রি করা এই আজাদকে সি.এস.এফ দ্বারা ধাক্কা দিয়ে স্টেজের অন্য পাশে সরিয়ে দিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যা নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নানা আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নয়া পল্টন পার্টি অফিস, গুলশান পার্টি অফিস সব স্থানেই আজাদের আলাদাভাবে সেখানে ক্ষমতা দেখাতেন এমন গুঞ্জন উড়লে ও তা আজ প্রায় প্রকাশ্যে।
তথ্যমতে, নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে একটি গোপন কক্ষে তার সংসদীয় আসনের আওতাধীন আওয়ামী লীগের ৪৮ জন পলাতক নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে দুইজন পৌরসভা মেয়র, ১০ জন ইউপি চেয়ারম্যান, একজন উপজেলা চেয়ারম্যান ও একজন ভাইস চেয়ারম্যানসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। যাদের সবাই পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা। বৈঠকে উপস্থিত সবাইকে জানানো হয়, তারা যদি বিএনপি প্রার্থী আজাদের পক্ষে কাজ করেন, তাহলে সব মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন এবং এলাকায় ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত অধিকতর তদন্ত করে ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এবং একই সঙ্গে বিএনপি প্রার্থীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা। অনলাইন এক্টিভিস্ট পিনাকি ভট্র্চাার্জ এই তথ্য তার ফেসবুক আইডিতে পোষ্টা করলে তা নেটিজেনদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে জুলাই এর আগে ছাত্র দল নেতাকে হুমকি দিয়ে বিতর্কে পড়েন ধানের শীষের প্রার্থী। তারও মাস কয়েক আগে নজরুল ইসলাম আজাদের বিরুদ্ধে চাদাঁবাজি মামলা হয়। এই ভাবে একের পর এক তিনি নানা বিতর্কের মাঝে পড়েন। এজন্য ভোটের মাঠে চ্যালেঞ্জে রয়েছেন তিনি। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী আসনটিতে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম বাবু সহ সব ডাকসাইটে নেতা পলাতক থাকায় দুর্গটি দখলে নিতে মরিয়া বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ। আর এজন্য নানা বিতর্কের মাঝে থেকেও তার এমপি হওয়া চাই এমন মিশন নিয়ে মাঠে প্রভাব বিস্তার করে কাজ করছেন। ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ইলিয়াস মোল্লার ভোট ব্যাংক ধরে রেখে তারাও মানুষের ভোট টানার সাথে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের ভোট টানছে। নির্বাচন কমিশনের
তথ্যমতে, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে ভোটার ৩ লাখ ৫৯ হাজার, কেন্দ্র ১১৭, বুথ ৭০৬। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ নিজেদের ভোটের পাশা পাশি আওয়ামী লীগের ভোট টানতে তাদের কর্মী সমর্থকদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের মামলা থেকে রক্ষা করার জন্য নানা ভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন। এজন্য যারা বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে মামলার আসামী হয়েছেন তাদের বিষয়ে নানা বাবে ছাড় দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। কিন্তু পিছিয়ে নেই সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুরও। তিনি নানা কৌশলে আওয়ামী লীগের ভোট টানতে কলা কৌশলী নির্ধারণ করে মাঠে কাজ করছেন। তিন হেভিওয়েট প্রার্থীরই নজর আওয়ামী লীগের ভোটের দিকে। তাছাড়া সাধারন মানুষের ভোট টানতেও কেউ পিছিয়ে নেই। কেননা ভোটের মাঠে এই তিন প্রার্থীর মাঝে মুলত লড়াই হবে হ্ড্ডাা হা্িড্ড। বর্তমানে প্রভাব দেখানো আজাদ গতকালকের ঘটনার পরেই নারায়ণগঞ্জের হারিয়ে তার পার্সোনাল অবস্থান।


