Logo
Logo
×

রাজনীতি

নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে

১০ দলীয় জোটের প্রার্থী কে এই সিরাজুল মামুন

Icon

রাকিবুল ইসলাম

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

১০ দলীয় জোটের প্রার্থী কে এই সিরাজুল মামুন

১০ দলীয় জোটের প্রার্থী কে এই সিরাজুল মামুন

Swapno

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল গুলোর এমপি প্রার্থীরা ভোটের সমীকরণ নিয়ে সময় পার করছেন। ইতোমধ্যে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ ১১ দলীয় জোট থেকে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন থেকে বেরিয়ে একক ভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। আর এতে করে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মাঝে জামায়াতে ইসলামীর ৩টি আসনে প্রার্থীতা রয়েছে।


আর অপর দুটিতে খেলাফত মজলিস এবং এনসিপির প্রার্থী রয়েছে। তার মাঝে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ১০ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী  বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ইসলামী স্কলার ও সমাজসেবক এবিএম সিরাজুল মামুন। এখানে ইসলামী আন্দোলন বের হয়ে যাওয়ায় তাদের প্রার্থী হিসেবে মাসুম বিল্লাহ মাঠে রয়েছেন। তবে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীকে নিয়ে নানা হিসেব নিকেশ হচ্ছে।


সেই সাথে তাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। অনেক ভোটাররা প্রশ্ন তুলেন কে এই সিরাজুল মামুন। যদিও ত্রা বিপক্ষে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিএনপির তিন বারের এমপি আবুল কালাম প্রার্থী হয়ে মানুষের কাছে যাচ্ছেন। তাছাড়া তিন বারের এমপি হিসেবে তিনি ব্যপক পরিচিত। সেই তুলনায় অনেকটা চ্যালেঞ্জে পড়তে হচ্ছে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীকে।  


 খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ২০২২ সনের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের অংশ গ্রহন করেন এমি এম সিরাজুল মামুন। তিনি তুলনা মুলক ভাবে একে বারে কম ভোট পান নাই বলে জানান তার কর্মী সমর্থকরা। তথ্যমতে, ১০ দলীয় জোটের দেয়াল ঘড়ির প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন ১৯৬৭ সালের ৫ জুন নারায়ণগঞ্জের অভিজাত ও শিক্ষিত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।


তার পিতা মরহুম হাবিবুর রহমান ছিলেন নারায়ণগঞ্জের একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ ও একজন জাতীয় স্বর্ণপদক প্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গণবিদ্যা নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘ এক যুগের অধিক সময় এবং সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয়, ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়, মহজমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সুনামের সাথে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জীবদ্দশায় তিনি প্রায় ছয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। মাতা মরহুমা জোহরা বেগম ছিলেন- একজন রত্নগর্ভা জননী। তিনি অত্যন্ত দ্বীনদার, দানশীলা ও অতিথি পরায়ন ছিলেন।


সিরাজুল মামুন ছাড়াও তাঁর বড় ছেলে কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক (এম.এ.), ছোট ছেলে একটি টিউটোরিয়াল হোমের পরিচালক (এম.এ), বড় মেয়ে (অধ্যাপক এবং ডীন, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ, ইসলামি বিশ্ব বিদ্যালয়, কুষ্টিয়া), মেজো মেয়ে হাই স্কুলের সিনিয়র শিক্ষিকা (এম.এ), ছোট মেয়ে (সহোযোগী অধ্যাপক, এম. এ, পি এইচ ডি, ইংলিশ, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম)। সিরাজুল মামুনের সহধর্মিণী একটি সরকারী কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল (বিসিএস শিক্ষা)। বিবাহিত জীবনে সিরাজুল মামুন দুই পুত্র এবং এক কন্যা সন্তানের জনক।



 শিক্ষা জীবন- ছাত্রজীবন থেকেই সিরাজুল মামুন ছিলেন প্রখর মেধার অধিকারী। ১৯৮২ সালে নারায়ণগঞ্জ বার একাডেমি স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসিতে স্টার মার্কসহ প্রথম বিভাগে (স্কলারশিপ সহ) সমগ্র নারায়ণগঞ্জ জেলায় মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেন।  ১৯৮৪ সালে সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে এইচএসসি (বিজ্ঞান বিভাগ) উত্তীর্ণ হন। ১৯৮৭ সালে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্য বিভাগে স্নাতকে প্রথম বিভাগে ২য় স্থান লাভ করেন।


১৯৮৭ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজী সাহিত্যে মাষ্টার্স ভর্তি পরীক্ষায় রেকর্ড নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরবর্তীতে কৃতিত্বের সাথে মাষ্টার্সে উত্তীর্ণ হন। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সিরাজুল মামুন কোরআন-হাদীস, তাফসীর, ইসলামের ইতিহাস ও সাহিত্য নিয়ে প্রচুর অধ্যয়ন করেন। তিনি নিজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নিজে নিজে কুরআনের হাফেজ হন।


মূলত এমপি প্রার্থী মামুন- খেলাফত রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ইসলামী আদর্শের সৌন্দর্য ও শ্রেষ্ঠত্বে মুগ্ধ হয়ে তিনি সমাজ এবং রাষ্ট্রে সুবিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইসলামী জীবনব্যবস্থার প্রচার ও প্রতিষ্ঠাকে তাঁর জীবনের মিশন হিসেবে গ্রহণ করেন।


পেশা- আশির দশকে ছাত্র জীবনেই সিরাজুল মামুন সমগ্র নারায়ণগঞ্জে একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও জনপ্রিয় ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। নিজস্ব স্বকীয়তা এবং সম্পূর্ণ আধুনিক একটি ধারা প্রবর্তনের মাধ্যমে ইংরেজি শিক্ষাদানের পদ্ধতিকে তিনি অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যান। আদর্শ শিক্ষক এবং আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ত্বের কারণে একসময় এবিএম সিরাজুল মামুন নারায়ণগঞ্জবাসীর নিকট "মোল্লা মামুন স্যার" নামেই অধিক পরিচিত হয়ে উঠেন।


রাজনৈতিক জীবনঃ সিরাজুল মামুন ছাত্র জীবনেই ইসলামী রাজনীতির সাথে যুক্ত হন এবং আদর্শিক ছাত্র রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৮৫ সালে অবৈধ সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে গিয়ে তিনি প্রথমবার কারাবন্দী হন। ১৯৮৯ সালে খেলাফত মজলিস প্রতিষ্ঠার সময় দলকে সুসংগঠিত করতে তিনি সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।


৯০ দশকে খতীব ওবাইদুল হক রহ. নেতৃত্বে ঐতিহাসিক কাদিয়ানী বিরোধী খতমে নবুওত আন্দোলন এবং ১৯৯৩ সালে ভারতের বাবরি মসজিদ ভাঙার প্রতিবাদে শায়খুল হাদীস রহ. এর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক লংমার্চ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য শান্তিচুক্তির প্রতিবাদে শায়খুল হাদীস রহ. এর আহবানে আন্দোলন করে আবার গ্রেফতার হন। মুক্তির কিছুদিন পর ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনে তিনি আবারো কারাবরণ করেন। ২০১৩ সালে আল্লামা আহমদ শফী রহ. এর আহবানে নারায়ণগঞ্জে হেফাজতের আন্দোলনকে সংগঠিত করতে এবং শাপলা চত্বরের ঐতিহাসিক সমাবেশ বাস্তবায়নে সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তখন ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার তাঁর বিরুদ্ধে হয়রানীমূলক মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করে।


আওয়ামী ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে তিনি সর্বদা ময়দানে সোচ্চার ছিলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জের আন্দোলনে তিনি প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের সাথে অংশগ্রহণ করেন এবং ৫ আগস্ট সকালেই নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে অবস্থান নেন।  ইসলাম ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ, নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদক প্রতিরোধ, দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি এবং সংবাদপত্র ও মিডিয়ার কন্ঠরোধসহ সকল প্রকার জুলুম, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সকল অপতৎপরতার বিরুদ্ধে তিনি সদা তৎপর ছিলেন এবং এখনো আছেন।


বর্তমানে তিনি খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। খেলাফত মজলিস ছাড়াও ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন সংগঠন এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা সহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন।


 বিগত ৪০ বছরের শিক্ষকতা জীবনের প্রায় সবটুকু আয় তিনি অসহায় ও গরীব-দুঃখী মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছেন। শত শত ছাত্রকে তিনি বিনামূল্যে পড়িয়েছেন।  তাঁর হাতে গড়া হাজার হাজার ছাত্র দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন সরকারি/বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অত্যন্ত সুনামের সাথে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।


তাঁর তত্ত্বাবধানে খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরের উদ্যোগে প্রতিবছর বিভিন্ন সময়ে অসহায় মানুষের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকার ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়ে থাকে। বিশেষত- শীতে শীতবস্ত্র বিতরণ, কোরবানিতে সামর্থ্যহীন পরিবারে গোশত পৌঁছে দেওয়া, চিকিৎসা ও ঔষধ সহায়তা এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাপনা করা, ঋণমুক্তির বিষয়ে অর্থ সহায়তা উল্লেখযোগ্য।


দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়ন এবং সুবিচার ভিত্তিক, জনকল্যাণমুখী ও মানবিক নারায়ণগঞ্জ গড়তে সিরাজুল মামুনের মতো একজন যোগ্য প্রার্থীকে দেওয়াল ঘড়ি মার্কায় ভোট দিয়ে এমপি হিসেবে নির্বাচিত করা সময়ের দাবী।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন