নির্বাচনে বাড়ছে চ্যালেঞ্জ
আসন্ন জাতীয় সাংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সাংসদীয় আসনে একের পর এক সমীকরণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা নিয়ে বাড়ছে নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ। তা ছাড়া নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, নারায়ণগঞ্জ জুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতিমধ্যে নগরের ব্যস্ত সড়ক থেকে শুরু করে উপকণ্ঠের অলিগলি সবখানেই এখন নির্বাচনী আমেজ। নতুন ভোটারদের উত্তেজনা, প্রবীণদের প্রত্যাশা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠময় প্রস্তুতি সব মিলিয়ে জেলায় তৈরি হয়েছে এক ভিন্নধর্মী নির্বাচনমুখর পরিবেশ।
কিন্তু বিগত দিনগুলোর নির্বাচনের মতো এবার সহজ হতে যাচ্ছে না নির্বাচনী খেলা। এদিকে বিভিন্ন আসনে ৫ থেকে ৮ লাখ ভোটার থাকলে ও সাবেক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী-সমর্থকরা পালিয়ে গেলে সেই আসনগুলোতে ভোট অর্ধেকে চলে এসেছে। তা ছাড়া প্রতিটি আসনেই এবার একের পর এক শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বি মাঠ কাপাঁতে প্রস্তুত রয়েছেন। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জের ১,২,৩,৪ আসনে হতে যাচ্ছে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা। সব থেকে বেশি নির্বাচনী ঝড় বইতে যাচ্ছে ৩ ও ৪ আসনে।
তা ছাড়া দেশের অন্যতম বড় দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা করলে ও হেভিওয়েট ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের উপস্থিতি বিএনপিতে বাড়তি অস্বস্তি তৈরি করেছে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে কিংবা বহিষ্কৃত হয়ে বেশ কয়েকজন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর পাশাপাশি জোটগত সমঝোতার মাধ্যমে মিত্রদের ছেড়ে দেওয়া নারায়ণগঞ্জের সেই ১টি আসনেও বিএনপির নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তা ছাড়া সর্বশেষ ১১ দলীয় জোটে এবার কঠিন প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মাঠে।
যদিও ইতোমধ্যে দেশের বেশ কয়েকটি আসনে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, তবে এখনো নারায়ণগঞ্জের ৪টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহীরা মাঠে সক্রিয়। তা ছাড়া নারায়ণগঞ্জ-১ ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে জামায়াত এর নেতাদের পরিচিতি থাকায় সেই আসনগুলোতে জোটে তাদের হাতে মনোনয়ন তুলে দেওয়ায় নির্বাচনী মাঠ শক্ত অবস্থানে। বর্তমানে ত্রিমুখী,চতুর্থমুখী, পঞ্চমুখী কঠিন চ্যালেঞ্জে এবারের নারায়ণগঞ্জের আসনগুলোর নির্বাচন। যাকে ঘিরে শেষ পর্যন্ত কে হাসবে শেষ হাসে সেটা বলা বড় দায়। চ্যালেঞ্জের নির্বাচনে সর্বশেষ ২০ জানুয়ারীর পর থেকেই চূড়ান্ত হিসেব-নিকেশ বেড়িয়ে আসতে যাচ্ছে।
সূত্র বলছে, এবারের নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যে পুরনো কৌশল ও নয়া কৌশল দুটোই একত্রিত করে সামনের দিকে এগুচ্ছেন বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তাদের দাবি, দল যদি বহিস্কার করে দেয় এতে কোন কষ্ট নয়। কিন্তু দলীয় নেতাকর্মীদের চাপ ফেলে দেওয়া কখনোই সম্ভব নয়। যাকে ঘিরে এবার হাঁটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন সাবেক ৩ সাংসদ সদস্য। যাকে ঘিরে বর্তমানে এদের গ্রীন সিগন্যাল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমানে পরিচিত স্বতন্ত্রের মাঝে কোনঠাসা বিএনপির প্রার্থীরা। তা ছাড়া বর্তমানে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের মূল বাধাই হতে যাচ্ছে হেভিয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
অপর দিকে ৩টি আসনেই অজনপ্রিয় বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা যাকে ঘিরে চলছে নানা বিতর্কতা। যাকে ঘিরে কর্মী সমর্থকরা কোন সাইডে থাকবেন তা নিয়ে সিদ্ধান্ত এখনো দিতে পারছেন না। এদিকে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়ার দিপুর কাছে চ্যালেঞ্জে হিসেবে দাঁড়িয়েছে ১১ দলীয় জোটের জামায়াত ইসলামের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মোল্লা। তা ছাড়া তা ছাড়া ও ফ্যাক্টর হিসেবে না হলে ও এই আসনে কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা দুলাল প্রধান বিএনপির ভোট নষ্ট করতেই মাঠে রয়েছেন। তা ছাড়া নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ।
তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর। বর্তমানে গুলশানের অফিসে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে তলব করে তার সাথে আলোচনা করলে আঙ্গুর জানিয়েছেন তিনি নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকবেন। যাকে ঘিরে বর্তমানে আড়াইহাজার বাসীসহ বিএনপির কর্মীরা কার পক্ষে থাকবেন তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন।
এমতা অবস্থায় নতুন করে এই আসনে সমীকরণ যোগ করলেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ইলিয়াস আলী মোল্লা। বর্তমানে এই আসনে চ্যালেঞ্জে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ অনেকটাই বেকায়দা অনুভব করছেন তিনি। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে বর্তমানে দুইজন প্রার্থী স্বতন্ত্র করতে যাচ্ছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম অন্যদিকে সাবেক সাংসদ সদস্য আলহাজ¦ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।
এরা দুইজনই পরিচিত মুখ নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে। কিন্তু দিন শেষে এই আসনে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যেই সমঝোতা আসতে পারে একজন হতে পারে মান্নানের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বি। ইতিমধ্যে গিয়াস উদ্দিন স্বতন্ত্র করায় তাকে বহিস্কার করেছেন দল। কিন্তু এখনো এই আসনে গিয়াস সরব। তা ছাড়া ইতিমধ্যে গিয়াস বলয় ও ভাঙতে শুরু করেছে সিদ্ধিরগঞ্জে-সোনারগাঁওয়ে বর্তমানে এই আসনে মান্নান পাচ্ছেন সমর্থন। কিন্তু গিয়াসের বিশাল জনপ্রিয়তা থাকায় এখনো কাটেনি ভয়।
এদিকে উভয় পক্ষে বিএনপির কর্মী সমর্থকরা হতাশাগ্রস্ত প্রায়। তা ছাড়া ১১ দলীয় জোটে এই আসনে ইতিমধ্যে কোন প্রার্থী দেওয়া হয়নি বলে জানা গেলে ও আসনটি ইসলামী আনেদালনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছিলো কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন জোটে না আসায় এই আসনে পরিচিত ও শক্তিশালী প্রার্থী দিতে পারে ১১ দলীয় জোট। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের তালিকায় বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী ছাড়াও আছেন বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী,
স্বতন্ত্র মো. শাহ্ আলম ও মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বিএনপি-বিএনপির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সমীবদ্ধ থাকলে ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে এই আসনে উঠে আসলো ১১ দলীয় জোটে প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন। তা ছাড়া এই সকল আসনগুলোতে হাতপাখার প্রার্থী হিসেবে প্রতিটি আসনেই এক এক জন করে থাকবে বলে শোনা যাচ্ছে। সব মিলয়ে এবার চ্যালেঞ্জের নির্বাচন হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জে।


