Logo
Logo
×

রাজনীতি

কালামে ঐক্য বাড়ছে না.গঞ্জ-৫ আসনে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

কালামে ঐক্য বাড়ছে না.গঞ্জ-৫ আসনে

কালামে ঐক্য বাড়ছে না.গঞ্জ-৫ আসনে

Swapno

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির রাজনীতি আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। জয়ের পথ প্রায় সুগমই দেখছেন নেতাকর্মীরা। শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বি না থাকায় স্বস্তিতেই রয়েছেন আবুল কালাম। যদিও এই আসন নিয়ে নানান নাটকীয়তা দেখা গেছে নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে শেষ পর্যন্ত এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম।


এখন চলছে নানান আঙ্গিকে গণসংযোগের কাজ। তা ছাড়া দীর্ঘদিন নারায়ণগঞ্জ-৫ এই আসনে বহু দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান দেখা গেলেও কালামের হাতে মনোনয়ন যাওয়ায় বাড়ছে ঐক্যবদ্ধতা। ইতিমধ্যে আবুল কালামকে সমর্থন দিয়ে তাকে বিজয় করতে মহানগর বিএনপি প্রতিটি নেতা-কর্মীদের নিদের্শনা দিয়েছেন মহানগর বিএনপি আহবায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। একই সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষ ভোট চাইতে আহবানও করেছে তিনি।


একই সাথে বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা যে যার যার অবস্থান থেকে কালামের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। তা ছাড়া মহানগর বিএনপি থেকে ধূরে থাকা একাধিক নেতাকর্মী বর্তমানে সকল বিভক্তি ভূলে ঐক্যের পথে হাঁটছেন। ইতিমধ্যে ও কিছু অল্প সংখ্যক দ্বিন্দ্ব এবং দুরুত্ব দেখা গেলেও নেতাকর্মীরা ও আশা করছে সেগুলো ও দ্রুত লাগব হবে। বর্তমানে কালামই যেন মহানগরে ঐক্যের প্রতীক।


দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন পরিবর্তনের পুর্বে বিএনপির যেসব নেতা মাসুদুজ্জামান মাসুদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, তারা বর্তমানে রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আবার আবুল কালামের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তৃণমূল থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে তারা কালামের কাছে ফিরে আসতে চান। কিন্তু তারা ফিরতে পারছেন না আবুল কালামের অনুসারীদের কারনে।


তোপের মুখে পড়তে পারেন এই কারণে গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় আছেন। তা ছাড়া অনেকে ইতিমধ্যে কালামের সঙ্গে যোগাযোগ সাপেক্ষে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনী বৈঠক করছেন। তা ছাড়া নেতাকর্মীদের একটাই ভাষ্য, দলীয় স্বার্থে বিভক্তি নয়, ঐক্যই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থান নিতে হলে সবাইকে এক ছাতার নিচে আনতে হবে।


আর সেই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আবুল কালাম। যাকে ঘিরে শীগ্রই নির্বাচনের পূর্বে এক ঐক্যবদ্ধ বিএনপিকে দেখতে পাবে নগরবাসী। দলীয় নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, আবুল কালাম তার পরিচিত উদার ও সহনশীল মানসিকতা দিয়ে অতীতের বিরোধ ভুলে সবাইকে আপন করে নেবেন। সেই ভরসা রেখেই তার পাশে আসছে নেতাকর্মীরা।


এদিকে আবুল কালামের নেতৃত্বকে ঘিরে মহানগর বিএনপির সব গ্রুপ একত্রিত হয়ে কাজ শুরু করেছে। অতীতের বিরোধ ভুলে সবাই এখন তার পাশে দাঁড়িয়ে জয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা ও আশাবাদ তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি আরেকটি কারন হচ্ছে বিএনপির চেয়ারপার্সন, আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়ান। যা শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করার প্রত্যয় নিয়ে এক হয়েছে দলটির নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, মহানগর বিএনপি সাধারণত দুই ব্লকে বিভক্ত ছিলো।


পরবর্তীতে বিদ্রোহী গ্রুপ দুর্বল হয়ে পড়ে মূল কমিটির সামনে। তবে মাসুদুজ্জামান মাসুদ মনোনয়ন নিয়ে আসার পর বিদ্রোহী গ্রুপের সকলেই যুক্ত হয় তার সাথে। ধীরে ধীরে সাখাওয়াত ও কালাম অনুসারীরা বাদে প্রায় সকলেই চলে এসেছিলেন মাসুদের কাছে। অন্যদিকে নিজেদের অবস্থানে অটল থাকেন সাখাওয়াত ও কালাম। সবশেষে মনোনয়ন পরিবর্তিত হয়ে যখন কালামকে মনোনয়ন দেয়া হয়, তখনই পাল্টে যায় সবচিত্র। ধীরে ধীরে সবাই সমর্থন দিতে শুরু করেন কালামকে।


মাসুদুজ্জামান মাসুদও তাকে সমর্থন দিয়ে ধানের শীষকে জয়ী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মাসুদের সাথে কাজ করা বিএনপি নেতারা নিজেদের ইগো দূরে রেখে এখন এক মঞ্চে বসতে শুরু করেছেন। সেই সাথে আবুল কালামের কাছে দলীয় ম্যান্ডেট প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। মহানগর বিএনপির একাধিক নেতা জানান, দীর্ঘদিনের বিভাজনের রাজনীতি দলের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছিল। আবুল কালামকে মনোনয়ন দেওয়ার মাধ্যমে সেই অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে। তার অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার ওপর আস্থা রেখেই সবাই এক হয়েছে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন