ভোট দেয়া নিয়ে দোটানায় বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
ভোট দেয়া নিয়ে দোটানায় বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা
নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ৩০ দিন। এদিকে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, নারায়ণগঞ্জ জুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপের সঙ্গে বাড়ছে ভোটার প্রার্থীর পারস্পরিক যোগাযোগও। নগরের ব্যস্ত সড়ক থেকে শুরু করে উপকণ্ঠের অলিগলি সবখানেই এখন নির্বাচনী আমেজ। নতুন ভোটারদের উত্তেজনা, প্রবীণদের প্রত্যাশা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠময় প্রস্তুতি সব মিলিয়ে জেলায় তৈরি হয়েছে এক ভিন্নধর্মী নির্বাচনমুখর পরিবেশ।
একই সাথে নির্বাচনী আমেজে ও ভাসছে হতাশার ধোয়াশা। আসন্ন জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী স্বতন্ত্র নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মাঠে থাকায় যাকে ঘিরে উভয় পক্ষের সমর্থকরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে দ্বিধাগ্রস্ত বা অস্থির অবস্থা বিরাজমান রয়েছে। তা ছাড়া নির্বাচনের বেশিদিন না থাকলে ও বিএনপি নেতাকর্মীরা বর্তমানে দোটানায় দোদুল্যমান প্রায়। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ-২, ৩, ৪ আসনের নির্বাচনী মাঠ পুরোই গরম।
এই তিনটি আসনে সাবেক ৩ সাংসদ সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থীতা করতে যাচ্ছেন। এমনভাবে বিএনপির বিদ্রোহীরা মাঠে থাকায়। বিদ্রোহীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছে দলটি। এ অবস্থায় বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া নেতাদের গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পর্যায়ক্রমে ডাকা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ চলমান রয়েছেন। যাকে ঘিরে আগামী (২০ জানুয়ারী) মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনকে ‘ডেট’ লাইন হিসেবে রাখা হয়েছে।
কিন্তু এর আগেই কে ধানের শীষের প্রার্থীকে সমর্থন করবে, বিএনপি করে থাকলে কেন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন করবে তা নিয়ে চলছে নানা তর্ক বিতর্ক। তা ছাড়া উভয়ে বিএনপি করায় চোখের সরমে এখনো অনেকেই পারছে না কোন সিদ্ধান্ত নিতে। ইতিমধ্যে নির্বাচনের মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে থাকা নিয়ে বিএনপি-যুবদল-ছাত্রদলে সংঘর্ষ দেখা দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন ফতুল্লায়। নির্বাচন ঘনিয়ে আসা পর্যন্ত এমন নানা বিষয় ঘটতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। যাকে ঘিরে সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো দোটনায় উভয় প্রার্থীদের সমর্থকরা।
সূত্র বলছে, আগামী (১২ ফেব্রুয়ারী) নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যে পুরনো কৌশল ও নয়া কৌশল দুটোই একত্রিত করে সামনের দিকে এগুচ্ছেন বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তাদের দাবি, দল যদি বহিস্কার করে দেয় এতে কোন কষ্ট নয়। কিন্তু দলীয় নেতাকর্মীদের চাপ ফেলে দেওয়া কখনোই সম্ভব নয়। যাকে ঘিরে এবার হাঁটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন সাবেক ৩ সাংসদ সদস্য। যাকে ঘিরে বর্তমানে এদের গ্রীন সিগন্যাল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমানে পরিচিত স্বতন্ত্রের মাঝে কোনঠাসা বিএনপির প্রার্থীরা।
তা ছাড়া বর্তমানে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের মূল বাধাই হতে যাচ্ছে হেভিয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। অপর দিকে ৩টি আসনেই অজনপ্রিয় বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা যাকে ঘিরে চলছে নানা বিতর্কতা। যাকে ঘিরে কর্মী সমর্থকরা কোন সাইডে থাকবেন তা নিয়ে সিদ্ধান্ত এখনো দিতে পারছেন না। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ। তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর।
বর্তমানে গুলশানের অফিসে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে তলব করে তার সাথে আলোচনা করলে ও এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি আঙ্গুর। যাকে ঘিরে বর্তমানে আড়াইহাজার বাসীসহ বিএনপির কর্মীরা কার পক্ষে থাকবেন তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে বর্তমানে দুইজন প্রার্থী স্বতন্ত্র করতে যাচ্ছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম অন্যদিকে সাবেক সাংসদ সদস্য আলহাজ¦ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।
এরা দুইজনই পরিচিত মুখ নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে। কিন্তু দিন শেষে এই আসনে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যেই সমঝোতা আসতে পারে একজন হতে পারে মান্নানের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বি। ইতিমধ্যে গিয়াস উদ্দিন স্বতন্ত্র করায় তাকে বহিস্কার করেছেন দল। কিন্তু এখনো এই আসনে গিয়াস সরব। তা ছাড়া ইতিমধ্যে গিয়াস বলয় ও ভাঙতে শুরু করেছে সিদ্ধিরগঞ্জে-সোনারগাঁওয়ে বর্তমানে এই আসনে মান্নান পাচ্ছেন সমর্থন। কিন্তু গিয়াসের বিশাল জনপ্রিয়তা থাকায় এখনো কাটেনি ভয়। এদিকে উভয় পক্ষে বিএনপির কর্মী সমর্থকরা হতাশাগ্রস্ত প্রায়। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের তালিকায় বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী ছাড়াও আছেন বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী,
স্বতন্ত্র মো. শাহ্ আলম ও মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, জাতীয় নাগরিক পার্টির অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি ইসমাইল কাউসার, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সেলিম মাহমুদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হোসেন, খেলাফত মজলিসের ইলিয়াস আহমেদ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১০ দলীয় জোটে এনসিপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন হতে পারেন জোটের প্রার্থী। অন্যদিকে এই আসনে আওয়ামী লীগের ভোট টানতে শক্ত অবস্থানে মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী।
তা ছাড়া স্বতন্ত্র করতে গিয়ে দুইজন বিএনপির বহিস্কৃত নেতা আলহাজ¦ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবং মোহাম্মদ শাহ আলম। বর্তমানে এই আসনে হতে যাচ্ছে তুখোড় লড়াই। সকল প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী এই আসনে হেভিওয়েট। কিন্তু বর্তমানে এই আসনে কে হবে স্বতন্ত্রের জোটের প্রধান তা নিয়ে চলছে আলোচনা। এদিকে বর্তমানে এই আসনে সাবেক সাংসদ সদস্য হিসেবে গিয়াস উদ্দিনের অমূল্যে অবদানে এবার এই আসনে একক স্বতন্ত্র হিসেবে গিয়াসের নামই আলোচনায়। কিন্তু শেষ সময়ের হিসেব-নিকেশ কি হতে যাচ্ছে কারা বহিস্কারের ভয়ে নেতা পরিবর্তন করবেন। আর কারা সকল বাধা বেড়িয়ে একজনের কর্মী হিসেবেই থাকবেন সেগুলো দ্রুতই দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে।


