চাপে পড়বেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা
জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে বিএনপি থেকে অবমূল্যায়িত অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে বিএনপির প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মাঠে সরব রয়েছেন। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জোটের প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় সেই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হেভিওয়েট গিয়াস উদ্দিন ও শাহ আলমকে বহিঙ্কার করেন দলীয় হাইকমান্ড। এদিকে বর্তমানে কঠোর ভূমিকা নিয়ে মাঠে রয়েছে নারায়নগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সাংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর তিনি ও স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম বাতিল মনোনয়ন বৈধ করতে আপিলের মাধ্যমে মাঠে রয়েছেন। একই সাথে বাতিল মনোনয়ন বৈধ‘র আপিল করে মাঠে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী দুলাল প্রধান। দ্রুতই প্রার্থীদেরই বিএনপির চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে তলব করা হতে পারে। যেখানে আলোচনার চাপে আগামী ২০ জানুয়ারীর মধ্যেই সরে যেতেন পারেন অনেক প্রার্থীই। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আঙ্গুরে সাথে স্বয়ং তারেক রহমান দীর্ঘক্ষন আলোচনা করে কথা বলছেন।
একই সাথে দ্রুত বাকিরা এমনকি নারায়ণগঞ্জের হেভিওয়েট দুই বহিস্কৃতরা ও পেতে পারেন তলব। ইতিমধ্যে আগামী ২০ জানুয়ারী মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনকে ডেট লাইন হিসেবে মনে করা হচ্ছে। তা ছাড়া তারেক রহমানের সঙ্গে আলাপে ইতিমধ্যে দেশের ৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজেদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিকদের সঙ্গে যে কয়টি আসন সমঝোতা হয়েছে সেখানে বিএনপির বিদ্রোহীরা মাঠে রয়েছেন। বিদ্রোহীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছে দলটি। এ অবস্থায় বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া নেতাদের গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পর্যায়ক্রমে ডাকা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশান কার্যালয়ে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ একে একরামুজ্জামান। পরে এক ভিডিও বার্তায় তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান। ভিডিও বার্তায় একরামুজ্জামান বলেছেন, ২০০৪ সাল থেকে ২০ বছরের বেশি সময় ধরে বিএনপির পতাকাতলে ছিলাম। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত নেত্রী খালেদা জিয়ার সম্মানে ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের সমর্থনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে দাখিলকৃত আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আপনাদের কাছে দোয়া প্রার্থী
যেকোনো পরিস্থিতিতে যেন আপনাদের পাশে থাকতে পারি। ঝিনাইদহ-৪ আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মুর্শিদা খাতুন (মুর্শিদা জামান পপি)। তিনি জেলা বিএনপির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক সংসদ-সদস্য শহিদুজ্জামান বেল্টুর স্ত্রী। গত বৃহস্পতিবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনটি মিত্র দল গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি এমএ খালেকও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ এনে এমএ খালেককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে গত বুধবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এমএ খালেক।
এই সাক্ষাতের ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনসহ বিভিন্ন আসনে ‘বিদ্রোহীদের’ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নিয়ে বিএনপিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলটির নেতারা মনে করছেন, এমএ খালেকসহ অনেক ‘বিদ্রোহী’ তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারেন। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। এ আসনে তার জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী দলটির সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর।
আঙ্গুরকেও শুক্রবার গুলশান কার্যালয়ে ডেকে দলের চেয়ারম্যান কথা বলেছেন বলেছেন কিন্তু তিনি এখনো কোন সিদ্ধান্ত জানায়নি মাদারীপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্বাহী কমিটির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান পলাশও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে সৃষ্ট জাতীয় শোকের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি পূর্ণ রাজনৈতিক আনুগত্য রেখে আমি আসন্ন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
মিজানুর রহমান চৌধুরী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য এবং ছাতক উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। মিজানুর রহমান চৌধুরী তার ফেসবুকে দেওয়া বার্তায় তার আসনের ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আমি আপনাদের ভালোবাসায় সাড়া দিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৫ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোয়নপত্র দাখিল করেছিলাম।
কিন্তু আমার শ্রদ্ধেয় অভিভাবক বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব আমাকে গত (৯ জানুয়ারি) তার গুলশান কার্যালয়ে ডেকে দল ও দেশের স্বার্থে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেছেন। আপনাদের ভালোবাসা ও আবেগ আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তবুও দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারকের অনুরোধ উপেক্ষা করে আমার জন্য অনেক কঠিন। এমতাবস্থায় আমি আমার মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জানি আমার এ সিদ্ধান্তে অনেকেই মনে কষ্ট পাবেন, বিরক্ত হবে।
কারণ ইতিমধ্যে আমার জন্য আপনারা অসম্ভব ত্যাগ শিকার করেছেন। আমি আপনাদের সীমাহীন ত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। দেশ ও দলের এই ক্রান্তিলগ্নে দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নিয়েছি। এমনইভাবে তারেক রহমানের সঙ্গে নানাভাবে বৈঠক করে আপোষ হয়ে যাচ্ছেন বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৪ আসনের বিএনপির বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ¦ মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনকে এখনো তলব না করা হলেও গুলশান বিএনপির কার্যালয় থেকে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলমকে গুলশান কার্যালয়ে তলব করা হয়েছে যেটা তিনি খোদ নিজেই নিশ্চিত করেছেন। যাকে ঘিরে ইতিমধ্যে আগামী (২০ জানুয়ারী) মধ্যেই চমক আসতে পারে নারায়ণগঞ্জের নিবার্চনী খেলায়।


