Logo
Logo
×

রাজনীতি

চলছে শেষ সময়ের হিসেব-নিকেশ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

চলছে শেষ সময়ের হিসেব-নিকেশ

চলছে শেষ সময়ের হিসেব-নিকেশ

Swapno

আগামী (২০ জানুয়ারী) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। একই সাথে এয়োদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনেরও বাকি আর মাত্র ৩১ দিন। যাকে ঘিরে ইতিমধ্যে চলছে নির্বাচনী শেষ সময়ের হিসেব-নিকেশ। কে শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্র হিসেবেই থাকবে, কে কাকে সমর্থন দিবে, কারা দলীয় চাপের মুখে পরেও স্বতন্ত্রের পাশে থাকবে। একই সাথে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই কারা থাকবে বিদ্রোহ ত্রুপের তাস।


এই সকল বিষয়ে নিয়মিত মত বিনিময় সভাসহ দফায় দফায় চলছে নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠকসহ আলোচনা। একই সাথে জামায়াত-ইসলামী আন্দোলন-এনসিপিসহ ১০ দলীয় জোটে এখনো কোন শেষ সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। তা নিয়ে ও নানা আলোচনা চলছে। এদিকে ৫টি আসনে ৪০ জন প্রার্থী মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত হয়। একই সাথে মনোনয়ন বাতিল করা হয় ১৬ জন প্রার্থীর। ইতিমধ্যে ৭ জন বাতিলকৃত প্রার্থী নিজেদের প্রার্থীতা ফেরাতে আপিল করেছেন নির্বাচন কমিশনে।


কমিশনে আপিল করা প্রার্থীদের মধ্যে আলোচিত হিসেবে রয়েছেন ৩ প্রার্থী যারা বিএনপিতে টার্গেট প্রায় বললেই চলে। নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম, এবং নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. দুলাল। এদিকে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের কাছে আতঙ্ক হয়ে উঠেছে বিএনপির হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।


সে দিকে লক্ষ্য রেখেই প্রতিটি আসনে বিএনপিপন্থী একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন সেই আসনগুলোতে বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং ভোটারদের হতাশাগ্রস্ত না করতে সিনিয়র স্বতন্ত্রদের ছাড় দিতে পারেন জুনিয়র স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ইতিমধ্যে স্বতন্ত্র ঐক্যেজোটের আওয়াজ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ-৪ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে। তা ছাড়া বিএনপির মনোনীতদের ও নানা ভূলক্রটি তুলে ধরে মনোনয়ন বাতিলের আপিল ও করছে একাধিক স্বতন্ত্ররা।


তা ছাড়া নানা দিক বিবেচনায় যাকে ঘিরে গুঞ্জন উঠছে আগামী (২০ জানুয়ারী)‘র মধ্যে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী নিজেদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারে। একই সাথে জোটের একাধিক প্রার্থীদের সাথে মিল হওয়ায় এরাও শেষে জোটের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে করতে পারে। সব শেষে মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিনই চূড়ান্ত হবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে কে হচ্ছে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের আসল প্রতিদ্বন্দ্বি।


সূত্র বলছে, আগামী (১২ ফেব্রুয়ারী) নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যে পুরনো কৌশল ও নয়া কৌশল দুটোই একত্রিত করে সামনের দিকে এগুচ্ছেন বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তাদের দাবি, দল যদি বহিস্কার করে দেয় এতে কোন কষ্ট নয়। কিন্তু দলীয় নেতাকর্মীদের চাপ ফেলে দেওয়া কখনোই সম্ভব নয়। যাকে ঘিরে এবার হাঁটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন সাবেক ৩ সাংসদ সদস্য। যাকে ঘিরে বর্তমানে এদের গ্রীন সিগন্যাল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমানে পরিচিত স্বতন্ত্রের মাঝে কোনঠাসা বিএনপির প্রার্থীরা।


তা ছাড়া বর্তমানে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের মূল বাধাই হতে যাচ্ছে হেভিয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। তার প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে রয়েছেন, জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ার হোসেন মোল্লা, ইসলামী আন্দোলনের মো. ইমদাদুল্লাহ, গণঅধিকার পরিষদের ওয়াসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আ. কাইয়ুম শিকদার ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মো. রেহান আফজাল। যাদের সাথে তার অনেকটাই সুস্পর্ক বললেই চলে।


তা ছাড়া ইতিমধ্যে গণঅধিকার পরিষদ বিএনপির নিয়ন্ত্রণে। তা ছাড়া জামায়াত-ইসলামী আন্দোলন যাচ্ছে জোটে যাকে ঘিরে শেষ পর্যন্ত তার প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে থাকতে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. দুলাল। ইতিমধ্যে তার মনোনয়ন বাতিল হলে ও তিনি ফের আপিল করেছেন। তার মনোনয়ন ফেরত পেলে ও তিনি হতে পারেন বহিস্কার তা ছাড়া তিনি কোন পরিচিত মুখ না হওয়ায় এই আসনে নির্ভার দিপু ভূঁইয়া।


তা ছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন এড. আবুল কালাম। অন্যদিকে রয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের তারিকুল ইসলাম সুজন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ বাহাদুর শাহ্ মুজাদ্দেদী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি মাছুম বিল্লাহ, খেলাফত মজলিসের এবিএম সিরাজুল মামুন, বাসদের আবু নাঈম খান বিপ্লব। এদের মধ্যে ইসলামী দলগুলো জোট করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীকে সমর্থন দিলে ও কালামের সঙ্গে লড়াইয়ে পারবে না সুবিধা করতে।


তা ছাড়া অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ যখনই বন্দর থেকে পরিচিত মুখ বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন তখন থেকেই তিনি দিয়েছেন হাল ছেড়ে। যাকে ঘিরে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ-১ ও ৫ আসনে বিএনপির জয় সুনিশ্চিত বললেই চলে। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ। তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান।


কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে বর্তমানে দুইজন প্রার্থী স্বতন্ত্র করতে যাচ্ছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম অন্যদিকে সাবেক সাংসদ সদস্য আলহাজ¦ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। এরা দুইজনই পরিচিত মুখ নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে। কিন্তু দিন শেষে এই আসনে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যেই সমঝোতা আসতে পারে একজন হতে পারে মান্নানের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বি। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের তালিকায় বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী ছাড়াও আছেন বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, স্বতন্ত্র মো. শাহ্ আলম ও মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন,


জাতীয় নাগরিক পার্টির অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি ইসমাইল কাউসার, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সেলিম মাহমুদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হোসেন, খেলাফত মজলিসের ইলিয়াস আহমেদ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১০ দলীয় জোটে এনসিপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন হতে পারেন জোটের প্রার্থী। অন্যদিকে এই আসনে আওয়ামী লীগের ভোট টানতে শক্ত অবস্থানে মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ আলী রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী।


তা ছাড়া স্বতন্ত্র করতে গিয়ে দুইজন বিএনপির বহিস্কৃত নেতা আলহাজ¦ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবং মোহাম্মদ শাহ আলম। বর্তমানে এই আসনে হতে যাচ্ছে তুখোড় লড়াই। সকল প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী এই আসনে হেভিওয়েট। কিন্তু বর্তমানে এই আসনে কে হবে স্বতন্ত্রের জোটের প্রধান তা নিয়ে চলছে আলোচনা। এদিকে বর্তমানে এই আসনে সাবেক সাংসদ সদস্য হিসেবে গিয়াস উদ্দিনের অমূল্যে অবদানে এবার এই আসনে একক স্বতন্ত্র হিসেবে গিয়াসের নামই আলোচনায়। কিন্তু শেষ সময়ের হিসেব-নিকেশ কি হতে যাচ্ছে কারা বহিস্কারের ভয়ে নেতা পরিবর্তন করবেন। আর কারা সকল বাধা বেড়িয়ে একজনের কর্মী হিসেবেই থাকবেন সেগুলো দ্রুতই দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে।



Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন