কঠোর হচ্ছে বিএনপি
নারায়ণগঞ্জে ধানের শীষের বিরুদ্ধে সরাসরি স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় ইতিমধ্যে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ¦ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ¦ মুহাম্মদ শাহ আলমসহ বিএনপির হেভিওয়েটধারী ৯ নেতাকে বহিস্কারের মাধ্যমে কঠোরতার প্রমাণ দিলেন বিএনপি।
এদিকে গত (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র জমা নেওয়ার শেষ দিনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই বেশ কয়েকজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে। তা ছাড়া ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র নিয়ে দীর্ঘদিন নানা আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলো। ইতিমধ্যে হেভিওয়েট দুইজনকে বহিস্কারের মাধ্যমে দেশের একাধিক বিএনপি নেতাদের সজাগ করেছেন। আগামীকাল বা পরশু নারায়ণগঞ্জের আরো কয়েকজনের বহিস্কার লক্ষ্য করা যেতে পারে।
তা ছাড়া এখন অপেক্ষা করতে হবে প্রত্যাহার পর্যন্ত। বিএনপির একাধিক নেতা জানান, কেউ কেউ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ভিন্ন কোন উদ্দেশ্যে। কোন কোন সম্ভাব্য প্রার্থীর ধারণা যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তাদের হয়তো অচিরেই কেন্দ্রে তলব করবে। তারা কেন বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্তের পরেও মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সে ব্যাখা জানতে চাইবেন। তখন হয়তো আগ্রহীরা সংসদ নির্বাচনের পরে আসা উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভার বিষয়টিও নজরে আনতেচাইবেন ।
তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, ইতোমধ্যে বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার পর যারা স্বআগ্রহে মাঠে নামবেন তাদের পুরস্কৃত করবেন দলটি। আগামীতে কমিটি গঠনে তাদের যথার্থ মূল্যায়ন করা হবে। এছাড়া পরবর্তীতে স্থানীয় সরকারের সবগুলো নির্বাচনেও তাদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।' বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠনের কেন্দ্র পর্যায় থেকেও ইউনিট নেতাদের সে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে। বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতেও সহযোগি সংগঠন বিশেষ নজরদারী রাখছে। অপরদিকে যারা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তারা যদি স্ব উদ্যোগে প্রত্যাহার করে না নেন তাহলে দলের ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অচিরেই নোটিশ করা হবে।
নোটিশের পরেও যদি নিজেদের সরিয়ে না নেন তাহলে বহিস্কারের মত কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও আসতে পারে। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে জমা দিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু। এখানে মনোননয়ন পত্র জমা দিয়েছেন যুবদল নেতা দুলাল হোসেন। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ। এখানে মনোনয়পত্র জমা দিয়েছেন সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত আজহারুল ইসলাম মান্নান।
এ আসনে মনোনয়পত্র জমা দিয়েছেন সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও রেজাউল করিম। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম। এ আসনে মনোনয়পত্র জমা দিয়েছেন শিল্পপতি আবু জাফর আহমেদ বাবুল ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জোটের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমীর। এরই মাঝে জমা দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন ও শাহ-আলম। ইতিমধ্যে হেভিওয়েট দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস ও শাহ-আলম বহিষ্কার হয়েছে।
দ্রুতই বাদ পরতে পারে দুলাল ও আঙ্গুর এবং রেজাউল করিম। তা ছাড়া গুঞ্জন রয়েছে দ্রতই এড. সাখাওয়াত ও আবু জাফর বাবুল নিজেদের মনোনয়ন প্রত্যাহার বা দলীয় কোন খবর পেতে পারেন। বর্তমানে নির্বাচনকে ঘিরে কঠোর হয়ে উঠেছে বিএনপি। ইতিমধ্যে নির্বাচনী এই বহিস্কার প্রথাটি অবাদ্ধ বিভিন্ন সংগঠনের বিরুদ্ধে ও পরিচালিত হবে বলে জানা গেছেন।


