Logo
Logo
×

রাজনীতি

শোকের দিনে বহিষ্কার, নেতাকর্মীর হতবাক

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

শোকের দিনে বহিষ্কার,  নেতাকর্মীর হতবাক

শোকের দিনে বহিষ্কার, নেতাকর্মীর হতবাক

Swapno

 বাংলাদেশের আপসহীন নেত্রী ও জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ৬টায় তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তবে প্রিয় নেত্রীর মৃত্যু সংবাদে শোকে বিহব্বল থাকাবস্থায় বিএনপির হাইকমান্ড থেকে দুঃসংবাদ পেলেন নারায়ণগঞ্জের দুই নেতা।


নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি মো. গিয়াস উদ্দিন ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শিল্পপতি শাহ আলমকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘দলের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করার কারণে তাদের প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

এদিকে এমন একটি দিনে বিএনপির হাইকমান্ড থেকে নোটিশ করায় হতবাক বিএনপি কর্মীরা। তারা বলছেন, প্রিয় নেত্রীর মৃত্যু সংবাদে যখন পুরো দেশ শোকে আচ্ছন্ন, ঠিক এমন দিনে দীর্ঘদিন বিএনপির জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করা নেতাদের বহিষ্কারের নোটিশ দেয়াটা মোটেও শোভনীয় নয়। পুরো দেশের মানুষ আপসহীন নেত্রীর মৃত্যুর সংবাদে কাঁদছে। এমনদিনে কেন্দ্রীয় নেতাদের এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন বহিষ্কার নোটিশে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ বিরক্তি প্রকাশ করেছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত ছিল যেসব আসনে বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে, সেসব আসনে যেন বিএনপির কোনো নেতৃবৃন্দ মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচনের চেষ্টা না করে।এই সিদ্ধান্ত অমান্য করায় সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. শাহ আলমকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’



নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্থীর খোঁজে ছিলেন বিএনপি ও সাধারণ জনগণ। ১৯ বছর যাবৎ এই আসনে বিএনপির কোন এমপি নির্বাচিত হয়নি। ২০০৮ সালে বিএনপি প্রার্থী শিল্পপতি শাহ আলমকে পরাজিত করে আওয়ামীলীগের প্রার্থী নির্বাচিত হন। এরপর থেকে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের। প্রার্থীদের দখলে ছিলো এই ফতুল্লা আসনটি। যাকে ঘিরে এবার আশা নিয়ে বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী মাঠে নেমেছিলেন, হয়েছিলেন মনোনয়ন প্রত্যাশী। দীর্ঘদিন নানা তাল-বাহানার পরপরই গত (২৩ ডিসেম্বর) জোটের মনোনয়ন হিসেবে মনোনীত হলে জেলা ও ফতুল্লা থানা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মধ্যে বিশেষ কোনো উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়নি।


সকলেই হতাশা হলেও দলীয় বহিস্কারের ভয়ে জোটের প্রার্থীর পিছনে রয়েছেন। এদিকে জোট হলে ও কাসেমীর হাতে ধান না থাকায় সুযোগ নিতে এবং নিজেদের অবস্থান জানান দিতে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সাবেক সাংসদ সদস্য আলহাজ¦ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও শিল্পপতি শাহ আলম। তারা দুইজনই এই আসনে হেভিওয়েট হিসেবে পরিচিত যাকে ঘিরে দুইজনকে দমাতে এবার দল বহিস্কারের পদ বেঁছে নিলেন। ইতিমধ্যে মাঠ গোছাচ্ছেন স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী। সকলেই বুঝে গেছেন, জনগণ এবার দল নয়, ব্যক্তি দেখে ভোট দিবেন। যাকে ঘিরে এবার অনেক আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিজয়ের আসঙ্কা রয়েছে।
এদিকে স্বতন্ত্র দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের সাথে আলোচনা হলে তারা বলেন, দল বহিস্কার করবেন এটা জেনেই আমরা মাঠে স্বতন্ত্র হিসেবে নেমেছি।


বিএনপি অনেক বড় দল এই দলে এমন বহু কর্মী না থাকলে ও কিছু আসে যায় না। কিন্তু আমাদের কাছে আমাদের স্থানীয় নেতা গিয়াস ও শাহ আলম ভাই অনেকটাই ফ্যাক্টর। তা ছাড়া দল যেহেতু আমাদের হাতে মনোনয়ন দেয়নি সেই হিসেবে কেউ ধান না দেখে খেঁজুর গাচে ভোট দিবে না। সেই ক্ষেত্রেই ১০ দলীয় জোটের হাতে যেন আসনটি চলে না যায় সেটা রক্ষার্থেই বিএনপির হেভিওয়েট দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।


আশা করি সাধারণ জনগণ ও বিএনপি নেতাকর্মীরা দল বা মার্কা নয়, এবার ব্যাক্তি দেখেই ভোট দিবেন। তা ছাড়া দল আজকে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই পরিস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত দেখতে প্রস্তুত ছিলাম না। শোকের দিনে দলীয় সিদ্ধান্তে সাধারণ জনগণসহ দলীয় কর্মীরা স্তম্ভিত ও হতবাক।

প্রসঙ্গত, তারা দুজনই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। মনোনয়ন না দেয়ায় তারা দুজনই দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন