সাখাওয়াত-কালাম-বাবুলের ঐক্যের দৃঢ়তা
# রাজপথের নেতাদের মনোনয়ন দিলে দলের ভেতরে বিভক্তি হতো না : এড. সাখাওয়াত
# আমাদের পরিবার তিন প্রজন্ম ধরে রাজনীতিতে যুক্ত : এড. কালাম
# ২০১৭ সালে সদস্য ফরম নবায়ন করেছিলাম, এর আগে ও অনেক বার করেছি : বাবুল
# সর্বশক্তি দিয়ে দেখেন আমার মত আশাকে নিতে পারেন কি না : আশা
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদকে পরিবর্তনের দাবিসহ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা দাবী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশাল জনসমাবেশের মাধ্যমে বন্দরে আবারো চমক দেখিয়েছেন বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিতরা। এই সমাবেশে সকল স্বার্থবিলীন করে জনতার ঢল নামতে দেখা যায়। গতকাল শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে বন্দরের নবীগঞ্জ কবিলের মোড় এলাকাতে ওই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সেখানে হাজার হাজার মানুুষের সরব উপস্থিতি ছিল। এদিকে গতকাল দুপুর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে সমাবেশে যোগ দিতে থাকে। বিকেল ৪ টায় সমাবেশ শুরুর আগেই পুরো সমাবেশস্থল লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে। একই সাথে সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা মোমবাতি জ্বেলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ জানায়।
সমাবেশে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ছিলেন তিন মনোনয়ন বঞ্চিত তারা হলেন, মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সাবেক এমপি আবুল কালাম, শিল্পপতি আবু জাফর আহমেদ বাবুল, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা। সমাবেশে বক্তারা মাসুদুজ্জামানের উপরে তৃণমূলের ক্ষোভের ব্যাখা দিয়ে নেতারা বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির এমপি নির্বাচিত করতে হলে ত্যাগী একজনকে মনোনয়ন দিতে হবে।
হঠাৎ করে জেগে উঠা কোন শিল্পপতির হাতে মনোনয়ন তুলে দিলে আসনটি হাত ছাড়া করতে হবে। বিএনপির তৃণমূলের নেতারা এই প্রার্থীকে মেনে নিতে পারছে না। অচিরেই বিএনপি এ বিষয়ে জাগ্রত না হলে আগামীতে মশাল মিছিল করা হবে। তা ছাড়া ও তারা বলেন, কোন দোসরকে বিএনপি মনোনয়ন দিবে তা হবে পারে না। এটা দ্রুত পুনবিবেচনা করা দরকার। আমার সকলেই চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা আগ মুহুর্ত্ব পর্যন্ত মাঠে থাকবো। কিন্তু সকলেই কাউর পক্ষ না হয়ে ধানের শীষের প্রচারনায় ব্যস্ত থাকবো। আশা করি দল কখনো ভূল করবে না, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন।
এ সময় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “আমরা নমিনেশন চেয়েছিলাম। দল এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। দল প্রাথমিকভাবে কারো নাম প্রকাশ করেছে- সেটাকে যদি আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, সেটা আমাদের প্রতি অন্যায় হবে। চূড়ান্ত ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করতে পারি। কিন্তু সেই অপেক্ষাকেও আজ অবজ্ঞার চোখে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা কারো অবজ্ঞার শিকার হতে চাই না। আমরা কখনো দলের সঙ্গে বেইমানি করিনি, ভবিষ্যতেও করবো না। চূড়ান্ত নমিনেশন যে পাবে- তার পক্ষেই আমরা থাকবো। কিন্তু আমাদেরকে রক্তচক্ষু দেখিয়ে দুর্বল করার চেষ্টা করবেন না।”
তিনি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় নেতাদের কাউকে মনোনয়ন দিলে দলের ভেতরে কোনো ধরনের সন্দেহ বা বিভক্তি তৈরি হতো না।
মাসুদুজ্জামানকে উদ্দেশ করে সাখাওয়াত বলেন, “ধৈর্য হারাবেন না। আমাদেরকে প্রতিপক্ষ হিসেবে গণ্য করবেন না। আমরা বিএনপির পরীক্ষিত নেতাকর্মী- রাজপথে ছিলাম, জেল খেটেছি। চূড়ান্ত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে আমরা একসঙ্গেই কাজ করবো।”
তিনি বলেন, “দেশের ভোটের অধিকার নিয়ে দেশে-বিদেশে চক্রান্ত হচ্ছে। নির্বাচন দীর্ঘায়িত করতে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
সাবেক সাংসদ সদস্য এড. আবুল কালাম বলেন, যারা জেলজুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা ন্যায়বিচার চান এবং বিএনপি এ বিষয়ে ভুল করবে না। আমি তিনবার নির্বাচিত হয়েছি, এটি আপনারা করেছেন। আজকে আমাকে কালাম সাহেব বলেন, কিন্তু প্রকৃত মালিক আপনারা। আমি বিএনপির পরীক্ষিত সৈনিক। আমাদের পরিবার তিন প্রজন্ম ধরে রাজনীতিতে যুক্ত; আমার পিতা প্রয়াত জালাল হাজী, এরপর আমি আবুল কালাম, এবং সবশেষ আমার পুত্র আবুল কাউছার আশা। এই তিন প্রজন্মের বাইরে জালাল হাজীর পরিবারে কেউ নেই।”
প্রাইম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও শিল্পপতি আবু জাফর আহাম্মেদ বাবুল বলেন, ২০১৭ সালে আমি বিএনপির সদস্য ফরম নবায়ন করেছিলাম। এর আগে ও বহু বার করেছি। কিন্তু নতুন করে এখনো করিনি। কারণ আমি আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেবকে বলেছি, তিনি যেন আমাকে তার হাতে নবায়ন করে দেন। তিনি দেশে এসেই আমাকে সদস্য ফরম নবায়ন করে দিবেন।
তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুমের শিকার হয়েছে। আমারও সেই সময়ের বেশ কিছু মামলা হয়েছে। আমার বাড়িতে হামলা, লুটপাট হয়েছে। পুলিশ নির্যাতনে আমার বাড়িতে থাকা বোনসহ গৃহকর্মীকে মারার ঘটনা ঘটেছে। নারায়ণগঞ্জে যারা বড় বড় কথা বলে, তাদের মধ্যে কয়জনের বাসায় এমন হামলা ঘটেছে।
মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা বলেন, অনেকের এখন বিএনপির জন্য চিন্তা হচ্ছে, মায়া কান্না করছে। প্রাথমিক ভাবে যিনি মনোনীত তার বিরুদ্ধে কথা বললে নাকি দলকে তারা বহিষ্কারের সুপারিশ করবে। আপনারা সচেতন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি এসেছিল তখন কোথায় ছিলেন। এখন যারা মায়াকান্না করে তারা আসলে দলের না, তারা মালের। তখনও শিল্পপতি পছন্দ ছিল মালের কারণে এখনও শিল্পপতি পছন্দ মালের কারণে।
তিনি বলেন, আমাদের বন্দরে কারা নির্যাতিত নেতাদের নাকি ক্রেস্ট দেয়া হচ্ছে। আমরা যারা কারা নির্যাতিত তাদের জন্য ক্রেস্ট জরুরি না কারা নির্যাতিত নেতা আমাদের জন্য বলশি জরুরি।
তিনি আরো বলেন, মধুর সমস্যায় আছি। এখনও যদি চিন্তা করি মাসুদ সাহেবের পাশে দাঁড়াবো মানুষ জিজ্ঞেস করবে কী ভাই কত পেলেন? কত টাকা দিল? আজ আপনি দোসরদের নিয়ে মাঠ দখলের চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, আমাদের ভাঙার অনেক চেষ্টা করেছেন। যতবার ভাঙার চেষ্টা করবেন ততবার তার চেয়ের শক্তিশালী ভাবে মাঠে নামবো। আপনি কিনেছেন টাকা দিয়ে, আমরা কিনেছি ভালবাসা দিয়ে। আপনারা তারেক রহমানের নাম বিক্রি করেন। কথায় কথায় বলেন লন্ডনের মেসেজ। আমরা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতি ঐক্যবদ্ধ। কোন মেসেজ থাকলে আমাদের সরাসরি দেয়া হবে। আপনাদের টাকার প্রয়োজন আমাদের নয়, আমাদের সম্মান প্রয়োজন। এই নতুন বাংলাদেশ কোন দোসরের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য নয়। সর্বশক্তি দিয়ে দেখেন আমার মত আশাকে নিতে পারেন কি না।
জনসভা শেষে মোমশিখা প্রজ্জলন করে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের মনোনয়ন পুনঃমুল্যায়ন এর জন্য বিক্ষোভ করে উপস্থিত নেতাকর্মীরা। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বন্দর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উল্লাহ টিপু, নারায়ণগঞ্জ মহানগর মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী আয়েশা আক্তার, সাবেক মহানগর বিএনপি’র দপ্তর সম্পাদক আক্তার হোসেন খোকন শাহ্, ১২ নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি মো. বরকতুল্লাহ, এতে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী রহিমা শরীফ মায়া, নারায়ণগঞ্জ জেলা গার্মেন্টস শ্রমিক দলের মহিলা সম্পাদিকা সানজিদা সিকদার পান্না, ১৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. সেলিম মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী মো. মোশারফ হোসেন, ২৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতা রাজু আহমেদ,
২৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ, ২৫ নং ওয়ার্ড সভাপতি ফারুক মিয়া, সহ সভাপতি মো. বাবুল মিয়া, ২৬ নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি মো. শফিউদ্দিন সোহেল প্রদান, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক প্রদান, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসলাম নাড়ু, সহ সাংগঠনিক ইমদাদুল হক, ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুর রহমান স্বপন, ২৭ নং ওয়ার্ড সভাপতি মো. ফিরোজ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মো. রমজান মিয়া, জাতীয়তাবাদী সদর থানা কর্মজীবী দলের আহবায়ক মো. সুমন প্রমুখ।


