এবারও জনসভায় অনুপস্থিত সাখাওয়াত-কালাম-বাবুল
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
এবারও জনসভায় অনুপস্থিত সাখাওয়াত-কালাম-বাবুল
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদের নির্বাচনী জনসভাকে প্রত্যাখান করলেন হেভিওয়েট ৩ মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, সাবেক সাংসদ সদস্য আবুল কালাম, মহানগর বিএনপি নেতা আবু জাফর আহম্মেদ বাবুল। এখনো এই ৩ মনোনয়ন বঞ্চিত এখনো মাসুদুজ্জামানকে দেয়নি সমর্থন। এরা আরো কিছুদিন অপেক্ষায় রয়েছেন এই তিন প্রার্থী।
দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়া মাসুদের পাশে যাচ্ছেন না এই তিন প্রার্থী এমন জানা গেছে তাদের বিশস্ত সূত্রে। কিন্তু এই ৩ মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা কোন পক্ষ না নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জনগণের কাছে সর্বদা ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইবেন বলে ও জানা গেছে। তা ছাড়া গতকালকে মাসুদুজ্জামান মাসুদের জনসভায় মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এড. জাকির হোসেন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ আহম্মেদ রেজা রিপন, যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন খানসহ অনেকেই মাসুদুজ্জামানকে সমর্থন দিয়ে এক মঞ্চে থাকলে ও মনোনয়ন বঞ্চিত এই ৩ নেতা এখনো মাসুদুজ্জামান মাসুদের পাশে আসেনি।
তারা নিজেদের অবস্থান থেকে ধানের শীষের পক্ষে মাঠে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। তা ছাড়া সূত্র জানিয়েছে, এই জনসভায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ প্রধান অতিথি হিসেবে থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনকে ঐক্যবদ্ধ করার ইচ্ছাপোষন করলেও সেটা আর হয়ে উঠেনি। বর্তমানে সেই পুরনো দাবী মাসুদুজ্জামানের মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে এখনো একাট্টা বিএনপির এই ৩ মনোনয়ন বঞ্চিত হেভিওয়েট নেতারা। এরা বর্তমানে ৩ মাথা ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
সূত্র বলছে, চার মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী মধ্যে গত বুধবার মাসুদুজ্জামান মাসুদকে সমর্থন দিয়ে এক সাথে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সাবেক এমপি আবুল কালাম ও শিল্পপতি আবু জাফর আহম্মেদ বাবুল। একইভাবে গতকাল (২৭ নভেম্বর) বরফকল মাঠে জনসভাতেও ঠিক একই ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনে বিএনপি মনোনীত হওয়ার লক্ষ্যে তোড়জোড়ে আলোচনায় ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য আবু আল ইউসুফ খান টিপু। তাদের পাশাপাশি আলোচনায় ছিলেন, তিন বারের সাবেক এমপি আবুল কালাম। পরবর্তীতে গত মে মাস থেকে বিএনপি প্রার্থী হওয়ার দৌড়ঝাপে দেখা মিলে মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুজ্জামান মাসুদ।
তিনি দিনে দিনে মাঠ গুছিয়ে গত (২২ সেপ্টেম্বর) বিএনপিতে যোগদান করে মনোনীত নিশ্চিত হওয়ার গুঞ্জন শুরু হয়। দেড় মাসের কম সময়ে ৩ নভেম্বর মাসুদুজ্জামান মাসুদকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মনোনীত করেন দলের হাইকমান্ড। এতে করে শুরু হয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে মনমালিন্যতা। মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের বাড়ি চেম্বারে ছুটে যান মাসুদুজ্জামান মাসুদ। এতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বাড়িতে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ হন মাসুদুজ্জামান। তিনি এ সময় খোরশেদকে নিয়ে ধানের শীষে গণসংযোগ করে।
অন্যদিকে সাবেক এমপি আবুল কালামের বাড়িতে গিয়ে দেখা পায়নি এদিকে চেম্বারে সাখাওয়াত হোসেনের খানের আলাপচারিতা পরও মানমালিন্য ভাঙ্গতে পারেনি মাসুদুজ্জামান। এদিকে এখনো শিল্পপতি আবু জাফর আহম্মেদ বাবুলের সাথে যোগাযোগ করা হয়নি বলে জানা গেছে। অপরদিকে মনোনয়ন বঞ্চিত তিন প্রার্থীর সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় যাকে মনোনীত করবেন তার পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
যার কারণে এখনো মাসুদুজ্জামানের পক্ষে তিন প্রার্থী সক্রিয়তা দেখা যাবে না। তা ছাড়া দলের হাইকমান্ড থেকেও মাসুদুজ্জামানের পক্ষে থাকারও কোন নিদের্শনা দেয়া হয়নি। যাকে ঘিরে এখনো মাসুদুজ্জামানকে সমর্থন দিচ্ছেন না এই ৩ মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা। এদিকে আলোচনা উঠছে মনোনয়ন চূড়ান্তের আগমুহুর্ত্ব পর্যন্ত কোন পক্ষ না নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করে যাবেন সাখাওয়াত-কালাম-বাবুল।


