গত ১০ অক্টোবর সোনারগাঁওয়ের কাঁচপুর এলাকায় একটি ভবনে গ্যাস সংযোগে স্থাপিত কম্প্রেসার লাইনে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণ জনিত কারণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৩ জন মারা যান।অপর একজন চিকিৎসাধীন আছে বলে জানা যায়।গ্যাস সংযোগে গ্যাস কম্প্রেসার বা বুস্টার মেশিন ব্যবহার করা সম্পূর্ণ অনিরাপদ, বেআইনি এবং মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া স্বত্বেও শিল্পঘন নারায়ণগঞ্জে এর ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে অথচ প্রতিকারের কোন ব্যবস্থা নেই। কারও কোন দায়িত্ত্ব আছে বলেও মনে হয় না। গ্যাস কর্তৃপক্ষ গ্যাস সরবরাহ করতে না পারলেও জোর জবরদস্তি মূলক ভাবে বিল আদায় করতে পারেন ঠিকই অথচ মৃত্যুঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ কমপ্রেসার ব্যবহার রোধে তাদের কোন ভূমিকাই চোখে পড়ে না! কি অদ্ভুত দায়িত্ত্ববোধ!
গ্যাস বিতরণকারী কর্তৃপক্ষ এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, লাইনে কৃত্রিমভাবে গ্যাসের চাপ বাড়ানোর এই যন্ত্রগুলো যেকোনো পরিস্থিতিতেই বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। সাধারণ বাসাবাড়ির গ্যাস লাইন এবং চুলার হোস পাইপ একটি নির্দিষ্ট ও মৃদু মাত্রার চাপ সহ্য করার জন্য তৈরি। কম্প্রেসার চালু করলে গ্যাসের চাপ অতিরিক্ত বেড়ে যায়। ফলে পাইপ ফেটে বা লিক হয়ে যেকোনো মুহূর্তে ভয়াবহ বিস্ফোরণ এবং আগুন লাগার আশঙ্কা থাকে।কম্প্রেসার যখন লাইনের গ্যাস তীব্র গতিতে টেনে নেয়, তখন পাইপের ভেতরে একটি শূন্যতা বা ভ্যাকুয়াম তৈরি হয়। এর ফলে পাইপের আশপাশের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র লিক দিয়ে বাইরে থেকে বাতাস (অক্সিজেন) ভেতরে ঢুকে যেতে পারে।গ্যাসের সাথে অক্সিজেনের এই মিশ্রণ পাইপের ভেতরেই একটি “বোমা” বা মারাত্মক দাহ্য মাধ্যমে পরিণত হয়, যা সামান্য স্পার্ক বা উত্তাপেই বিস্ফোরিত হতে পারে।
তাই গ্যাস লাইনে কম্প্রেসার বা বুস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের জন্য সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা সহ জেল জরিমানার আইনি বিধান রয়েছে।কম্প্রেসার শুধু দুর্ঘটনা ঘটায় তা নয়,আশপাশের অন্যান্য বাড়ি বা ফ্ল্যাটের গ্যাসও টেনে নেয় ফলে প্রতিবেশীগণ তীব্র গ্যাস সংকটে বা শূন্যতায় পতিত হয়। মৃত্যু ঝুঁকি ছাড়াও প্রতিবেশীকে গ্যাস বঞ্চিত করার অধিকার কি কারও রয়েছে? কম্প্রেসার ব্যবহারকারী একই সাথে নিজের এবং আশপাশের লোকজনের মৃত্যুঝুঁকির কারণ হচ্ছে,অন্যদের গ্যাস বঞ্চিত করছে, সর্বোপরি প্রচলিত আইন ভঙ্গ করছে।
গ্যাস সংকটের কারণে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে এমন অবৈধ যন্ত্র বসানো হচ্ছে বলেই তা বৈধ হয়ে যেতে পারে না। বিষয়টির সাথে ভয়াবহ দুর্ঘটনা এবং মৃত্যুঝুঁকি জডিত। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হোক এমন চাওয়া নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি গ্রাহকের,তাই বলে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে, অন্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে অবৈধ কম্প্রেসার বব্যবহার কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কম্প্রেসার ব্যবহার এখনই বন্ধ করতে না পারলে আরো কত যে কাঁচপুরের মত ঘটনা দেখতে হবে তা ভবিতব্যই জানে! লেখক: বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি ও পোশাক শিল্পের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা।


