Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

আকতার-সুমন বাহিনীর শেল্টারদাতা কারা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

আকতার-সুমন বাহিনীর শেল্টারদাতা কারা

আকতার-সুমন বাহিনীর শেল্টারদাতা কারা

Swapno



না.গঞ্জে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে না.গঞ্জে ‘পুনর্জাগরণ’ করতে উঠে পরে লেগেছেন চিহ্নিত যুবলীগ ক্যাডার আকতার ও হাজী সুমন বাহিনী। বর্তমানে ফতুল্লার এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ শেল্টার দাতা হিসেবে পরিচিত এক যুবদল নেতার ছত্রছায়ায় ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠার পায়তারা শুরু করেছেন। যাকে কেন্দ্রে করে সেই যুবদল নেতার বাহিনীর শেল্টারেই প্রতি নিয়তই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে আ.লীগের চিহ্নিত সস্ত্রাসীরা জলসা বসাতে ভিড় জমান যুবলীগ ক্যাডার খ্যাত আকতার-সুমনের ফতুল্লার কুতুবআইলের বাড়িতে।


যাকে ঘিরে হাসিনা সরকারের ক্যাডারদের নিরাপদ আশ্রয় স্থলে পরিনত হয়েছে আকতার ও সুমনের বাড়িটি। এদিকে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন যুবলীগ ক্যাডার আকতার। যাকে ঘিরে তার নির্দেশনায় তারই ছোট ভাই যুবলীগ ক্যাডার হাজী সুমন এলাকায় বীরদর্পে সব নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছেন অপকর্ম। এদিকে নিজেদের হোসেন ডাইংয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন্ মালিক, আওয়ামী লীগ-বিএনপির কিছু কথিত নেতাসহ বিশেষ পেশার ব্যাক্তিদের নিয়ে ডাইং সিন্ডিকেট তৈরি অপকর্মসহ ভূমিদূস্যতা করার পায়তারায় মেতে উঠেছেন।


তা ছাড়া বর্তমানে ফতুল্লায় আগামী ডিসেম্বরের আগেই আ.লীগকে ‘পুনর্জাগরণ’ করতে জোরদার অবস্থান নিয়ে মাঠে রয়েছেন। বর্তমানে সুমনের নেতৃত্বেই চলছে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত করার লড়াই। আর সেখানে সুমনের পাশে রয়েছেন তারই চিহ্নিত লোক রাসেল, রাখাল রতন, আনোয়ার, নয়ন, শারজাহান, সুমনের ফুফাতো ভাই আসিফ। এই বাহিনী বিগত দিনের মতোই ফের কাঠেরপুল, কুতুবআইল, রামারবাগ, শিবু মার্কেট নিয়ন্ত্রণ নিতে পায়তারা শুরু করেছেন। যাকে প্রশ্ন উঠছে যুবলীগ ক্যাডারকে সার্পোট দিচ্ছেন যুবদল নেতা তাহলে এই বাহিনীতে রুখবে কে ?


তা ছাড়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মামুন হত্যা মামলায় আসামী হয়ে কিছুদিন দেশের বাহিরে, আবার রাতের অন্ধকারে ফতুল্লায় বাসায় বর্তমানে ঢাকায় বসে আগামী ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে ফতুল্লায় কুখ্যাত ওসমানদের মাঠে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে হত্যা মামলায় জামিনে বেড়িয়ে যুবলীগ ক্যাডার হাজী সুমন সেই নীল নকশা বাস্তবায়নে এলাকায় নিজ বাসায় নানা বৈঠক চালাচ্ছেন। বর্তমানে সেই প্রভাবশালী যুবদল নেতার শেল্টারে গডফাদার খ্যাত শামীম ওসমান ও তাদের সঙ্গিদের সঙ্গে যোগাসাজস করে এলাকায় নাশতার পায়তারায় মগ্ন রয়েছেন যুবলীগ ক্যাডার আকতার ও সুমন।


এদিকে শোনা গেছে, ফতুল্লার কুতুবাইলের সাবেক বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন হাজী কর্ণফূলী টেক্সটাইল নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এক সাংসদ সদস্যের ছায়ায় কুখ্যাত হাজী আলাউদ্দিন তার দুই ছেলে যুবলীগ ক্যাডার আকতার ও সুমনকে লেলিয়ে দেন। একই সাথে দুই ছেলে ও নিরভয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান। তারা এলাকার মানুষ হত্যা থেকে শুরু করে জমি দখল এমনকি চোরাই পথে গ্যাস নিয়ে মিল চালানোর সময় তিতাস কর্তৃপক্ষ হাতে নাতে ধরে ফেললে তিতাসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ও কর্ণফূলি মিলে বেধে রাখা হয়েছিলো এমন নানা অভিযোগ রয়েছে।


একই সাথে কুতুবআইলে এক রাতে ৩০০ একর জমি দখলে নেন। তা ছাড়া আশপাশে আরো একাধিক জমি, মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্যে দখলের অভিযোগ উঠেছিল। এক পর্যায়ে সেভেন মার্ডারের আসামী নূর হোসেন হাজী আলাউদ্দিনের সাথে যোগ দিলেও তখনো নূর হোসেন সে সময় তিনি লাইমলাইটে আসেনি।


আরো জানা যায়, হাজী আলাউদ্দিন বিএনপির শাসন আমলে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে কৃষকলীগ নেতা সোলায়মান ও মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিনকে প্রকাশ্যে হত্যাসহ বেশ কয়েকটি হত্যা মামলায় ক্ষমতা ও টাকার জোরে পার পেয়ে যায়। ঐ সময় তার দুই ক্যাডার ইবু ও রুবেল নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে র‌্যাবের হাতে ক্রসফায়ারে মারা যায়। হাজী আলাউদ্দিনের ক্যাডার সন্ত্রাসী নয়ন এখনো এলাকায় বহাল তবিয়তে রয়েছে। আর তাকে ব্যবহার করছে হাজীর দুই ছেলে আকতার ও সুমন।


ঐ সময়ের বির্বতনে আলাউদিন হাজীর কন্যা স্বামী হারা হয়, স্ত্রী, বড় ছেলে মোক্তার ছোট ভাই আউয়াল ও সালাউদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যুর পর অনেকটা ভেঙ্গে পরলে দুই ছেলে আকতার ও সুমন হাজী আলাউদ্দিনের স্থলাভিষক্ত হন। এরই মধ্যে উত্থান ঘটে সেভেন মার্ডারের প্রধান আসামী নূর হোসেনের। নূর হোসেনের অর্থ উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত আরিফুল হাসান তখন প্রভাবশালী। পরিচয় ঘটে আক্তার ও সুমনের সাথে। ঘুরে দাড়াতে চেষ্টা করে হাজী আলাউদ্দিন। এরই মধ্যে ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জের সন্ত্রাসীদের গডফাদার যাকে নিয়ে সমগ্র বিশ্বে নারায়ণগঞ্জ আলোচিত হয় সেই নূর হোসেনের ক্যাডার আরিফুল হাসানের পরিচয় ঘটে আকতার-সুমনের।


২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল সেভেন মার্ডারের পর নূর হোসেনের সাথে সুমনও পালিয়ে যায় এবং একই বছর নূর হোসেনের সাথে গ্রেফতার হয়। আদালতে চার্জশীট দাখিলের পর মামলা থেকে ৫ জনকে অব্যাহতি দিলে নূর হোসেনের পলাতক সহযোগীরা ফিরতে শুরু করে। একই সাথে আকতার ও সুমন নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখলে কৌশল ব্যবহার করেন। কিন্তু র‌্যাবের হাতে বিদেশী মদসহ কাউন্সিলর আরিফ, আকতার ও সুমন গ্রেফতার হলে পরবর্তীতে জামিনে এসে অনেকদিন নিশ্চুপ ছিলেন তারা। পরে আওয়ামীলীগের এক প্রভাবশালী নেতাদের আর্শিবাদে আওয়ামী লীগার বনে যায় আকতার ও তার ছোট ভাই সুমন। পরবর্তীতে গত ৫ আগষ্টে পট পরিবর্তনের পর আকতার-সুমন ও তাদের বাহিনী পুরোই আত্মগোপনে চলে যান।


পরে কয়েকদিন পর ফতুল্লা থানা ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাসান মাহমুদ পলাশের মাধ্যমে ফর বিগত শক্তি অর্জন করেন সাবেক এমপির মাধ্যমে। তা ছাড়া তার বাসায় ও সেই এমপির পুত্র এসেছিলেন বলে জানা গেছে। পটপরিবর্তনের পর গত ২০২৪ সালের (১১ সেপ্টেম্বর) বিকালে ফতুল্লার রেললাইন বটতলা এলাকায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আড়ালে থেকে গুলি বর্ষণ ও দফায় দফায় আধিপত্য বিস্তারের তাণ্ডবের মাধ্যমে তার আবারো দখলে রাখতে মরিয়া হওয়ার অভিযোগ উঠে আকতার ও সুমন বাহিনীর বিরুদ্ধে।


বর্তমানে ইনিকম টেক্সটাইলসহ প্রায় ২০টি ডাইং ও বড় বড় গার্মেন্ট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে উঠে পরে লেগেছে এই আকতার-সুমন বাহিনীর সদস্যরা।বর্তমানে নানা কায়দায় অপকর্মের রাজত্ব ফের জাগরণ করতে উঠে পরে লেগেছেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতাদের নিজ বাসায় এসে আশ্রয় পশ্রয়ের মাধ্যমে এলাকায় বিশাল আকারের নাশকতার পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে এলাকায় আকতার ও সুমন বাহিনীর পক্ষে তার বাহিনী বেপরোয়া। ফের এদের গ্রেফতারের আওতায় আনতে হবে বলে দাবি স্থানীয় নেতাকর্মীদের।


Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন