সোনারগাঁয়ে সংগঠিত হচ্ছে দুর্ধর্ষ নান্নু-সোহাগের কর্মীরা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
সোনারগাঁয়ে সংগঠিত হচ্ছে দুর্ধর্ষ নান্নু-সোহাগের কর্মীরা
২০২১ সালের দিকে নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সোহাগ রনি ও সোনারগাঁ উপজেলা যুবরীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু পরিকল্পিত ভাবে মামুনুল হককে হেনেস্তা এবং মামুনুল হকের বৈধ স্ত্রীকে অনত্র নারী প্রচার করে মামুনুল হকের সম্মানহানীও করেছিলেন। পরবর্তীতে মামুনুল হককে হেনেস্তা এবং সম্মানহানী করায় আওয়ামীলীগ থেকে পুরস্কার স্বরূপ নৌকার মনোনয়ন পেয়েছিলেন সোহাগ রনি এবং রফিকুল ইসলাম নান্নুকে এই রয়েল রিসোর্ট কান্ডের ঘটনাকে উল্লেখ করে একের পর এক মামলা দায়ের করানোর মাধ্যমে মামলা বাণিজ্যে মহোৎসবে সুযোগ করে দিয়েছিলেন আওয়ামীলীগ।
কারণএই নান্নু-সোহাগের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছেন সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া এলাকার এক বিতর্কিত বিএনপি নেতা। এছাড়া নান্নু-সোহাগের বর্তমান রাজনৈতিক গুরু মাহফুজুর রহমান কালামের কনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে বিভেচিত সোনারগাঁয়ের শীর্ষ পদের অধিকারী সেই বিএনপি নেতারাও শেল্টার পাচ্ছেন। যার কারণে প্রায়ই আত্মগোপন থেকে সোনারগাঁয়ে নিজ বাসভবনে ফেরার সাহসিকতা দেখান নান্নু-সোহাগ।
পরবর্তীতে ছাত্রলীগ-যুবলীগের ক্যাডার বাহিনীদের নিয়ে সোনারগাঁ রয়েল রিসোর্টে প্রবেশ করে মামুনুল হকের অবস্থান করা ৫০১ নম্বর রুমে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করে মামুনুল হক অকথ্য ভাষায় গালামন্দ করেন যুবলীগের সভাপতি নান্নু ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সোহাগ রনি মামুনুল হককে ধাক্কা দেন। নান্নু-সোহাগের এসকল ঘটনা তাদের নিজস্ব ফেইসবুক আইডিতে লাইভ করে দেখিয়ে দেশব্যাপী প্রচারের চেষ্টা করলে হেফাজতের নেতারা সংঘবদ্ধ হয়ে সোনারগাঁ রয়েল রিসোর্টে ধাওয়া দিলে নান্নু-সোহাগ তাদের সাঙ্গ পাঙ্গরা পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে মামুনুল হককে উদ্ধার করতে সক্ষম হন হেফাজতের নেতারা সেদিন সোনারগাঁ হেফাজতের নেতাদের দখলে থাকলেও পরদিন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কুটকৌশলে হেফাজত নেতাদের ধমাতে প্রশাসনের সহযোগীতায় একাধিক মামলার প্রস্তুতি নেন। এমনকি প্রতিবাদ সভা করে আওয়ামীলীগের নেতারা নান্নু-সোহাগকে বাহাবা দেন। এরপরই মামুনুল হককে আসামী করে একের পর এক মামলা দিতে থাকেন নান্নু-সোহাগের পরামর্শে এছাড়া একের পর এক মামলা দিয়ে হেফাজত নেতাদের কাবু ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মামলা অর্ন্তভুক্ত করে মামলা বাণিজ্যে লিপ্ত হন নান্নু-সোহাগ। এরপর মামুনুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত-আরা ঝর্ণাকে নিয়ে নানা নাটকীয়তা সৃষ্ট করেন।
২০২১ সালের ১৮এপ্রিল মামুনুল হককে গ্রেফতার করে একটি মানিব্যাগ চুরির মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপর ২০২১ সালের ৩০ এপ্রিল রহস্যজনকভাবে মামুনুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত-আরা ঝর্ণা থানায় এসে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। তাছাড়া রিসোর্ট কান্ডে নান্নু-সোহাগের ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতার হয়ে মাওলানা ইকবাল নিহত ২০২১ সালের ২১ এপ্রিল নিহত হয়। যার কারণে ইতিমধ্যেই মামুনুল হক আওয়ামীলীগ দোসরদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। কিন্তু এই মামলায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে অণিত সকল অভিযোগের যাচাই বাছাই সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর মামুনুল হককে খালাস দেওয়া হয়।
যার কারণে প্রতিনিয়ত নান্নু-সোহাগের সন্ত্রাসী বাহিনীদের দ্বারা সোনারগাঁয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সেই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন উষ্কানীমূলক বার্তা দিচ্ছেন তারা। এছাড়া দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকার বসুন্ধারা আবাসিক এলাকায় আত্মগোপনে থেকে অবস্থান করে যাচ্ছেন নান্নু-সোহাগ। সেই সাথে বসুন্ধারা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই আওয়ামীলীগের গোপন মিটিং পরিচালনা করেন। বিএনপি নেতাদের শেল্টার গ্রেফতার এড়িয়ে এখনো নান্নু-সোহাগ বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম গোপনে করে যাচ্ছেন। এত তৎপরতার পরও নান্নু-সোহাগকে প্রশাসন গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হচ্ছেন।


