দুবাই থেকে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণে খান মাসুদ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
দুবাই থেকে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণে খান মাসুদ
বন্দর উপজেলার আলোচিত কুখ্যাত সন্ত্রাসী যুবলীগ নেতা খান মাসুদ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এক আতঙ্কের নাম। বন্দরবাসীকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি, ডকইয়ার্ড নিয়ন্ত্রণ, অটো-সিএনজি স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাতে দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজিসহ বিশাল মাদকের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ডাকাতি, ছিনতাই, ঘাট নিয়ন্ত্রণ, ভূমিদস্যূতা সসকল অপকর্ম হতো এই মাসুদের নেতৃত্বেই। যাকে ঘিরে বিগত টানা ১৭ বছর অপকর্মের ভান্ডার নিয়ন্ত্রণ করে শত শত কোটি টাকার মালিক বনেছেন এই সন্ত্রাসী খান মাসুদ।
এদিকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। সেই জোয়ারে কুখ্যাত শামীম ওসমানের ক্যাডার খান মাসুদ ও পালিয়ে যান। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকলে ও কিছুদিন পূর্বে ডুবাইয়ের একটি স্টেডিয়ামে মদ খেয়ে মাতাল অবস্থা উশৃঙ্খল আচরণ করতে দেখা যায় এই সন্ত্রাসীকে। পরবর্তীতে সূত্র অনুযায়ী শোনা গেছে, ডুবাই থেকে আর্থিকভাবে সহযোগীতার মাধ্যমে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের ফের তৎপরতায় আনতে চাইছেন সন্ত্রাসী খান মাসুদ। তা ছাড়া বিএনপির কিছু নেতাদের সঙ্গে যোগসাজস রেখে এখনো বন্দর জুড়ে অপকর্ম ডুবাই থেকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন সন্ত্রাসী খান মাসুদ। তা ছাড়া চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে আসার গুঞ্জনে অনেকটাই সক্রিয় হওয়ার পায়তারা চালাচ্ছেন। এমনকি বন্দরের বিভিন্ন্ এলাকায় বড় ধরনের নাশকতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এরপর এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে বন্দরে অবৈধ বাজার ও বেবীস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন পরিবহন চাঁদাবাজিতে আধিপত্য বিস্তারে ছিলেন এই কুখ্যাত খান মাসুদ। বিভিন্ন সময় অস্ত্রের মহড়া ও হামলা মামলা ও ভাঙচুর চালালে দলীয় ও একটি পরিবারের সাইনবোর্ড থাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে প্রশাসনও ব্যর্থ হয়। এরপর ওসমান পরিবারের মধ্যস্থতায় নানা বিষয় ধামাচাপা দিলে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়ে এলাকাবাসী। খান মাসুদের নিয়ন্ত্রণে একটি বিরাট মাদক সিন্ডিকেটও ছিল। যা প্রকাশ্যে আসে ২০১৭ সালে যখন তার আস্তানায় হানা দিয়ে র্যাব-১১ তাকে গ্রেফতার করে। সে সময় র্যাব তার আস্তানা থেকে পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলিসহ বিদেশী বিয়ারের ক্যান, ২ বোতল বিদেশী মদ ও ৬ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে বলে জানা যায়।
এরপর তার বাহিনীর বিরুদ্ধে পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে অস্ত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগও আসে। তাছাড়া বন্দরের নানা অপরাধের হোতা ভূমিদস্যু, অটোসহ পরিবহন সন্ত্রাসী, পুলিশের অস্ত্র ছিনতাই, খুন, জেনারেটর ব্যবসার অন্তরালে পুরো বন্দর ঘাট এলাকায় প্রতিদিন লাখ টাকা চাঁদা আদায়কারী আমিন ও রূপালী আবাসিক এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, অবৈধ গ্যাস সংযোগ, বিশাল মোবাইল চোর সিন্ডিকেট, মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণসহ অসংখ্য মামলার আসামী এই খান মাসুদ। একই সাথে খান মাসুদের নিয়ন্ত্রিত সন্ত্রাসী মাসুম ওরফে মেতরা মাসুম, বিশেষ পেশার নামধারী ডালিম পুরো বন্দর ও শহরের নদীর পারের বিশাল মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করতেন।
একই সাথে খেয়াঘাটে যাত্রী ছাউনিসহ পুরো এলাকা দখলের পর অস্থায়ী ভিত্তিতে দোকান করে নিম্নে ১০ হাজার আর উর্ধে ২০ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়ে দখলের পাশাপাশি চাঁদাবাজির রাম রাজত্ব চালিয়েছেন বছরের পর বছর। বর্তমানে ও এই সকল অপকর্মই এই খান মাসুদ পরিচালনা করছেন দেশের বাহিরে থেকে কিছু কুখ্যাত যুবদল নেতাদের ম্যানেজ করে। তা ছাড়া অভিযোগ রয়েছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বন্দরের দুর্ধর্ষ হিসেবে পরিচিত পাওয়া খান মাসুদের শেল্টারে বেড়ে উঠেছেন সিফাত ও তার বাহিনী।
খান মাসুদের হয়ে সে বন্দরে নানা ধরনের অপকর্ম করেছেন গত ৫ আগষ্টের পর একাধিক বার। মূলত বন্দরের দখলবাজী, হামলা, ভয় দেখানোর কাজে মাসুদ এ সিফাত বাহিনীকে ব্যবহার করতো এই খান মাসুদ। বর্তমানে বৈষম্যবিরোধী একাধিক মামলা মাথায় নিয়ে দেশের বাহিরে পলাতক সন্ত্রাসী খান মাসুদ। বর্তমানে ডুবাই বসে বন্দরে নাশকতার ছক আকঁছেন তার রেখে যাওয়া পান্ডাদের মাধ্যমে।


