Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

মোমেন-দিপ্ত শিকদারে অশান্ত কাশিপুর

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

মোমেন-দিপ্ত শিকদারে অশান্ত কাশিপুর

মোমেন-দিপ্ত শিকদারে অশান্ত কাশিপুর

Swapno



সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের দমনে সারা দেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’, ‘বিশেষ অভিযান, পরিচালনা হলে ও ফতুল্লা কাশীপুরে গাপ্টি মেরে বসে থাকা ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মোমেন সিকদার ও তার সন্ত্রাসী পুত্র জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি দিপ্ত সিকদার এখনো অধরা। বর্তমানে কাশীপুর হাটখোলার সমাজ উন্নয়ন সংসদের নামে একটি সামাজিক সংগঠনে মোমেন সিকদার ও তার ছেলে দিপ্ত সিকদার তাদের বাহিনীদের বিএনপি বানিয়ে সংগঠনের উপদেষ্টা করে সেই ছায়াতলে আবদ্ধ রয়েছেন।


যারা বিগত দিনে শামীম ওসমানের নামে এলাকায় আতঙ্কে সৃষ্টি করেছিলেন গত ৫ আগষ্টের পর এই বাহিনী বর্তমানে সংগঠনের নামে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে মোমেন সিকদার ও তার ছেলে দিপ্ত সিকদারের হয়ে কাশীপুর হাটখোলার অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন তাদেরই সহযোগী বাহিনী মেজবাহ উদ্দিন দুলাল, আব্বাস, জাফর উল্লাহ, ফিরোজ, আমির, রুবেল সিকদার, গিয়াস উদ্দিনসহ আরো অনেকেই। বর্তমানে সমাজ উন্নয়ন সংসদের নামে আওয়ামী লীগের দোসর পরিবারকে ছায়া দিয়ে রেখেছেন এই প্রভাবশালী বাহিনী।


এদিকে জানা গেছে, বিগত দিনে কুখ্যাত গডফাদার শামীম ওসমানের শেল্টারে কাশীপুরে অপকর্মের রামরাজত্ব কায়েম করেছিলেন মোমেন সিকদার ও তার ছেলে দিপ্ত সিকদার এমনকি তাদের বাহিনীরা। বিগত দিনে কাশীপুরবাসীকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি, অটো-সিএনজি স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাতে দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজিসহ বিশাল মাদকের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ডাকাতি, ছিনতাই, ভূমিদস্যূতা, টেন্ডার বাণিজ্যে, বিচার বাণিজ্যে সবই নিয়ন্ত্রণ করতেন মোমেন সিকদার ও তার ছেলে। যার ফলে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।


তা ছাড়া সূত্র জানিয়েছে, জুলাই আন্দোলনে মোমেন সিকদার ও তার ছেলে দিপ্ত সিকদার সমাজ উন্নয়ন সংসদে ছাত্র-জনতার উপরে গুলি ও হামলা করার সকল অস্ত্র রেখেছিলেন। একই সাথে বিগত দিনে তাদের অপকর্মের জন্যই এটা ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে ঠিক একই ভাবে সংগঠনের আওয়ামী লীগের সেই সভাপতি-সেক্রেটারী এদের নাম দিয়ে বর্তমান বিএনপির কিছু উপদেষ্টারা মোমেন সিরকদারের নির্দেশনায় নয়-ছয় করে খাচ্ছেন। বর্তমানে পুলিশ-প্রশাসন এবং বিএনপির একটি পক্ষের সঙ্গে ম্যানেজ করে এলাকায় এবং বন্দরে দেদারসে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মোমেন সিকদার ও তার ছেলে। বর্তমানে কাশীপুরে গুপ্ত থেকে নানা অপকর্মে রয়েছে এই সিকদার পরিবার।


স্থানীয়দের অভিযোগ, মোমেন সিকদার ও দিপ্ত সিকদারের শেল্টারে কাশীপুর সমাজ উন্নয়ন সংসদের নামে অপকর্ম চালাচ্ছেন তাদের বাহিনীরা। মেজবাহ উদ্দিন দুলাল, আব্বাস, জাফর উল্লাহ, ফিরোজ, আমির, রুবেল সিকদার, গিয়াস উদ্দিন, টি মহিউদ্দিন। তা ছাড়া দীর্ঘ ১৯ বছর যাবৎ চুরির বিদ্যুৎ দিয়ে সংগঠনের অফিস, ৯টি দোকানে সাব মিটার দিয়ে দোকান প্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা, জিম থেকে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা এমনকি একটি মিনি গার্মেন্টস থেকে মাসে প্রায় ১২ হাজার বেশি টাকার মোটা অংকের বিদুৎ বিল কালেকশন করা হয়। তা ছাড়া ২ লাখ ১ লাখ করে এডভান্স নিয়ে ফুটপাতে দোকান ১৫টি দোকান ভাড়া দিয়েছিলেন সংগঠনের নামে।


এরই পাশাপাশি ১৫টি দোকান থেকেই নিয়মিত বিদ্যুৎ বাবদ ১০০ করে মাসে ৪৫ হাজার টাকা কালেকশন করা হতো। সব মিলিয়ে চুরির বিদ্যুৎ বিল মাস শেষে প্রায় লাখ টাকার কাছাকাছি হিসেবে ধারায় বলে জানা গেছে। তা ছাড়া রাস্তার কাজের জন্য ফুটপাত কিছু মাস যাবৎ বন্ধ রয়েছে। রাস্তা ঠিত হলেই ফের চালু হবে সেই পুরনো ফুটপাতের দোকানগুলো।  এদিকে গত ১৯ বছর যাবৎ এভাবেই সরকারকে লুটে খাচ্ছে এই সংগঠনের একাংশের লুটেরারা।


এদিকে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় মেগাওয়াটের ঘাটতির কারণে বেড়েছে লোডশেডিং। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বেড়েছে ভোগান্তি, গ্রাহকদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ। এদিকে বিগত দেড় যুগ নানাভাবে বিদ্যুৎ অফিসারদের সাথে প্রভাব খাটিয়ে চুরি চালালেও এই খবর গত (৩০ অক্টোবর)  ঢাকা পাওয়ার ডিভিশনের স্পেশ্যাল টিম বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করেন এবং উপদেষ্টা কয়েকজনের নামে মামলা ও ১২ লাখ টাকা জরিমানা করেন ম্যাজিস্ট্রেট।


সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকলে ও বিকালের পর ফের চুরির লাইন চালু করা হয়। তা ছাড়া মামলা ও জরিমানা তোয়াক্কা না করে আবার চুরির বিদ্যুৎ লাইন চালু করতে যাচ্ছে সংগঠনের সভাপতিসহ সদস্যেদের নামে সেই কথিত উপদেষ্টারা। বর্তমানে মোমেন সিকদার ও দিপ্ত সিকদার এলাকায় তাদের বাহিনী দিয়ে ফের অপকর্মের নীল নকশা আঁকছেন। তা ছাড়া আগামী ডিসেম্বর মাসে আওয়ামী লীগের নাশকতার পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নে কাশীপুরে অবস্থান করেই মোমেন সিকদার ও দিপ্ত সিকদার গুপ্ত আলোচনায় মগ্ন রয়েছেন। বর্তমানে কাশীপুরবাসী এই মোমেন সিকদার ও তাদের বাহিনীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছেন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন