বিএনপির ছায়ায় ওসমান দালাল তেল চোর দেলোয়ার প্রধান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
বিএনপির ছায়ায় ওসমান দালাল তেল চোর দেলোয়ার প্রধান
বন্দরে বহু অপরাধ জগৎ এর নিয়ন্ত্রণ কলাগাছিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার প্রধান। ছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি। একই সাথে ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এই দেলোয়ার। বিগত আওয়ামী লীগ আমলে তারই অত্যাচারে বাসায় থাকতে পারেনি বিএনপির বাঘা বাঘা একাধিক নেতাকর্মী এলাকা ছেড়ে গাঁ ডাকা দিয়ে ছিলেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে এই দেলোয়ার মদনপুরে প্রকাশ্যে ছাত্র-জনতার উপর গুলি চালিয়ে ছিলেন।
সেই হিসেবে বৈষম্যবিরোধী মামলায় কিছুদিন জেল হাজতে থাকলে ও বিএনপির শেল্টারে জামিনে বেড় হয়ে আবারো এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন এই দেলোয়ার প্রধান। বর্তমানে বিএনপির ছায়ায় ফের চোরাই কারবার ও ফের অপকর্ম জাগিয়ে তুলছেন এই দেলোয়ার প্রধান। সাংসদ নির্বাচনে এই দোসরকে ধানের শীর্ষের পক্ষে মাঠে নামতে দেখা নিয়ে বিএনপিতে ক্ষোভ দেখা গেলে ও সেই পক্ষই বর্তমানে দেলোয়ারের পিছনে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে শেল্টার দিচ্ছেন।
এদিকে জানা গেছে, ওসমান পরিবারের আশীর্বাদে একাধিকবার বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিতও হয়েছেন এই দেলোয়ার। বিগত দিনে আওয়ামী লীগের শেল্টারে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল ডিপো থেকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তেল চুরির করে প্রধান পাম্প দিয়ে ব্যবসা চালাতেন। এক সময়ে কুলি থেকে তেল চুরি করে বনে যান হাজারো কোটি টাকার মালিক।
বন্দর এলাকায় গড়ে তুলেন এক অপরাধ সাম্রাজ্য। যার শেল্টার হিসেবে প্রকাশ্যেই ছিলেন সাবেক সাংসদ সেলিম ও শামীম ওসমান। তা ছাড়া ওসমান পরিবারের এই ‘দাক্ষিণ্যের’ বিপরীতে সবসময় তাদের সার্ভিস দিয়ে গেছেন দেলোয়ার। ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বন্দরে এক অনুষ্ঠানে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির নেতা দেলোয়ার হোসেন প্রধান প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, আমি কোনো পার্টি বুঝি না।
আমি বুঝি কেবল ওসমান পরিবার। আমি ওসমান পরিবারের সৈনিক। এখন এই সৈনিক বিএনপির। এদিকে বিগত দিনে শীতলক্ষ্যা নদী দিয়ে তেলের জাহাজ গেলেই তাদের সঙ্গে লবিং করে তাদের আধারে তেল চুরির চালাতেন এই দেলোয়ার সবই ওসমানদের ছায়ায়। তা ছাড়া বন্দর জুড়ে ভূমিদূস্যতা, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার, টেন্ডার বাজি সব জায়গায় নিয়ন্ত্রণ ছিলো এই দেলোয়ার প্রধানের। যার অত্যাচারে নাস্তানাবুদ ছিলেন বিএনপি-জামায়াতসহ স্থানীয় জনগণ। তিনিই স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পালালে ও টাকার উপরে বিএনপির কথিতদের ম্যানেজ করে এলাকায় বহাল তবিয়তে।
স্থানীয়রা বলছেন, সাবেক সাংসদ সেলিম ওসমানের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন, যাদের তিনি ‘মাই ম্যান’ বলে সম্বোধন করতেন। এই তালিকার অন্যতম ছিলেন দেলোয়ার প্রধান। স্থানীয়দের অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা একাধিক মামলায় তিনি আসামি। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাবাসের পর হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্ত হন তিনি।
বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানান, কলাগাছিয়া ইউনিয়নে বিএনপি নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের কাছে ‘ত্রাসের’ নাম ছিল দেলোয়ার হোসেন প্রধান। বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের সময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সার্চ করা, পুলিশকে তথ্য দিয়ে গ্রেপ্তার করানোর সমন্বয় করেছেন তিনি। কলাগাছিয়া ইউনিয়নের নিশং, চুনাভুরা, বুরুন্দি ও আলীনগর এলাকার মানুষজন দেলোয়ারের কারণে ব্যাপক নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দেলোয়ার বিএনপির অন্তত দেড় থেকে দুইশ’ কর্মী-সমর্থককে গ্রেপ্তারের করানোর পেছনের কারিগর ছিলেন বলেও অভিযোগ স্থানীয় বিএনপি নেতাদের। এদিকে বিএনপি নেতাদের ম্যানেজ করে ফতুল্লা ও বন্দরে ব্যবসা ঠিক রেখেছেন এই দালাল দেলোয়ার প্রধান।


