Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

এমপির প্রভাবে বহিষ্কার এড়িয়ে স্বপদে বহাল বিএম ডালিম

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

এমপির প্রভাবে বহিষ্কার এড়িয়ে স্বপদে বহাল বিএম ডালিম

এমপির প্রভাবে বহিষ্কার এড়িয়ে স্বপদে বহাল বিএম ডালিম

Swapno

নারায়ণগঞ্জ-৩  (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সাংসদ আজহারুল ইসলাম মান্নানের নাম ভাঙিয়ে ক্ষমতার দাম্ভিকতায় সিনেমার গল্পকে হার মানাচ্ছিলেন সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার বিতর্কিত সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সদস্য বিএম ডালিম। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে ডালিম হচ্ছেন সন্ত্রাসীদের গডফাদার,বালুখেকো,চাঁদাবাজ,দখলবাজ,ভূমিদস্যু। তবে এই দুর্ধর্ষ এই ডালিম পূর্বে থেকেই ছিলেন একজন পেশাদার সন্ত্রাস,বালুখেকো,ভূমিদস্যু।


কিন্তু এমপি মান্নানের আশকারায় এবং এমপি পুত্র সজীবকে ছায়া এমপি হিসেবে রূপান্তিত করে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদীয় এলাকা সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জের অঘোষিত নিয়ন্ত্রক বনে যান। যার কারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের কোনঠাসা করে আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসী বাহিনীদের শেল্টার দিয়ে বিভিন্ন ইন্ডাষ্ট্রি,হাট,মাঠ,ঘাট,স্ট্যান্ড,লেন্ডিং স্টেশন,ভূমি দখলসহ নানা অপকর্মে জর্জরিত ছিলেন। এছাড়া ডালিম তার অবৈধ অর্থের প্রভাবে লিটন হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী হয়েও দীর্ঘদিন দেদারছে ঘুড়ে বেড়াচ্ছিলেন।


সম্প্রতি কাঁচপুর ইউপি নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় লিটন হত্যা মামলায় আগাম জামিন লাভে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁকে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন। এরমধ্যে প্রতারণার মাধ্যমে ডালিমের তৃতীয় স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্কের ঘটনা প্রকাশ পায়। এত অপকর্মের পর এবং হত্যা মামলার দায়ে কারাবরণ করলেও এখনো সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সদস্য পদে বলবৎ রয়েছেন ডালিম। যেখানে এখনো নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন।


গত ২৫ আগস্ট সোনারগাঁ থানার লিটন হত্যা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন ডালিম। এদিকে দীর্ঘদিন ডালিমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। যার কারণে তাঁকে জামিন নামমঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। তার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চত করেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর একই এলাকার ৩০ বছর বয়সী লিটন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ঘটনার দুই দিন পর নিহতের বড় বোন রাশিদা বেগম সোনারগাঁ থানায় ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।


সেখানে কুদরত আলীর ছেলে বিএম ডালিম দ্বিতীয় আসামী ছিল। সূত্র নিশ্চিত করেছে, আসন্ন কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী তিনি। নির্বাচনের আগে মামলাগুলোতে জামিনে থাকার উদ্দেশ্যেই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন। এদিকে ডালিম প্রকাশ্যে থাকার পরও গ্রেপ্তারী পরোয়ানা ভুক্ত আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেননি পুলিশ। এদিকে গত ২১ জুন রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা এমপি মান্নান পুত্র নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবকে আটক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হলেও সেখানে দেখা যায় বিএম ডালিমকে। পুলিশ সুপার কার্যালয়ে বিএম ডালিমকে দেখা গেলেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ভুক্ত আসামী বিএম ডালিমকে গ্রেফতার করতে পারেননি পুলিশ। সম্প্রতি বিএম ডালিমের বিরুদ্ধে প্রতারণা করে বিয়ে করার অভিযোগ করেছেন ফারজানা আক্তার কানন নামে এক বিধবা নারী।

মানিকগঞ্জ সদরের বাসিন্দা কাননের অভিযোগ, ডালিম প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তাকে বিয়ে করলেও পরে সেই বিয়ের স্বীকৃতি দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। এমনকি ডালিমের আগের স্ত্রীও তাকে মুঠোফোনে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। কানন বর্তমানে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বসবাস করছেন। তিনি বলেন, অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ডালিম তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন এবং স্বীকৃতি চাওয়ায় তাকে ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।


তার দাবি, গত বছর ডালিমের ব্যক্তিগত গাড়িচালকের মাধ্যমে তার সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে গত বছরের ১০ মে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় শরিয়া পদ্ধতিতে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন ও রেজিস্ট্রি করার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে ডালিম তা করেননি বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।


এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ডালিম গ্রেফতার হয়ে থানায় আত্ম সমর্পণ করেন। এর আগে প্রায় ১কোটি টাকা চাঁদাবাজি এবং বাড়ি দখল করে নেয়ার অভিযোগে বন্দর থানায় বিএম ডালিমের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। কারণ বন্দর থানা এলাকায়ও দুর্ধর্ষ ডালিম এবং তার বাহিনীর খবরদারী চলে আসছিল। এর প্রধান কারণ হচ্ছে ডালিম হচ্ছেন কাঁচপুর ইউপির কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা এর এই এলাকাটি সাথে বন্দরের থানার কিছু এলাকা সংযুক্ত সে সকল এলাকাতেও দুর্ধর্ষ ডালিমের খবর দারি চলে। অনন্যা মরিয়ম নামে একজন ভুক্তভোগী গৃহীনী বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ডালিম বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগে নামীয় ১৬জন এবং অজ্ঞাত ২৫জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।


নামীয় অভিযুক্তরা হচ্ছেন, ১। ডালিম (৫০) পিতা- কুদরত আলী, সাং- কুতুবপুর, ২। আজিজুল রহমান (৫২) পিতা- মতিউর রহমান, সাং- কুতুবপুর, ৩। মজিবর (৫৫) পিতা- সামদাদ কারি, সাং- কুতুবপুর, সর্ব থানা- সোনারগাঁও, ৪। বালু মনির (৫২) পিতা- আসাদ, সাং- হরিপুর, থানা- বন্দর, ৫। রাসেল (৪৫) পিতা- আলী, সাং- কুতুবপুর, ৬। মোস্তাক (৫৩) পিতা- কলম হাজী, সাং- কুতুবপুর, ৭। আকাশ (২৫) পিতা- আক্তার, সাং- কুতুবপুর, ৮। মাসুম (৪৩) পিতা- ইসলাম, সাং- কুতুবপুর, ৯। আলিফ (২৪) পিতা- অজ্ঞাত, সাং- কুতুবপুর, ১০। বাবুল (৫২) পিতা- আব্দুল কাদির, সাং- কুতুবপুর, সর্ব থানা- সোনারগাঁও, ১১। শাহজালাল সাজু (৫০) পিতা- গোলেননুর, সাং- হরিপুর, ১২। মুস্তাক (৪৮) পিতা- আলা উদ্দিন, সাং- হরিপুর, উভয় থানা- বন্দর, ১৩। নাদিম (৫০) পিতা- কাশেম, সাং- কুতুবপুর, ১৪। গোলজার (৪২) পিতা- ইসলাম, সাং- কুতুবপুর, ১৫। খোকন দেওয়ান (৪০) পিতা- ইয়াকুব দেওয়ান, সাং- কুতুবপুর, ১৬। জুম্মান।


অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৯ জুন বিকেল ৪টার দিকে অভিযুক্তদের কয়েকজন হরিপুর এলাকায় তাদের বাড়িতে গিয়ে তার কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে এবং স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা চালায়। অভিযোগে আরও বলা হয়, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাকে অন্য দুই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে। এতে অনীহা প্রকাশ করলে তারা দলবদ্ধভাবে বাড়িতে প্রবেশ করে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।


এ সময় বাড়ির ভাড়াটিয়াদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে খবর পেয়ে অনন্যা মরিয়ম জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভুক্তভোগী গৃহিনী অনন্যা মরিয়ম জানিয়েছেন, প্রায় ১সাপ্তাহ যাবৎ আমাকে হয়রানি করতেছে কিছু সন্ত্রাসী বাহিনীরা আমার থেকে কোটি টাকা চাঁদা দাবি করতেছে। আমরা হাসবেন্ড ৬মাস যাবৎ জেলে। তারপর থেকেই বিভিন্ন ভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফোনে হুমকি ধামকি দিয়ে আসতাছে কোটি টাকা চাঁদা দাবি করতাছে।


আমি দেই নাই বিদায় আমার ভাড়াটিয়া বাসার ভাড়াটিয়াদের মারধর করে হুমকি দেয়া হয়েছে সকাল ১১টার মধ্যে সকলকে বাড়ি ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ডালিম হচ্ছে প্রধান তার সন্ত্রাসী বাহিনীরা অন্যরা হচ্ছেন বালু মনির,আজিজুল,মজিবর,রাসেল,বাবুল যারা আমার কাছে চাঁদা দাবি করেছে। আমার কাছে ভিডিও ও রেকোর্ডিং পর্যন্ত আছে। এছাড়া আমার বাড়ি ভাঙচুর করেছে সেই সিসি ফুটেজও আমার কাছে আছে। ইতিমধ্যে আমি থানায় সাবমিট করেছি। সুস্থ তদন্তের মাধ্যমে এর বিচার হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্থক্ষেপ কামনা করছি।


তারেক রহমান যেন যেভাবে সন্ত্রাসী এবং চাঁদাবাজ বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেও নেয়। এ বিষয়ে বন্দর থানার ওসি জামাল উদ্দিন জানান অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এলাকায় ডালিমের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ। যেগুলো স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মুখে মুখে শোনা যায়।


এছাড়া তার উপর স্থানীয় এমপির ছাঁয়া রয়েছে বিদায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা তার উপর ক্ষোভের বহিঃবিকাশ ঘটাতে পারছে না। এত কিছুর পরও বহু অপকর্মের হোতা বিএম ডালিমকে দলীয় পদে বহাল তবিয়তে রাখছেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপি। হত্যা মামলায় কারাগারে অবস্থান করলেও এখনো ডালিম বহিষ্কার না হওয়ায় স্থানীয় বিএনপি নেতাদের তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন