Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

ফতুল্লার ৩ ইউনিয়নের সীমানা নিয়ে জটিলতা বাড়ছে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

ফতুল্লার ৩ ইউনিয়নের সীমানা নিয়ে জটিলতা বাড়ছে

ফতুল্লার ৩ ইউনিয়নের সীমানা নিয়ে জটিলতা বাড়ছে

Swapno



নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রস্তাবিত নতুন সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সদর উপজেলার ফতুল্লা ইউনিয়ন, কাশীপুর ইউনিয়ন ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মাঝে। গত (২৭ জুলাই) প্রথম দাপে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ইউনিয়নগুলোর গণশুনানি হয়। সেদিন এই তিনটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা জেলা প্রশাসককে দাবি জানান ১ টি ২টি ওয়ার্ড নয় সিটি নিলে পুরো ইউনিয়ন নিবে না হয় ওয়ার্ড দিতে রাজি নয় কেউ।


এমন ক্ষোভে বিএনপির কিছু পক্ষ সুবিধা নিতে চাইছেন । এদিকে প্রশাসনের প্রস্তাবে কুতুবপুর ইউনিয়নকে সম্পূর্ণভাবে সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার কথা বলা হলেও ফতুল্লা, কাশীপুর ও এনায়েতনগরের কেবল আংশিক এলাকা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ইতিমধ্যে ১ম দাপে গণশুনানি হলে ও আগামী (১১ আগষ্ট) মঙ্গলবার এই ৩ টি ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলদের সম্মূর্খে গণশুনানি করবে জেলা প্রশাসক।


এদিকে সমীনা নিয়ে ফতুল্লায় শুরু হয়েছে দ্বিমুখী আচরণ। আরেক তৃমুখী পক্ষ চাচ্ছেন পুরো ফতুল্লা সিটির আওতায় আসুক আর ফতুল্লাকে সিটিতে না নিয়ে পৌরসভায় রূপান্তরিত করা হোক। ইতিমধ্যে বিভিন্নমত নিয়ে গণস্বাক্ষর ইতিমধ্যে জমা পরেছে কি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত উঠে আসে তা আগামী ১১ আগষ্ট মঙ্গলবার উঠে আসছে। বর্তমানে এই ৩ ইউনিয়নের জটিলতা কি ভাঙার পথে সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।


বিশ্লেষক মহল বলছে, সিটি কর্পোরেশনের সীমানা বাড়া কেবল আয়তনে বৃদ্ধির ব্যাপার নয়, ভোটারের পাশাপাশি নতুন এলাকা সংযুক্ত হওয়াতে সেই এলাকার রাজনৈতিক আধিপত্য, সামাজিক প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এতদিন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য সদর, বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জের তথা নারায়ণগঞ্জ মহানগরের রাজনীতির হাওয়ার খবর রাখাটাই ছিল জরুরি। এবার কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদ যুক্ত হওয়াতে সেখানের স্থানীয় রাজনীতির একটি বড় অংশই মহানগরের বাইরে, ফলে নতুন এলাকা নতুনভাবে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করবে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই মত অনেকের।


স্থানীদের ভাষ্য, যখন একটি ইউনিয়ন সম্পূর্ণভাবে সিটি কর্পোরেশনের আওতায় নেওয়া হচ্ছে, তখন পাশের ইউনিয়নের একই ধরনের জনবসতি ও নগরায়িত এলাকাকে টুকরো টুকরো করে বাদ দেওয়ার যৌক্তিকতা কী এই প্রশ্নের কোনো উত্তর প্রশাসন দেয়নি। সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে এনায়েতনগর ইউনিয়ন নিয়ে। গণবিজ্ঞপ্তিতে ৮ নম্বর ওয়ার্ডকে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব থাকলেও পাশের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ফতুল্লা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কেবল একটি অংশ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, অথচ একই ওয়ার্ডের অপর অংশ আগের মতোই ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে থাকবে।


এ ধরনের সিদ্ধান্তে স্থানীয়দের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, একই ওয়ার্ডের একাংশ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আর অন্য অংশ ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে থাকলে প্রশাসনিক কার্যক্রম, নাগরিক সেবা, কর ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জটিলতা সৃষ্টি হবে। এদিকে বর্তমানে বিএনপির একাধিক নেতা কাশীপুর, ফতুল্লা ইউনিয়ন, এনায়েতনগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনা দেখাচ্ছেন। এমতা অবস্থায় নাসিকের সীমানা সম্প্রসারণে ইউনিয়নগুলোর একাংশ আওতায় আশার নোটিশে নাখোশ সেই পক্ষ।


বর্তমানে এক পক্ষ চাইছেন পুরোই ফতুল্লা সিটি এলাকার আওতায় আসুক আরেক পক্ষ জনগণকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সিটি কর্পোরেশনের বাহিরে ইউনিয়নই রাখতে চাইছেন। সীমানা সম্প্রসারণের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ী মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতের পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সমন্বিত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হলে চারটি ইউনিয়নের পুরো এলাকাকেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। অন্যথায় প্রশাসনিক জটিলতা ও বৈষম্য তৈরী হবে এই অঞ্চলগুলোতে।


যাকে ঘিরে ফতুল্লাবাসীর আবেদন যারা ট্যাক্সসহ নানা সমস্যা দেখিয়ে ভূল বাঝানোর চেষ্টা করলে ও ফতুল্লাকে সিটি কর্পোরেশনের আওতায় চায় পুরো ফতুল্লাবাসী। তা নিয়ে প্রয়োজনে আন্দোলন হোক যা ই হোক সবই করতে রাজি ফতুল্লাবাসী। সকলেই জলাবদ্ধতাসহ সকল দিক থেকে মুক্তি পেয়ে মডেল নগরে যোগ দিতেই মর্জি জানাচ্ছেন। এদিকে আগামী (১১ আগষ্ট) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২য় দাপের গণশুনানিতে সকলেই গণস্বাক্ষর নিয়ে ব্যাপক উপস্থিতির পরিকল্পনা রেখেছেন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন