দুই বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে কাঠেরপুলের অপরাধ জগৎ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
দুই বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে কাঠেরপুলের অপরাধ জগৎ
ফতুল্লার কুতুবআইল, কাঠেরপুল, রামারবাগ এলাকার সকল অপকর্ম মাদক ব্যবসায়ী খালিদ হাসান রবিন ওরফে পিস্তল রবিন ও ইয়াবা সোহেল এই দুই বাহিনীর নিয়ন্ত্রণেই চলছে। এই দুই কুখ্যাত সন্ত্রাসী এলাকায় একক আধিপত্য, মাদক ব্যবসা ও ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছেন। বিগত সময় এই দুই অপকর্মকারী ফতুল্লার যুবলীগ নেতা আজমত ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ্ নিজামের অনুসারী ছিলেন।
তৎকালীন সময়ে তাদের প্রভাব বিস্তার করে কাঠেরপুল এলাকায় গড়ে তুলেছিলো মাদকের বিশাল সম্রাজ্য। হাসিনা সরকার পতনের পরে কিছুদিন গাঁ ঢাকা দিলেও বর্তমানে জেলা বিএনপি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির কিছু নেতার ছত্রছায়ায় আবার সেই আগের মাদক সম্রাজ্য গড়ে তুলেছে রবিন ও সোহেল। বর্তমানে নিজেকে তরুণ দলের নেতা পরিচয় দিয়ে বিএনপির ছায়ায় পার পাচ্ছেন রবিন অন্যদিকে বাবা সাবেক বিএনপি নেতা অলি মিয়া ও ভাই রুবেল যুবদল নেতা এই সাইনর্বোড দিয়েই এলাকায় অপকর্ম করছেন এই সোহেল। তা ছাড়া ফতুল্লা বিএনপির একজন শীর্ষ নেতাসহ জেলা যুবদল, জেলা বিএনপির একাংশ তার ছেলেপেলে দিয়ে ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করতে তাকে কাজে লাগাচ্ছেন।
বর্তমানে কিছুদিন এলাকা থেকে পালিয়ে গেলে ও বর্তমানে রাতের অন্ধকারে কিছু সময় দুপুরে এলাকায় দেখা মিলে এই রবিন-সোহেলের। তা ছাড়া এদের সাঙ্গপাঙ্গরা এলাকায় দেদারসে ঘুরপাক খাচ্ছে। এখনো এই এলাকার সকল অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছেন এই বাহিনী। সূত্র বলছে, প্রশাসন চাইলে তাদের খোঁজ তাদেরই সহযোগী শেল্টার দাতা হিসেবে পরিচিত গোলজার এবং সোহেলের বাবা অলি মিয়া। এদেরকে জোরদার জিজ্ঞেসেই এই দুই অপরাধকারীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব।
তা ছাড়া রবিনের সহযোগী রামারবাগের গিট্টু বর্তমানে রবিনের মাদকের স্পট পরিচালনা করছেন। গত ২৫ জুলাই বিকালে পুলিশ রবিনের সহযোগী রামারবাগের গিট্টু বাহিনীর আস্তানায় অভিযান দিয়ে দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে গোলজার বাহিনীর ছায়ায় বেপারোয়া হয়ে উঠছে এই রবিন বাহিনী। অন্যদিকে আরো সোহেল পালিয়ে থাকলে ও এলাকায় থাকা তার ৩টি মাদকের স্পট চালু রেখেছেন তারই সহযোগী কোবরা ইমন, বল্লা ইমন, সোহাগ এরা ১০০ সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করছেন।
থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক এসকে শাহীনের কায়েমপুরের অফিসে নির্বাচনের কয়েকদিন আগে এসকে শাহীনের অফিসে একাধিক গুলিবর্ষণ করে কয়েকশত সদস্যের কিশোরগ্যাং নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠে রবিন গংদের বিরুদ্ধে। এদিকে খালিদ হাসান ওরফে রবিনের মাদক ব্যবসা শুরু ২০১০ সালের দিকে। তবে প্রথম মামলা হয় ২০১৩ সালে। ওই বছর ১৫ এপ্রিল ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করা হয় তার বিরুদ্ধে। যেটির নম্বর- ৩২। ২০১৮ সালের ১৯ এপ্রিল আরো একটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়। যার নম্বর-৮০।
এছাড়া ২০২২ সালের ১৩ জুন ঢাকা রমনা থানা পুলিশের কাছে মাদক সহ গ্রেপ্তার হন ফতুল্লার এই শীর্ষ মাদক কারবারি। ওই ঘটনায়ও একটি মামলা দায়ের করা হয় তার বিরুদ্ধে। যার নম্বর- ১৭/১৭৯। ২০২৩ সালের ১০ মে নরসিংদী জেলার শিবপুর থানা পুলিশের হাতে মাদক সহ গ্রেপ্তার হন রবিন। সে ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর-১২। একই বছর ১৬ আগস্ট ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের হাতে মাদক সহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়। যার নম্বর-৪১। ২০২৩ সালের ৬ নভেম্বর ফতুল্লা মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের হয়। যার নম্বর-১১। তা ছাড়া ও একাধিক মাদক মামলা ও অস্ত্র মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তা ছাড়া ফতুল্লার কাঠেরপুলস্থ মেট্রো গার্মেন্টস, লিবার্টি গার্মেন্টস, টাইম সোয়েটার ও মিশর সহ অন্তত ১০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানে সরাসরি সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারীদের হস্তক্ষেপ হয় ৫ আগস্টের পর। বেশ কয়েকটি গ্রুপ সংঘবদ্ধভাবে ঝুট সেক্টর, প্রতিষ্ঠানগুলোতে খাবার দেওয়া থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরণের অর্থনৈতিক কার্যক্রম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইলে এক সময় তাদের মধ্যে বনিবনা হয় এবং একাধিক গ্রুপের নেতৃত্বে চলে আসে কথিত বিএনপি নেতা অলি আহম্মেদের পুত্র সোহেল খন্দকার। যার বিরুদ্ধে মাদক কারবার সহ বিভিন্ন অপরাধের ১৫ মামলা রয়েছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে আজমতের হয়ে সবচেয়ে বড় মিছিল-মিটিংয়ের নেতৃত্ব দেওয়া সোহেল ছিল ওই এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারী। নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবির হাতে বিপুল পরিমাণ গাঁজা- ফেন্সিডিল এমনকি মিন্টো রোড'র ডিবি পুলিশের হাতে এক মন গাঁজা সহ গ্রেপ্তারের খবরও রয়েছে সোহেলের বিরুদ্ধে। মূলত, এলাকার কিশোরগ্যাং নিয়ন্ত্রণ করার কারণে অল্প সময়ের মধ্যে চার থেকে পাঁচশ' যুবক-তরুণ হাজির করতে পারাই সোহেলের মূল শক্তি। ঠিক এই কারণেই ওই এলাকার সোহেলের বিরুদ্ধে সকলে কথা বলতে ভয় পায় বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধান বলছে, ফতুল্লার বৃহত্তর কুতুবআইল, কাঠেরপুল ও রামারবাগ এলাকায় মাদকের বিশাল সাপ্লায়ার আওয়ামী দোসর সোহেল। যার সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে মাদক কার্যক্রমের সব পরিচালনা করে থাকে ইমন ওরফে কোবরা ইমন। এই কোবরা ইমনের নেতৃত্বে অন্তত ২০০ যুবকের একটি গ্যাং দিয়ে এলাকায় অপকর্মের পাহাড় বনে তুলেছেন। বর্তমানে পুলিশ ও তাদের কাছে অসহায় হয়ে পরেছেন। নানা চেষ্টার পরে ও এলাকায় ঘুরে গিয়ে ও গ্রেফতার হচ্ছে না এই বাহিনীর সদস্যরা। যা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।


