# মাদকব্যবসায়ী রবিন ও সোহেল পলাতক, অভিযান চলমান রয়েছে : এডি.এসপি তারেক আল মেহেদী
ফতুল্লার কুতুবআইল, কাঠেরপুল, রামারবাগ এলাকায় মাদকব্যবসার ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান পরে সংঘর্ষ পাল্টাপাল্টি ডিসি-এসপিকে স্মারকলিপি দিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ইয়াবা সোহেল খন্দকার ও খালিদ হাসান রবিন ওরফে পিস্তল রবিন। এদিকে দুইজনের বিরুদ্ধে অস্ত্রবাজী ও মাদক ব্যবসার ডিলার হিসেবে মামলা রয়েছে।
একই সাথে এলাকায় কিছু বিএনপি, যুবদল নেতাসহ কুতুবআইল শতদল সামাজিক সংগঠনসহ বিশেষ পেশার কিছু লোকদের শেল্টারে ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন এই বাহিনী। এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী নিশ্চিত করেছেন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রবিন ও সোহেল বাহিনী পলাতক রয়েছে, এলাকায় নেই।
জানা গেছে, বিগতদিনে এই খালিদ হাসান রবিন ওরফে পিস্তল রবিন এবং ইয়াবা সোহেল ফতুল্লার যুবলীগ নেতা আজমত ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ্ নিজামের অনুসারী ছিলেন। তৎকালীন সময়ে তাদের প্রভাব বিস্তার করে কাঠের পুল এলাকায় গড়ে তুলেছিলো মাদকের বিশাল সাম্রাজ্য। হাসিনা সরকারের পতনের পরে কিছুদিন গাঁ ঢাকা দিলেও বর্তমানে জেলা বিএনপি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির কিছু নেতাসহ যুবদল নেতা সালাউদ্দিন রানা, সাবেক ছাত্রদল ও বর্তমান বিএনপি নেতা আরিফুর রহমান আরিফের ছত্রছায়ায় আবার সেই আগের মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে রবিন ও সোহেল
বর্তমানে নিজেকে তরুণ দলের নেতা ও যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে বিএনপির বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিয়ে সন্ত্রাসী দল ভারী করছেন। তা ছাড়া গত ৫ আগষ্টের পরবর্তীতে সাভার ইপিজেড এলাকায় কাস্টমস ইন্সপেক্টর মারুফের শেল্টারে এলাকায় ঝুট ও মাদক ব্যবসা করেছিলেন এই সোহেল ও রবিন বাহিনী।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, খালিদ হাসান ওরফে রবিনের মাদক ব্যবসা শুরু ২০১০ সালের দিকে। তবে প্রথম মামলা হয় ২০১৩ সালে। ওই বছর ১৫ এপ্রিল ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করা হয় তার বিরুদ্ধে। যেটির নম্বর- ৩২। ২০১৮ সালের ১৯ এপ্রিল আরো একটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়। যার নম্বর-৮০। এছাড়া ২০২২ সালের ১৩ জুন ঢাকা রমনা থানা পুলিশের কাছে মাদক সহ গ্রেপ্তার হন ফতুল্লার এই শীর্ষ মাদক কারবারি। ওই ঘটনায়ও একটি মামলা দায়ের করা হয় তার বিরুদ্ধে।
যার নম্বর- ১৭/১৭৯। ২০২৩ সালের ১০ মে নরসিংদী জেলার শিবপুর থানা পুলিশের হাতে মাদক সহ গ্রেপ্তার হন রবিন। সে ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর-১২। একই বছর ১৬ আগস্ট ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের হাতে মাদক সহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়। যার নম্বর-৪১। ২০২৩ সালের ৬ নভেম্বর ফতুল্লা মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের হয়।
যার নম্বর-১১। এমন আরো একাধিক মামলার পিসিআর রয়েছে এই রবিনের বিরুদ্ধে। একই সাথে কাঠেপুল, রামারবাগ এলাকায় ১০০ এর অধিক সিসি টিভি ক্যামেরা লাগিয়ে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে ইয়াবা সোহেল খন্দকারের বিরুদ্ধে। যার বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র, ভাংচুরসহ প্রায় ১৫টির অধিক মামলা রয়েছে। এদিকে কাঠেরপুল, কুতুবআইল, রামারবাগ, কায়েমপুর, শিবুমার্কেট এলাকায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদে টু শব্দ করলেই চলে রাউন্ডে রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়।
কাঠেরপুল শিল্পাঞ্চলটি মূলত ২টি ইউনিয়নের আওতাধীন যার একাংশ কুতুবপুরের ৯ নাম্বার ওয়ার্ডে অপর অংশটি ফতুল্লা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবী রবিন সোহেল গং এর অস্ত্র ও মাদকের প্রভাবের কারণে তাদের অসহায় সাধারণ বিএনপি নেতাকর্মীরা।
এলাকাবাসী জানান, কুতুব আইল এলাকার সোহেল ও খালিদ হাসান রবিন প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর যাবত অবৈধ অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা করে আসছে। এরমধ্যে ২০২৩ সালের ১৫ আগস্ট বিপুল মাদকসহ রবিন ও তার ৪ সহযোগী জেলা ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। এঘটনার আড়াই মাসের মাথায় আদালত থেকে মাদক মামলায় জামিনে এসে ৫ নভেম্বর ফতুল্লার কুতুবপুরে অবৈধ অস্ত্র বিক্রি করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের হাতে বিদেশী পিস্তল সহ রবিন গ্রেফতার হয়।
একইভাবে আরেক গ্রুপ সোহেল এলাকায় ৩ টি মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণ করেন একটি পরিচালনা করেন তারই সহযোগী কোবরা ইমন, বোল্লা ইমন, সোহাগ এদের নেতৃত্বে ১০০ সিসি ক্যামেরা দিয়ে এলাকায় চলছে মাদকের ভয়াল সিন্ডিকেট ব্যবসা। এলাকাবাসী দ্রুত এই দুই বাহিনীর গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ বরাবর।
একই সাথে এই দুই বাহিনীকে পিছন থেকে ইন্দন দেওয়া সামাজিক সংগঠনের আহ্বায়ক ঝুট বাবা গোলজার, সাবেক ছাত্রদল নেতা ও সংগঠনের সদস্য সচিব ফয়সাল আহম্মেদ শান্ত, বহিস্কৃত বিএনপি নেতা হবুল, সাবেক কৃষকদল নেতা আহাদুর রহমান আহাদ, খান বাহাদুর, মুরাদ, অলি, রুবেল, সালাউদ্দিন রানা, আরিফুর রহমান আরিফসহ আরো একাধিক ব্যক্তি রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে ও প্রশাসনের পদক্ষেপ দাবি রয়েছে এলাকাবাসীর। তারা ইন্দন না দিলেই শান্ত হবে কুতুবআইল, কাঠেরপুল, রামারবাগ, শিবু মার্কেট।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ কাঠেরপুল এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী একাধিক মামলার আসামী পিস্তল রবিন ও ইয়াবা সোহেলকে খুঁজছি, নিয়মিত এলাকায় অভিযান চলছে। কিন্তু তথ্য অনুযায়ী জানতে পারলাম তারা এলাকাই নেই, পলাতক রয়েছে। আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে তাদের উপস্থিতি পেলেই দ্রুত গ্রেফতারের আওতায় আনা হবে।